হাসপাতালের জরুরী বিভাগে সেবা নিয়ে অভিযোগ, নার্সরা ব্যস্ত খোশগল্পে

শনিবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২১ | ৭:২৬ অপরাহ্ণ | 486 বার

হাসপাতালের জরুরী বিভাগে সেবা নিয়ে অভিযোগ, নার্সরা ব্যস্ত খোশগল্পে

পাবনার চাটমোহর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগে কাঙ্খিত চিকিৎসা সেবা মিলছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। যেকোনো জরুরী রোগী গেলেই ঠিকমতো চিকিৎসা না দিয়ে পাবনা অথবা রাজশাহীতে নিয়ে যেতে বলেন কর্তব্যরত চিকিৎসকরা। শুধু তাই নয়, যেসব রোগীকে ভর্তি করা হয়, তাদের দ্রুত শয্যায় নিতে গড়িমসি দেখা যায় কতিপয় নার্সদের। রোগীর দিকে ঠিকমতো নজর না দিয়ে তারা খোশগল্পে বেশি ব্যস্ত থাকেন। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ। অনেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও তাদের ক্ষোভের কথা লিখেছেন।

বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়া রোগীকে ভাল চিকিৎসা পেতে প্রথমেই দ্রুত হাসপাতালের জরুরী বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু বর্তমানে সেখানে কর্মরত চিকিৎসকরা রোগীকে ভালমতো চিকিৎসা দেন না। ঠিকমতো না দেখেই স্বজনদের বলেন, রোগীর অবস্থা ভাল না, এখানে চিকিৎসা হবে না। দ্রুত পাবনা বা রাজশাহী নিয়ে যান। আর যেসব রোগীকে ভর্তি করেন তাদের দ্রুত শয্যায় দিতে নার্সদের অবহেলার শিকার হতে হয়।

চাটমোহর উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের জবেরপুর গ্রামের রেজাউল করিম তার ফেসবুক আইডিতে গত বৃহস্পতিবার (০৯ সেপ্টেম্বর) সকালে পোস্ট লেখেন ‘জবেরপুর গ্রামের আজিজল হককে বুধবার দিবগাত রাত পৌনে ৩টার দিকে হাসপাতালের জরুরী বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাক্তার মাহমুদুল হাসান রোগীকে না দেখে পাবনা সদর হাসপাতালে রেফার্ড করেন। পরে বিষয়টি তিনি হাসপাতালের স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে অবহিত করেন। পরে সেই রোগীতে পাবনায় নিয়ে ভর্তি করা হয়।’

পৌর সদরের নারিকেলপাড়া মহল্লার শিহাব আকরাম বলেন, গত ৩০ জুলাই পায়ের হাঁটু কেটে গিয়ে হাড়ে আঘাত লেগেছিল। সেলাই করে প্লাস্টার করে দেবার মতো। কিন্তু হাসপাতালের জরুরী বিভাগে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রথমে প্রাথমিক কোনো চিকিৎসা না দিয়ে দেখেই বলে দেন পাবনায় চলে যান। এখানে হবে না। পরে টিএইচ সাহেবকে ফোন করে বলে দেবার পর তিনি আমার চিকিৎসা করান। এখন আমি প্রায় সুস্থ্য।

বাহাদুরপুর গ্রামের মঞ্জু হোসেন বলেন, সম্প্রতি তিনি তার বাবার হার্টের সমস্যা হওয়ায় হাসপাতালের জরুরী বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত দুইজন চিকিৎসক ঠিকমতো না দেখে, শুনেই বলে দেন পাবনা বা রাজশাহীতে নিয়ে যান। এখানে ভাল চিকিৎসা হবে না। তারপরও চাপাচাপিতে হাসপাতালে ভর্তি করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। ভর্তির কাগজ নিয়ে উপরে গেলে কিছু নার্স রোগীকে বেডে নিতে বিলম্ব করেন। তারা খোশগল্পে বেশি ব্যস্ত থাকেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন বলেন, তার মাথায় আঘাত লেগে ফুলে উঠেছিল। হাসপাতালের জরুরী বিভাগে গেলে কোনো চিকিৎসা না দিয়ে বলেন পাবনায় যান। অথচ তেমন বড় ধরনের আঘাত ছিল না। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা পেলে সুস্থ্য হতাম। পরে বাইরে থেকে ডাক্তার দেখিয়ে আমি সুস্থ্য।

অভিযুক্ত চিকিৎসকদের একজন ডাক্তার মাহমুদুল হাসান বলেন, অভিযোগ সত্য নয়। আমরা চেষ্টা করি সাধ্যের মধ্যে চিকিৎসাসেবা দেয়ার। কোনো রোগী বেশি খারাপ অবস্থা থাকলে তাকে রেফার্ড করি। তাছাড়া প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে আমাদের অনীহা নেই। কেউ যদি মনে করে তার রোগীকে চিকিৎসা দেইনি। তাহলে তিনি স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিতে পারেন। আমি সেখানে জবাব দেবো।

হাসপাতালের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার ওমর ফারুক বুলবুল বলেন, একজন ভুক্তভোগী আসছিলেন। তাকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছি। যারাই চিকিৎসাসেবা নিতে এসে হয়রানী বা ভুক্তভোগী হলে তাদের বলবো, আপনারা কোন চিকিৎসকের দ্বারা হয়রানী হয়েছে তাদের নাম পদবী উল্লেখ করে লিখিত অভিযোগ দিলে আমরা ব্যবস্থা নেবো।

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০  
khojkhobor.net-এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

আইটি সাপোর্ট ও ম্যানেজমেন্টঃ Creators IT Bangladesh

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্টঃ WebNewsDesign