হয়রানী নয় বরং ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা !

বুধবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ১১:৫১ অপরাহ্ণ | 2024 বার

হয়রানী নয় বরং ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা !
Advertisements

পুলিশ ভেরিফিকেশন মানেই ভয় আর আতংক। না জানি, চাকরীটা হবে কিনা। পুলিশই বা কত টাকা ঘুষ চাইবে। এমন দুর্ভাবনা ঘিরে ধরে সরকারি চাকুরী প্রত্যাশীদের। কিন্তু সেই আতংকের জায়গা জয় করেছে পুলিশ। ভেরিফিকেশনে কোনো আতংক বা ঘুষের দুশ্চিন্তা নয়। নয় কোনো হয়রানী। বরং ফুল দিয়ে চাকুরী প্রত্যাশীকে অগ্রীম শুভেচ্ছা আর অভিনন্দন জানিয়েছেন খোদ পুলিশ কর্মকর্তা।

সম্প্রতি এমনই এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগের দেখা মিলেছে পাবনার চাটমোহর সার্কেলের সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার তাপস কুমার পালের কাজে। গত ৩ ও ৪ সেপ্টেম্বর তিনি নিজে ৩৭তম বিসিএস-এ সুপারিশ প্রাপ্তদের বাড়িতে গিয়ে তাদের পুলিশ ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করেন। এরপর তাদের হাতে ফুল তুলে দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন চাটমোহর পৌরসভার মেয়র মির্জা রেজাউল করিম দুলাল, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এস এম নজরুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারন সম্পাদক মাহবুব এলাহি বিশু। ৩৭তম বিসিএস-এ চাটমোহরের ৪ জন, ভাঙ্গুড়ার ২ জন এবং ফরিদপুর থানার ১ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন।

001

৩৭তম বিসিএস এ উত্তীর্ণরা হলেন, চাটমোহর পৌর সদরের ছোট শালিখা মহল্লার রুহুল কুদ্দুস (বিসিএস-হেলথ), আগশোয়াইল গ্রামের এস এম রাসেল ইসলাম নুর (বিসিএস-অ্যাডমিন), ফৈলজানা গ্রামের জালাল উদ্দিন (বিসিএস-অ্যাডমিন), শিতলাই সমাজ বাজার এলাকার আব্দুল জব্বার (বিসিএস-শিক্ষা), ভাঙ্গুড়া পৌর সদরের মামুনুর রশিদ (বিসিএস-ডেন্টাল), ভাঙ্গুড়া ভদ্রপাড়া এলাকার মাসুদ রানা (বিসিএস-ডেন্টাল) এবং ফরিদপুর উপজেলার রামনগর গ্রামের শায়লা শারমিন (বিসিএস-পশুপালন)।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার (চাটমোহর সার্কেল) তাপস কুমার পাল বলেন, পুলিশ ভেরিফিকেশন মানেই তো ছিল ভয়, আতংক বা ঘুষের একটা ব্যাপার। আমি চেয়েছি সেই জায়গা থেকে উত্তোরণ ঘটাতে।

তিনি বলেন, আসলে পুলিশ ভেরিফিকেশন তো এমনই হওয়া উচিত। আমরা চাকুরী প্রত্যাশী ও স্বজনদের আগে থেকেই জানিয়ে তাদের উপস্থিত থাকার কথা বলেছি। তারপর তাদের বাড়িতে গিয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখে ঝামেলা ও হয়রানীমুক্তভাবে ৭ জনের ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করে পাঠিয়েছি।

যেটা নিয়ে অনেক সময় দুশ্চিন্তা থাকে চাকুরী প্রত্যাশীদের। এটা পুলিশকে নিয়ে মানুষের নেতিবাচক চিন্তাকে ইতিবাচক করারও প্রয়াস বলেন তাপস কুমার পাল।

003

পুলিশের এই ব্যতিক্রমী কাজ সম্পর্কে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে এস এম রাসেল ইসলাম নুর (বিসিএস-অ্যাডমিন) বলেন, বিষয়টা হচ্ছে সেবাগ্রহীতা আর সেবাদাতা। সেবাদাতা যদি সেবাটা ভালভাবে দিতে পারেন তাহলে সেবাগ্রহীতা উপকৃত হন।

ঠিক সেভাবে চাটমোহরের সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার যে কাজটি করেছেন তা নি:সন্দেহে ভাল কাজ ও ভাল সেবা। আমিও চেষ্টা করবো মানুষকে ভালভাবে সেবা দিতে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু যে সোনার বাংলার স্বপ্ন দেখতেন, এটা সেই সোনার বাংলা।

002

গতানুগতিক ধারার বাইরে এই উল্টো চিত্র দেখে পুলিশকে সাধুবাদ জানিয়েছে সচেতন মহল। তাদের প্রত্যাশা পুলিশ যদি সবসময় মানুষের কাছে এভাবে বন্ধুত্ব সুলভ আচরণ আর ভালবাসার হাত বাড়িয়ে দেয়, তাহলে অপরাধ প্রবণতা ও পুলিশ ভীতি এবং নেতিবাচক ভাবনা থেকে বেরিয়ে আসবে মানুষ।

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  
khojkhobor.net-এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

আইটি সাপোর্ট ও ম্যানেজমেন্টঃ Creators IT Bangladesh