‘ভিক্ষা করি জানলে ছেলে-মেয়ে কষ্ট পাবে’

শ্রমিক থেকে ভিক্ষুক সাহেব আলী!

শনিবার, ০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ | ১২:২৬ পূর্বাহ্ণ | 935 বার

শ্রমিক থেকে ভিক্ষুক সাহেব আলী!
এভাবেই প্রতিদিন সকালে থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রাস্তায় হেঁটে হেঁটে ভিক্ষা করেন সাহেব আলী (বামে উপরের অংশে তার পোড়া পা)
Advertisements

জন্মের পর বাবা-মা তাদের ছেলের নাম রেখেছিলেন সাহেব আলী। তাদের আশা ছিল ছেলে বড় হয়ে পড়াশোনা শিখবে। ‘সাহেব’ হয়ে চাকরি করে সংসারের অভাব ঘোচাবে। তবে অর্থাভাবে পড়াশোনা হয়নি সাহেব আলীর। কিশোর বয়সে বাবা আলিমুদ্দিন প্রামানিক মারা যাওয়ার পর সংসারের হাল ধরতে হয় তাকে।

চাতাল শ্রমিকের কাজ করে চালাতেন সংসার। ভাগ্যের নির্মম পরিহাস; সেই সাহেব আলী শ্রমিক থেকে এখন ভিক্ষুক! দ্বারে দ্বারে ভিক্ষা করে সে মা জয়তুন খাতুন, স্ত্রী রমেছা খাতুন ও দুই সন্তান সোহাগ-সাথীর মুখে অন্ন তুলে দেন।

পাবনার চাটমোহর উপজেলার নিমাইচড়া ইউনিয়নের ধানকুনিয়া উত্তরপাড়া গ্রামে তার বাড়ি। একটি দূর্ঘটনার কবলে পড়ে সাহেব আলীকে হতে হয়েছে পঙ্গু! বাধ্য হয়ে শুরু করেন ভিক্ষা বৃত্তি!

সাহেব আলীর সাথে কথা বলে জানা গেল তার ভিক্ষুক হওয়ার কাহিনী। এলাকায় কৃষি কাজ করে যা আয় হতো সেই টাকা দিয়ে সংসার চলতো না তার। সংসারে জেঁকে বসে অভাব-অনটন। একটু বেশি আয়ের আশায় প্রতিবেশী কয়েকজন যুবকের সাথে ঈশ্বরদীতে একটি ধানের চালাতে শ্রমিকের কাজ নেন। প্রায় ৮ বছর আগের ঘটনা।

সেদিন দিনের আলো তখন নিভু নিভু করছে। চাতালের পাশে ছাইয়ের স্তুপে আগুন ফেলতে গিয়ে পা পিছলে পড়ে যান সাহেব আলী। তুষের আগুনে দুই পায়ের বেশির ভাগ অংশ পুড়ে যায়। পরে গুরুতর আহতবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে। চিকিৎসার পর ডান পায়ের ক্ষত শুকালেও বাম পায়ে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়। ফিরে আসেন বাড়িতে।

গরু-ছাগল বিক্রি ও ধারদেনা করে করে দীর্ঘ দুই বছর চিকিৎসা করান। কিন্তু পুরোপুরি সুস্থ হয়না সে। বাম পায়ের হাঁটুর নিচে চামড়া জোড়া লেগে যায়। হয়ে পড়েন পঙ্গু! উপায়োন্তর না পেয়ে শুরু করেন ভিক্ষা বৃত্তি। তবে ভিক্ষা করতে লজ্জা পান তিনি।

অশ্রুসিক্ত নয়নে সাহেব আলী এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘ছেলে-মেয়ে স্কুলে পড়াশোনা করে। তাদের সহপাঠীরা জানলে হয়তো বলবে ‘ভিক্ষুকের ছেলে’! ছেলে-মেয়ে যেন জানতে না পারে সেজন্য খুব ভোরে বাড়ি থেকে বের হই, ফিরি অনেক রাতে। কারণ আমি ভিক্ষা করি জানলে তারা কষ্ট পাবে। বাড়িটুকু ছাড়া আমার কিছুই সম্বল নেই। ভিক্ষা করতে আমি চাই না। সরকারি সহযোগিতা পেলে আমি ব্যবসা করে সংসার চালাতে পারতাম।’

সহযোগিতার ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সরকার অসীম কুমার বলেন, ‘খেটে খাওয়া সুস্থ মানুষ থেকে পঙ্গু হওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত কষ্টের। খোঁজ খবর নিয়ে উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে তাকে (সাহেব আলী) পুর্নবাসনের ব্যবস্থা করা হবে।’

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  
khojkhobor.net-এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

আইটি সাপোর্ট ও ম্যানেজমেন্টঃ Creators IT Bangladesh