‘হাঁস এনেছে হিরোর মুখে হাসি’

সোমবার, ২৭ আগস্ট ২০১৮ | ৯:১২ অপরাহ্ণ | 927 বার

‘হাঁস এনেছে হিরোর মুখে হাসি’
Advertisements

পাবনা চাটমোহরের আড়িংগাইল গ্রামের তাইজুল ইসলামের ছেলে আবু বিন হিরো ‘বেইজিং হাঁস’ (পেকিং ডাক) পালন এবং পাশাপাশি মাছ চাষ করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। তার খামারেই ডিম থেকে ফুটছে বাচ্চা। মাংস ও ডিম যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। হাঁস এনেছে হিরোর মুখে হাসি।

১৮০টি বাচ্চা দিয়ে শুরু করা খামারে এখন এক হাজারেরও অধিক হাঁস রয়েছে। শুধু তাই নয় হাঁসের পাশাপাশি পুকুরে হচ্ছে মাছ চাষ। এক সময় বহুজাতিক কোম্পানীতে কাজ করা আবু বিন হিরো এখন নিজেই স্বাবলম্বী। চাটমোহরের যুবসমাজের কাছে সত্যিকারের ‘হিরো’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন তিনি।

অনেক বেকার যুবক তার খামার থেকে বাচ্চা সংগ্রহ করে হাঁস পালন করছেন। চাটমোহরে প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে গড়ে উঠছে বেশ কিছু বেইজিং হাঁসের খামার। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পাইকাররা প্রতিদিন বাচ্চা ও ডিম সংগ্রহ করে নিয়ে যাচ্ছেন আবু বিন হিরোর খামার থেকে।

Abu Bin Hero Photo

আবু বিন হিরো জানান, ২০০৪ সালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম কম পাস করার পর একটি বহুজাতিক কোম্পানিতে চাকরি জীবন শুরু করেন। চাকরিরত অবস্থায় স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি থেকে এমবিএ পাস করে একটি বহুজাতিক কোম্পানিতে চাকরি জীবন শুরু। এরপর বিয়ে করে ঢাকায় বসবাস শুরু করেন।

২০০৮ সালে তার কোম্পানির পক্ষ থেকে সস্ত্রীক থাইল্যান্ড সফরে গিয়ে স্থানীয় এক হোটেলে খাবার সময় ভাতের সঙ্গে খেতে দেয়া হয় হাঁসের মাংস। সুস্বাদু হওয়ায় হোটেল মালিককে মাংসের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে তিনি ‘বেইজিং হাঁস’ এর মাংসের কথা জানান। ‘বেইজিং হাঁস’ এর কথা শুনে কৌতূহলবশত হোটেল মালিককে সঙ্গে করে স্থানীয় এক হাঁসের খামারে যান আবু বিন হিরো।

Chatmohor Duck Hero-02

এরপর সেখান থেকেই ‘বেইজিং হাঁস’ পালনের চিন্তা আসে। দেশে ফিরে দেশের বিভিন্ন হ্যাচারিতে হন্যে হয়ে খুঁজতে থাকেন বেইজিং হাঁসের বাচ্চা। কোথাও না পেয়ে অবশেষে ২০১৬ সালের আগস্ট মাসে প্রাণিসস্পদ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা আবদুল হামিদের ব্যক্তিগত তত্ত্বাবধানে ১৮০টি বেইজিং হাঁসের বাচ্চা সংগ্রহ করে গ্রামের বাড়িতে প্রতিপালন শুরু করেন। খামারের নাম দেন ‘ইউনিডস এগ্রো’।  দুই বছরে এখন তার হাঁসের খামারে এক হাজারেরও বেশি হাঁস রয়েছে।

তিনি আরও জানান, খামারে গড়ে প্রতিদিন ৭০০ থেকে ৮০০ ডিম পাওয়া যায়। এছাড়া তুষ পদ্ধতিতে হারিকেনের আলোর উত্তাপে প্রতি পাঁচ দিন পরপর দুই হাজার করে বাচ্চা ফোটানো হচ্ছে। মাসে প্রায় ১০ হাজার বাচ্চা উৎপাদন হয়। প্রতিটি একদিনের বাচ্চা পাইকারি ৭০ টাকা করে বিক্রি হয়। প্রতি মাসে গড়ে ৭ লাখ টাকার বাচ্চা বিক্রি হয়।

Chatmohor Duck Hero-01

পাশাপাশি স্থানীয় বাজারে ডিমের চাহিদাও পূরণ করেছে বেইজিং হাঁসের ডিম। এছাড়া খামারের পুকুরে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ করে বছরে অন্তত ছয় লাখ টাকার মাছ বিক্রি করা হয়। তার হাঁসের খামারে কর্মসংস্থান হয়েছে একজন নারীসহ ছয় জনের।

চাটমোহর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. রোকনুজ্জামান বলেন, আবু বিন হিরো নামের ওই ব্যক্তির খামার পরিদর্শক করা হয়েছে। তাকে উপজেলা প্রাণী সম্পদ কার্যালয়ের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা করা হচ্ছে।

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
khojkhobor.net-এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

আইটি সাপোর্ট ও ম্যানেজমেন্টঃ Creators IT Bangladesh