লক্ষ্মী মিষ্টান্ন ভাণ্ডার : প্রগতিশীল আন্দোলনের সাক্ষী

শুক্রবার, ২১ জুন ২০১৯ | ৪:৩৪ অপরাহ্ণ | 1381 বার

লক্ষ্মী মিষ্টান্ন ভাণ্ডার : প্রগতিশীল আন্দোলনের সাক্ষী
লক্ষ্মী মিষ্টান্ন ভাণ্ডার, পাবনা। ছবি : লেখক

লক্ষ্মী মিষ্টান্ন ভাণ্ডার পাবনার একটি প্রসিদ্ধ মিষ্টান্ন ভান্ডারই নয় স্বাধীনতা পূর্ববর্তী ও পরবর্তী পাবনার আনেক প্রগতিশীল আন্দোলনের সাক্ষী।

এর প্রতিষ্ঠতা ছিলেন স্বর্গীয় লক্ষ্মী নারায়ণ ঘোষ। তিনি ছিলেন ছয় সন্তানের বাবা। নিমাই দা, নিলু, ভোলা, কেরু, সাবেক ছাএলীগ নেতা বাদল একসময় পাবনার বিশিষ্ট ক্রীড়াবিদ ও পাবনা এডওয়ার্ড কলেজ ছাএ সংসদে ছাএলীগ থেকে মনোনীত নির্বাচিত ক্রীড়া সম্পাদক ও গোবিন্দ।

আমি ১৯৬৭ সালে ছাত্র রাজনীতিতে যোগদান করি সেই সময় থেকেই আমি তাঁদেরকে চিনি বা জানি।

স্বাধীনতা পূর্ববর্তী এবং পরবর্তিী আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ সহ আওয়ামী লীগের সকল অঙ্গ সংগঠনের ভাড়া আফিস ছিল আব্দুল হামিদ রোড়ে সোনালী ব্যাঙ্কের পাশের দোতলায়।

সেই সুত্রে সকল আওয়ামীলীগ সহ সকল প্রগতিশীল রাজনৈতিক নেতাদের ছিল লক্ষ্মী মিষ্টান্ন ভান্ডারে অবাধ যাতায়াত আর স্বর্গীয় নিমাই দা ছিল আমাদের সবার প্রিয়।

স্বাধীনতার পূর্ববর্তী লক্ষ্মী মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের মিষ্টি বানানোর কারখানা ছিল বর্তমান দোকানের পিছনে আর নিমাই দা সারারাত জেগে তা তদারকি করতেন। তিনি সবমময় সন্ধ্যায় দোকানে আসতেন।

সেখানে সন্ধ্যায় প্রতিদিন চায়ের আড্ডা ও বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন সম্পর্কে আলোচনা করতে আসতেন স্বর্গীয় কমরেড় প্রসাদ রায়, ন্যাপ নেতা মরহুম আমিনুল ইসলাম বাদশা, সাংবাদিক মরহুম আনোয়ারুল ইসলাম, একুশে পদক প্রাপ্ত শ্রী রনেশ মৈত্র সহ আরও অনেক নেতৃবৃন্দ।

যেহেতু তৎকালীন আওয়ামী লীগের অফিস ছিল সামনেই, সেইহেতু তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতা শহীদ এম, মনসুর আলী চাচা, মরহুম আমজাদ হোসেন চাচা, মরহুম বগা মিয়া চাচারও সেখানে ছিল অবাধ যাতায়াত। সেখানে তাঁরা আনেক সময় পাক বিরোধী আন্দোলনের কর্মসূচি নিয়েও আলোচনা করতেন অন্যান্য নেতৃবৃন্দের সঙ্গে।

স্বাধীনতা পরবর্তী নাছিম ভাই, বকুল ভাই, চুপ্পু, মন্টু, আমি পাকন, লাল সহ সকল নেতৃবৃন্দের মিলনস্থলও ছিল সেখানে।

আমাদের সবার জন্য সন্ধ্যায় প্রস্তুত থাকতো দোকানে বাইরে চেয়ার। পাক বিরোধী আন্দোলনকে গতিময় করার জন্য পোষ্টারিং করা ছিল তৎকালীন কর্মসূচির একটি উল্লেখযোগ্য হাতিয়ার আর এগুলি লেখার মূল দায়িত্বে, থাকতো মরহুম লালু ভাইয়ের ছোট ভাই উজ্বল ভাই।

আর সেগুলি লাগানো দায়িত্ব ছিল আমাদের। আমরা সচারাচর সেগুলি লাগাতাম রাত্রে। সেগুলো লাগানো জন্য আঠা প্রস্তুত,মই সহ আনুষাঙ্গিক আয়োজনের দায়িত্ব পালন করতেন স্বর্গীয় নিমাইদা এবং আমরা যখন এগুলো লাগাতাম তখন স্বর্গীয় নিমাই দা সব সময় আমাদের সঙ্গে থাকতেন।

কেননা তিনি রাতে সবসময় টর্চ লাইট ব্যবহার করতেন আর সেই আলোতে আমরা কাজ করতাম। এখানে উল্লেখ্য জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাবনাতে যতবার এসেছেন, তাঁকে লক্ষ্মী মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের মিষ্টি দিয়ে মিষ্টিমুখ করানো হয় নাই, এমন নজির নাই।

(লেখক : মুক্তিযোদ্ধা ও রাজনীতিবিদ)

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১  
khojkhobor.net-এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

আইটি সাপোর্ট ও ম্যানেজমেন্টঃ Creators IT Bangladesh

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্টঃ WebNewsDesign