খোঁজ খবর ডট নেটে সংবাদ প্রকাশ

সেই মিতুর দায়িত্ব নিলেন ইউএনও

মঙ্গলবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ | ১১:৫৬ অপরাহ্ণ | 733 বার

সেই মিতুর দায়িত্ব নিলেন ইউএনও
মিতুর বাড়িতে চাটমোহরের ইউএনও সরকার অসীম কুমার, ইউপি চেয়ারম্যান মকবুল হোসেন, শিল্পকলার অংকন শিক্ষক মানিক কুমার দাস। পাশে দাঁড়ানো সেই মিতু।

খোঁজ খবর ডট নেট-এ খবর প্রকাশের পর পাবনার চাটমোহরের সেই বাকপ্রতিবন্ধী মিতু রানী দাসের পড়াশোনা ও অংকন শেখার দায়িত্ব নিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সরকার অসীম কুমার। মঙ্গলবার সকালে উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের ধূলাউড়ি ঘোষপাড়া গ্রামে মিতু রানীর বাড়িতে গিয়ে আর্ট পেপারে বিভিন্ন ছবি আঁকানো দেখে আপ্লুত হন ইউএনও। শুধু তাই নয়, মিতুকে অতি সম্প্রতি একটি ভাতার কার্ড করে দেওয়ার আশ্বাসও দেন তিনি।

এ সময় ইউপি চেয়ারম্যান মো. মকবুল হোসেন, চাটমোহর শিল্পকলা এ্যাকাডেমির অংকন শিক্ষক মানিক কুমার দাসসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন। এরআগে ‘বাকপ্রতিবন্ধী মিতুর আঁকানো ছবি কথা বলে!’ শিরোনামে গত ১৫ ফেব্রুয়ারী (শুক্রবার) খোঁজ খবর ডট নেট-এ একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়।

ইউএনও সরকার অসীম কুমার বলেন, ‘খবরটি দেখার পর থেকেই বাকপ্রতিবন্ধী মিতুর বাড়িতে যাওয়ার জন্য উদগ্রিব ছিলাম। মিতুর চিত্রকর্ম সত্যিই আমাকে মুগ্ধ করেছে। তার জন্য ভাতার কার্ড করে দেয়ার পাশাপাশি, মিতুর সুপ্তপ্রতিভা বিকশিত করতে এবং তার পড়াশোনায় যেন কোন ব্যাঘাত না হয় এ জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।’

উল্লেখ্য, বাকপ্রতিবন্ধী মিতু রানী দাসের কখনও শেখা হয়নি অংকন শিক্ষা। দেখে বোঝার উপায় নেই শুধুমাত্র চোখের দেখায় প্রতিনিয়ত এঁকে চলেছে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সজীব ওয়াজেদ জয়সহ নানা গুণীজনের ছবি। যা দেখে অবাক হয়েছেন অনেকেই।

পাবনার চাটমোহর উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের ধূলাউড়ি ঘোষপাড়া গ্রামের দরিদ্র কৃষক কুটিশ্বর ও গৃহিণী সুমিত্রা রানী দাস দম্পতির ছোট মেয়ে মিতু। গত বছর এসএসসি পরীক্ষায় আইসিটি বিষয়ে অকৃতকার্য হয় মিতু। সেই অকৃতকার্য হওয়া বিষয়ে চলতি বছরে আবারও পরীক্ষা দেয় সে। তবে অসাধারণ প্রতিভাবান ও মেধাবী এই তরুণীর ভাগ্যে জোটেনি কোনো ভাতা! সংসারে অভাব থাকলেও মেয়ের এমন আগ্রহ ও প্রতিভা দেখে বাধা হয়ে দাঁড়াননি বাবা-মা।

চার ভাইবোনের মধ্যে সবার ছোট মিতু। বড় বোন রেপা রানী দাসও বাকপ্রতিবন্ধী। অনেক কষ্টে তার বিয়ে দিয়েছেন বাবা-মা। মেজ বোন রিতা মাস্টার্স পাস করার পর বিয়ে হয়। বড় ভাই রিপন কুমার দাস ঢাকার একটি কলেজে পড়াশোনা করে। দারিদ্রতার কশাঘাতে জর্জরিত কুটিশ্বর দাস শত কষ্টের মাঝেও মিতুকে উৎসাহ দিয়ে গেছেন।

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০  
khojkhobor.net-এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

আইটি সাপোর্ট ও ম্যানেজমেন্টঃ Creators IT Bangladesh

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্টঃ WebNewsDesign