রাস্তা না থাকায় কাজে আসছে না ১৬ লাখ টাকার সেতু !

শনিবার, ০৬ অক্টোবর ২০১৮ | ১০:০৩ পূর্বাহ্ণ | 757 বার

রাস্তা না থাকায় কাজে আসছে না ১৬ লাখ টাকার সেতু !
Advertisements

রাস্তা নাই, অথচ সেতু আছে। ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মাণ হলেও উভয় পাশে সংযোগ সড়কের অভাবে এলাকাবাসীর কোনো কাজেই আসছে না সেতুটি।

এমনই একটি সেতুর দেখা মিলেছে পাবনার ফরিদপুর উপজেলার বেড়হাউলিয়া গ্রামে একটি খালের ভেতরে। এতে ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা। তবে উপজেলা প্রশাসনের দাবি, সংযোগ সড়কের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে।

দুুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর নিয়ন্ত্রণাধীন সেতু-কালভার্ট নির্মাণ কর্মসূচির অর্থায়নে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে এ সেতু নির্মাণ করা হয়।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে উপজেলার ফরিদপুর ইউনিয়নের বেড়হাউলিয়া গ্রামের পশ্চিমপাড়া মরগাঙ্গ নামের একটি খালের ভেতরে ২০ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি সেতু নির্মাণের প্রকল্প দাখিল করেন ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান।

সে সময় প্রস্তাবিত স্থানের আশেপাশে কোনো সড়ক না থাকায় প্রকল্পটি পাস করতে তৎকালীন পিআইও হায়দার আলী আপত্তি জানান। কিন্তু পরে রাজনৈতিক চাপে তিনি প্রকল্পটি পাস করতে বাধ্য হন।

পাবনার মেসার্স আখতারুল ইসলাম মধু নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ১৫ লাখ ৯১ হাজার ৭৭৮ টাকা চুক্তি মূল্যে সেতুটি নির্মাণ করে। নির্মাণকাজ ১৫ মাস আগে শেষ হলেও সেতুর দুই পাশের আধা কিলোমিটার করে সংযোগ সড়ক নির্মাণে কোনো প্রকল্প হাতে নেয়নি সংশ্লিষ্টরা।

এমনকি ঠিকাদারও চুক্তি অনুযায়ী দুই পাশে ২০ ফুট করে মাটি ভরাটের কাজ করেননি। এতে গ্রীষ্ম-বর্ষা কোনো ঋতুতেই সেতুটি গ্রামবাসী ব্যবহার করতে পারছে না।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সেতুর দুই পাশে ১০-১২ ফুট গভীর গর্তে পানি আর কচুরিপানায় ভরে আছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, গ্রামের চরপাড়া সড়ক থেকে ঈদগাহ মাঠ পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণ না করে খালের ভেতরে সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে। তাই এটি তাদের কোনো কাজে আসছে না।

সেতুর পশ্চিমপারের বাসিন্দা নুরুল ইসলাম ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, ‘এত টাহা খরচ কইরা ব্রিজ দিয়া লাভ কী হইছে। সড়ক নাই দেইহ্যা খাড়া ব্রিজে তো উঠবেরই পারি না। আমরা তো এহনো বাঁশের সাঁহো দিয়া পার হই।’

এ ব্যাপারে ফরিদপুর ইউপি চেয়ারম্যান সরোয়ার হোসেন বলেন, ‘সেতু নির্মাণের পর থেকেই সংযোগ সড়ক নির্মাণের চেষ্টা চালাচ্ছি। আশা করছি, চলতি অর্থবছরে এলজিইডির মাধ্যমে উভয় পাশে সড়ক নির্মাণ হয়ে যাবে।’

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শামীম এহসান বলেন, ‘ইউপি চেয়ারম্যান দ্রুত রাস্তা নির্মাণ করবেন শর্তে সে সময় সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণ করা হয়নি।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তোফায়েল হোসেন বলেন, ‘মাটির কাজ শেষ না করায় ঠিকাদারকে সম্পূর্ণ বিল দেওয়া হয়নি। সংযোগ সড়কের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।’

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  
khojkhobor.net-এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

আইটি সাপোর্ট ও ম্যানেজমেন্টঃ Creators IT Bangladesh