রাস্তা ও সেতুর অভাবে দুর্ভোগে ৫ গ্রামের মানুষ !

বৃহস্পতিবার, ১০ জানুয়ারি ২০১৯ | ১০:০৫ অপরাহ্ণ | 969 বার

রাস্তা ও সেতুর অভাবে দুর্ভোগে ৫ গ্রামের মানুষ !
সাঁকো দিয়ে পারপার হচ্ছে শিশুসহ স্থানীয়রা।
Advertisements

পাবনার চাটমোহর উপজেলা সদর থেকে ১০ কিলোমিটার দুরে নিমাইচড়া ইউনিয়নের একটি গ্রামের নাম ‘পার নিমাইচড়া’। নিমাইচড়া বাজার থেকে পূর্বদিকে করতোয়া নদীর পাড় দিয়ে একটি চিকন কাচা রাস্তা নেমে গেছে পার নিমাইচড়া গ্রামে।

পাঁয়ে হাটা পথ চলে গেছে এঁকেবেঁকে জঙ্গলের ভেতর দিয়ে, দেখে বোঝার উপায় নেই যে এটি গ্রামে যাতায়াতের একমাত্র রাস্তা। রাস্তা শেষে গ্রামের আরেক অংশে যেতে মাঝখানে নদী পার হতে হয় একটি নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো।

এভাবেই রাস্তা ও একটি সেতুর অভাবে দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন ওই এলাকার পাঁচটি গ্রামের প্রায় পনের হাজার মানুষ।

বছরের বেশিরভাগ সময় ওই এলাকায় জমে থাকে পানি। একমাত্র ভরসা নিজেদের তৈরি বাঁশের সাঁকো। সেই বাঁশের সাঁকো দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করছেন অসংখ্য মানুষ। প্রায়ই ঘটছে দূর্ঘটনা। আশেপাশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত কোমলতী শিক্ষার্থীরা পড়েছে বিপাকে।

মাটির সরু রাস্তা দিয়ে পাঁয়ে হেঁটে যাতায়াত করা গেলেও, সেতু না থাকায় দীর্ঘদিন দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন তারা। সবচেয়ে বেশি বিড়ম্বনায় পড়তে হয় যখন কেউ মারা যান। তার মরদেহ দাফন করতে নদীতে নৌকায় করে পার করে নিয়ে যেতে হয়।

সোমবার (০৭ জানুয়ারি) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নিমাইচড়া বাজার পাশে পার নিমাইচড়া, মাঝগ্রাম, খন্দবাড়িয়া, শিবরামপুর ও শীতলাই গ্রামের মানুষ ওই রাস্তা ও বাঁশের তৈরি ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো দিয়ে যাতায়াত করছেন। করতোয়া নদীর পাড় দিয়ে যাতায়াতের জন্য সরকারি রাস্তা থাকলেও দখলদাররা রাস্তা দখল করে বানিয়েছেন ঘরবাড়ি। ভাঙনে অনেকটাই চলে গেছে নদী গর্ভে। ফলে হারিয়ে গেছে রাস্তা।

Pabna Rasta Sako-1

তাই বাধ্য হয়ে নদীর পাড় দিয়ে চিকন রাস্তায় যাতায়াত করছে এলাকাবাসী। আর নদী পারাপারের জন্য গ্রামবাসীরা মিলে তৈরি করেছেন একটি বাঁশের সাঁকো। কোমলমতী শিশু থেকে শুরু করে নানা বয়সের শিক্ষার্থীরা হাতে বই নিয়ে প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো পার হয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করে।

বেশিরভাগ অভিভাবকরা সন্তানদের স্কুলে পাঠিয়ে দূর্ঘটনা ঘটার ভয়ে থাকেন। সোমবার সনেকা খাতুন নামে এক গৃহবধূ ওই বাঁশের সাঁকো দিয়ে পার হতে গিয়ে পানিতে পড়ে যান। দীর্ঘদিন ধরে এমন দুর্ভোগ চলে আসলেও এ ব্যাপারে কারো কোন মাথা ব্যাথা নেই।

পার নিমাইচড়া গ্রামের সাদ্দাম হোসেন, আফজাল হোসেন, সনেকা খাতুনসহ বেশ কয়েকজন জানান, প্রতিবছর ভোটের সময় এলেই নেতারা রাস্তা ও সেতু তৈরির আশ্বাস দেন কিন্তু পরে আমাদের দুর্ভোগের কথা কেউ মনে রাখে না। গ্রামের কোন মানুষ মারা গেলে মরদেহ দাফন করা যায় না। নৌকায় করে অন্য গ্রামে গিয়ে মরদেহ দাফন করতে হয়। বাচ্চারা স্কুলে যাওয়ার সময় বাঁশের সাঁকো পারাপারের সময় খুব ভয়ে থাকি। কখন যে কি হয়! অবিলম্বে ওই গ্রামের রাস্তা ও একটি সেতু তৈরির দাবি জানান তারা।

নিমাইচড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান খোকন বলেন, ‘ওই এলাকা দিয়ে অসংখ্য মানুষ চলাফেরা করে। প্রচন্ড পরিমাণে মানুষের দুর্ভোগ হয়। বিশেষ করে ছোট ছোট শিশুদের খুব কষ্ট হয়। এর আগে রাস্তায় কিছু মাটির কাজ করা হয়েছে এবং ৫০ ফিট সেতু তৈরির একটি প্রকল্প দেয়া হয়েছে। আশা করছি অল্প সময়ের মধ্যেই সমস্যা নিরসন হবে।’

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সরকার অসীম কুমার বলেন, ‘আমি নিজে গিয়ে দুর্ভোগের বিষয়টি দেখেছি। সেখানে একটি বড় বাজেটের কাজ করতে হবে। যেটা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সম্ভব নয়। তবে জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ আমরা লিখে বিষয়টির সমাধানের চেষ্টা করবো।

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
khojkhobor.net-এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

আইটি সাপোর্ট ও ম্যানেজমেন্টঃ Creators IT Bangladesh