১১টি কোম্পানির দুধে মাত্রাতিরিক্ত সীসা : নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ

মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০১৯ | ৯:৫৪ অপরাহ্ণ | 498 বার

১১টি কোম্পানির দুধে মাত্রাতিরিক্ত সীসা : নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ
Advertisements

তরল দুধের নমুনায় গ্রহণযোগ্য মাত্রার চেয়ে বেশি সীসার উপস্থিতি রয়েছে ১১টি কোম্পানির পাস্তুরিত দুধে। এ বিষয়ে আদালতে প্রতিবেদন দিয়েছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ।

প্রতিবেদনে বলা হয়, কেবল সীসার উপস্থিতিই নয়, কয়েকটার মধ্যে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর মাত্রার ক্যাডমিয়াম পাওয়া গেছে।

কোম্পানিগুলো হলো- মিল্কভিটা, ডেইরি ফ্রেশ, ইগলু, ফার্ম ফ্রেশ, আফতাব মিল্ক, আল্ট্রা মিল্ক, আড়ং ডেইরি, প্রাণ মিল্ক, আইরান, পিউরা, সেইফ মিল্ক।

মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চে প্রতিবেদন উপস্থাপনের পর এ বিষয়ে কী ব্যবস্থা নিয়েছে তা ২৮ জুলাইয়ের মধ্যে জানাতে বলেছেন।

নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের ওই প্রতিবেদন আদালতে উপস্থাপন করেন আইনজীবী ব্যারিস্টার মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম। বিএসটিআইয়ের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার সরকার এম আর হাসান মামুন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক।

শুনানিতে আদালত নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের আইনজীবীর উদ্দেশ্যে বলেন, দুধ নিয়ে রাজনীতি হচ্ছে কিনা, কোনো রাজনীতি থাকলে আমাদের বলুন। দুধ রাজনীতির বিষয় নয়, জনস্বার্থের বিষয়।

আদালত আরও বলেন, কেউ বলছেন দুধে ক্ষতিকর উপাদান পাওয়া গেছে। আবার কেউ বলছেন ক্ষতিকর উপাদান নেই। আবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক দুধ পরীক্ষার গবেষণার ফল প্রকাশের পর একজন সেক্রেটারি তাকে নিয়ে কথা বললেন। কিন্তু কেন? দুধ নিয়ে কি কোনো রাজনীতি হচ্ছে? তাহলে আমাদের বলুন।

এ আইনজীবী বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা ১৯টি প্যারামিটারে দুধ পরীক্ষা করেছেন। বিএসটিআই ৯টি প্যারামিটারে দুধ পরীক্ষা করেছে। আর আমরা পাঁচটি প্যারামিটারে দুধ পরীক্ষা করেছি।

তখন আদালত বলেন, এসব প্যারামিটারের কথা বলে বাঙালিকে হাইকোর্ট দেখাবেন না। দুধে এরকম ক্ষতিকর উপাদানের বিষয় অন্য দেশে হলে জরিমানা করতে করতে শেষ করে ফেলতো।

নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ এগ্রিকালচারাল রিসার্চ ইনস্টিটিউট, বিসিএসআইআর, প্লাজমা প্লাস, ওয়াফেন রিসার্চ, পারমাণু শক্তি কমিশন ও আইসিডিডিআরবি’র ল্যাবে পাস্তুরিত দুধ, খোলা দুধ ও গোখাদ্য পরীক্ষা করে।

গত ১০ ফেব্রুয়ারি একটি জাতীয় দৈনিকে ‘গাভির দুধ ও দইয়ে অ্যান্টিবায়োটিক, কীটনাশক, সীসা!’ শীর্ষক প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, গাভির দুধে (প্রক্রিয়াজাতকরণ ছাড়া) সহনীয় মাত্রার চেয়ে বেশি কীটনাশক ও নানা ধরনের অ্যান্টিবায়োটিকের উপাদান পাওয়া গেছে। পাওয়া গেছে বিভিন্ন অণুজীবও। একই সঙ্গে প্যাকেটজাত গাভীর দুধেও অ্যান্টিবায়োটিক ও সীসা পাওয়া গেছে মাত্রাতিরিক্ত। বাদ পড়েনি দইও। দুগ্ধজাত এ পণ্যেও মিলেছে সীসা।

সরকারি প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ফুড সেফটি ল্যাবরেটরির (এনএফএসএল) গবেষণায় এসব ফলাফল উঠে এসেছে। সংস্থাটি জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) আর্থিক সহায়তায় গাভির খাবার, দুধ, দই ও প্যাকেটজাত দুধ নিয়ে এ জরিপের কাজ করেছে।

ওই প্রতিবেদন নজরে আসার পর ১১ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট স্বতপ্রণোদিত হয়ে রুলসহ আদেশ দেন। ওই আদেশের ধারাবাহিকতায় নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ এ প্রতিবেদন দাখিল করেন।

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
khojkhobor.net-এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

আইটি সাপোর্ট ও ম্যানেজমেন্টঃ Creators IT Bangladesh