‘স্বর্ণ নীতিমালা’ আজ মন্ত্রিসভায় উঠছে

বুধবার, ০৩ অক্টোবর ২০১৮ | ১২:১০ পূর্বাহ্ণ | 502 বার

‘স্বর্ণ নীতিমালা’ আজ মন্ত্রিসভায় উঠছে
প্রতিকী ছবি
Advertisements

আজ বুধবার (৩ অক্টোবর) মন্ত্রিসভায় উঠছে স্বর্ণ নীতিমালা। একইসঙ্গে উপস্থাপন করা হবে অনুমোদন না পাওয়া ১৯৯৬ সালে তৈরি করা এ সংক্রান্ত খসড়া নীতিমালাও।

এদিন, সকাল ১০টায় মন্ত্রিসভার বৈঠক বসবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে। প্রধানমন্ত্রীর আগ্রহেই এটি উপস্থাপন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র।

সূত্র জানায়, অনুমোদনের জন্য উপস্থাপনের অপেক্ষায় থাকা নীতিমালাটি স্বর্ণ আমদানির নীতি সহজ করা হচ্ছে। যদিও ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এমন আভাস দিয়েছিলেন।

তিনি বলেছেন, ‘জুয়েলারি শিল্পকে ব্যবসাবান্ধব করতে স্বর্ণ আমদানির জন্য সময়োচিত ও বাস্তবসম্মত একটি নীতিমালা প্রণয়নের কাজ করবো। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে স্বর্ণ আমদানি ও জুয়েলারি শিল্পের জন্য একটি যুগোপযোগী নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে। এ বছরেই এ কাজটি শেষ করা হবে।’ অর্থমন্ত্রী তার কথা রেখেছেন।

উল্লেখ্য, এই বছরের ২৫ মে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে দেশে একটি যুগোপযোগী ও ব্যবসাবান্ধব স্বর্ণ আমদানি নীতিমালা করার দাবি জানিয়েছিল।

এর আগে ২০১৮ সালের ২৩ মে ‘স্বর্ণ নীতিমালা-২০১৮’ অনুমোদন দেয় সরকারের অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। মন্ত্রিপরিষদের অনুমোদন পেলে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে আমদানির লাইসেন্স নিয়ে স্বর্ণ আমদানি করা যাবে বলে জানিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোস্তাফিজুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘দেশের চাহিদা মিটিয়ে স্বর্ণকে বাণিজ্যিক নিয়মের আওতায় আনতেই এ নীতিমালা করা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘‘স্বর্ণ আমদানির পর ‘ভ্যালু অ্যাড করে’ আবার তা রফতানির সুযোগ রয়েছে এই নীতিমালায়।’’

নীতিমালা সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বলেছেন, ‘এতদিন স্বর্ণ আমদানি হতো না, সব স্মাগলিং হতো। নীতিমালা অনুমোদন পেলে এখন আমদানি করা যাবে। দেশে এর আগে কোনোদিন স্বর্ণ আমদানি হয়নি।’

জানা গেছে, নীতিমালাটির ব্যাপারে এখন মন্ত্রিসভায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। নীতিমালা পাস হলে স্বর্ণ আমদানির লাইসেন্স নিতে হবে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে। স্বর্ণ বেচাকেনার জন্য একটি রেগুলেটরি ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি হচ্ছে। এই রেগুলেটরি ফ্রেমওয়ার্কের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, বাংলাদেশ ব্যাংক ডিলার নিয়োগ দেবে, যাদের মাধ্যমে স্বর্ণ আমদানি করা হবে।

সূত্র জানায়, এর আগে দেশে কখনোই স্বর্ণ আমদানি করা হতো না। বরাবরই দেশে স্বর্ণ চোরাচালান হতো। এখন বৈধপথে স্বর্ণ আমদানি করা হবে। একইসঙ্গে প্রয়োজন ও সুযোগ এলে বাংলাদেশ স্বর্ণ রফতানিও করবে—এমন বিধান রেখেই তৈরি করা হচ্ছে, ‘স্বর্ণ নীতিমালা-২০১৮’।

তবে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে অনুমোদিত স্বর্ণ নীতিমালায় স্বর্ণ শিল্পকে সুষ্ঠুভাবে ও অধিকতর স্বচ্ছতার সঙ্গে পরিচালনায় করণীয় সুনির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছিল, যাতে ভোক্তাস্বার্থ ও মানরক্ষার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখন সেসব ক্ষেত্রে কিছুটা পরিবর্তন হলেও হতে পারে।

জানা গেছে, গত ২৩ মে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে অনুমোদন পাওয়া স্বর্ণ নীতিমালায় বলা হয়েছে এই নীতিমালাটি জারি হওয়ার পরবর্তী ছয় মাসের মধ্যে সরকারি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে স্বর্ণ শিল্পের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে বাধ্যতামূলক (মূল্য সংযোজন কর) মূসক নিবন্ধন সনদ নিতে হবে।

একইসঙ্গে মজুদ স্বর্ণালঙ্কারের সুনির্দিষ্ট ঘোষণাও প্রতিষ্ঠানকে দিতে হবে। পাশাপাশি দেশে বৈধ স্বর্ণের ঘাটতি দূর করতে ব্যাংকের মাধ্যমে স্বর্ণ আমদানির সুযোগ, আমদানিতে বন্ড সুবিধা দেওয়া,  রফতানি বিকাশের সুযোগও থাকবে।

সুত্র জানায়, দেশে স্বর্ণ শিল্পের প্রতিবন্ধকতা দূর ও সুষ্ঠু বিকাশে অনুমোদিত নীতিমালায় প্রাথমিকভাবে দু’টি বাণিজ্যিক ব্যাংককে স্বর্ণ আমদানির জন্য অনুমোদিত ডিলার ব্যাংক হিসেবে মনোনীত করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। পরে সাফল্য বিবেচনায় আগ্রহী অন্য ব্যাংককেও এ সুযোগ দেওয়া হবে।

এক্ষেত্রে ব্যাংক থেকে স্বর্ণ ক্রেতা ব্যবসায়ীদের ‘গোল্ড প্রকিউরমেন্ট স্টোরেজ অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন অর্ডার ১৯৮৭’-এর আওতায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে লাইসেন্স নিতে হবে। পাশাপাশি তাদের সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িক সংগঠনেরও বৈধ সদস্য থাকতে হবে।

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
khojkhobor.net-এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

আইটি সাপোর্ট ও ম্যানেজমেন্টঃ Creators IT Bangladesh