রাতের আঁধারে কারা ভাঙছে ঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের স্মৃতি বিজড়িত স্থাপনা !

বুধবার, ২১ জুলাই ২০২১ | ১২:৩৯ পূর্বাহ্ণ | 552 বার

রাতের আঁধারে কারা ভাঙছে ঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের স্মৃতি বিজড়িত স্থাপনা !

পাবনার হিমাইতপুর মানসিক হাসপাতাল ক্যাম্পাসে অবস্থিত শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের স্মৃতি বিজড়িত বিশ্ব বিজ্ঞানাগার হারিয়ে যেতে বসেছে। এমনিতেই পরিত্যক্ত ভবনটি সংরক্ষনের কোনো উদ্যোগ নেই, তার উপর রাতের আঁধারে কে বা কারা ভেঙ্গে ফেলছে ভবনটির বিভিন্ন অংশ। চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে ইট, রড। ইতিমধ্যে হাওয়া হয়ে গেছে দরজা, জানালা।

এদিকে, মানসিক হাসপাতালের মুল ভবনের সামনের মাঠে বিশ্ব বিজ্ঞান কেন্দ্রের ভবন, অথচ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানেন না এসবের কিছুই। ভবনটি ভাঙ্গার কোনো নির্দেশনাও নেই তাদের কাছে। তাহলে কারা ভাঙছে এ ভবন, তারও উত্তর জানা নেই কারো।

বিশ্ব বিজ্ঞানাগার সহ ঠাকুরের স্মৃতি বিজড়িত অন্যান্য স্থাপনাগুলো সংরক্ষণের জন্য দীর্ঘদিন ধরেই হিমায়েতপুর সৎসঙ্গ আশ্রম কর্তৃপক্ষ সরকারসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে দাবী জানিয়ে আসলেও, কার্যত গ্রহণ করা হয়নি কোন পদক্ষেপ। আর এই অবহেলার সুযোগেই একটি চক্র খুব কৌশলে ভবন ভেঙ্গে চুরি করে নিচ্ছে মুল্যবান জিনিসপত্র।

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুক‚লচন্দ্র ১৮৮৮ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর পাবনার হিমাইতপুরে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯২৯ সালে তিনি সেখানে অনুকূলচন্দ্র সৎসঙ্গ প্রতিষ্ঠা করেন। তারপর একে একে গড়ে তোলেন সৎসঙ্গ তপোবন বিদ্যালয়, সৎসঙ্গ মেকানিক্যাল ও ইলেট্রিক্যাল ওয়ার্কসপ, সৎসঙ্গ প্রেস ও পাবলিকেশন হাউস, সৎসঙ্গ কুঠির বিভাগ, সৎসঙ্গ ব্যাংক, পূর্তকার্য বিভাগ, বিশ্ব বিজ্ঞানাগার সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। ১৯৪৬ সালে ঠাকুর অনুকূলচন্দ্র স্বাস্থ্যগত কারনে বায়ু পরিবর্তনের জন্য স্বপরিবারে ভারতে যান। রেখে যান বিশাল কর্মযজ্ঞ। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগ হলে নানাবিধ জটিলতার কারনে ঠাকুর আর তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে ফিরে আসেননি।

তথ্যমতে, ঠাকুরের জন্মস্থান, তাঁর বাসগৃহ, মাতৃমন্দির, স্মৃতিমন্দির, নিভৃত নিবাস, ফিলানথ্রপী অফিসসহ কিছু স্মৃতি বিজড়িত ভবন ও স্থান হিমাইতপুর সৎসঙ্গকে প্রত্যাপর্ণের জন্য ১৯৬১ সাল থেকে সৎসঙ্গ হিমাইতপুর, পাবনা-এর পক্ষ থেকে সরকার প্রধানগণের কাছে আবেদন করা হয়। বহুবার আবেদন নিবেদন করার পর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সুপারিশ প্রেরণ করা হলেও তা আজও বাস্তবায়ন হয়নি।

সম্প্রতি মানসিক হাসপাতালের অভ্যন্তরে অবস্থিত ঠাকুর অনুকুলচন্দ্রের স্মৃতি বিজরিত বিশ্ব বিজ্ঞানাগার পুরনো ভবনটির সামনে ও পিছনের বিভিন্ন অংশ ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। চুরি করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে লোহা, রড, ইট সহ অন্যান্য উপকরণ। রাতের আঁধারে একটি চক্র কৌশলে ধীরে ধীরে ভবন ভাঙছে এবং চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এ সম্পর্কে কিছুই জানেন না আশ্রম কিংবা মানসিক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পাবনার নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।

সুচিত্রা সেন স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদ, পাবনার সাধারণ সম্পাদক ড. নরেশ মধু বলেন, এটি ঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের স্মৃতি বিজড়িত স্থাপনাগুলোর একটি। অথচ এতটাই অবহেলায় ফেলে রাখা হয়েছে যে, ভবনই দিনে দিনে হাওয়ায় মিলিয়ে যাচ্ছে। মানসিক হাসপাতালের নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে থাকলেও, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও কিছু জানে না। আমরা চাই, দ্রুততম সময়ের মধ্যে স্থাপনাটি প্রত্মতত্ত অধিদপ্তরের আওতায় নিয়ে সংরক্ষণ করা হোক।

ঠাকুর অনুকূলচন্দ্র সৎসঙ্গ আশ্রমের সভাপতি ড. রবীন্দ্রনাথ সরকার বলেন, মানসিক হাসপাতালের অভ্যন্তরে যেসব স্মৃতি রয়েছে, তা মানসিক হাসপাতাল প্রতিষ্ঠাকাল থেকেই দাঁড়িয়ে আছে। এইসব স্থাপনা মানসিক হাসপাতালের কার্যক্রমকে কখনো কোন বাঁধার সৃষ্টি করেনি। সৎসঙ্গ কর্তৃপক্ষ বহুবার বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সরকার প্রধানের কাছে আবেদন জানিয়েছেন, যাতে করে ঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের ফেলে যাওয়া ভবনগুলোকে প্রত্মতাত্বিক বিভাগের আওতায় নিয়ে আসা হয়। কিন্তু নেয়া হয়নি কোন পদক্ষেপ।

পাবনা মানসিক হাসপাতালের পরিচালক ডা. আবুল বাসার মো: আসাদুজ্জামান বলেন, স্মৃতি বিজড়িত এই স্থাপনাটি ভাঙ্গার বিষয়ে আমরা কিছুই জানিনা। এটি ভেঙ্গে ফেলার কোন নির্দেশানও আমাদের কাছে আসেনি। হাসপাতালের সামনে এ ধরণের ঘটনাটি ঘটছে অথচ কর্তৃপক্ষ কিছুই জানেন না, এমন প্রশ্নের জবাবে পরিচালক বলেন, এটি দেখভালের জন্য আমার যথেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মি নেই। রাতের আঁধারে কে বা কারা ভেঙ্গেছে সেটিও আমরা জানিনা।

পাবনার গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ারুল আজিম বলেন, পাবনা মানসিক হাসপাতালের অভ্যন্তরে ঠাকুর অনুকূলচন্দ্র’র স্মৃতি বিজড়িত স্থাপনা ভেঙ্গে ফেলার কোন দিকনির্দেশনা আমাদের কাছে নেই। আর সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া আমাদের ভেঙ্গে ফেলার কোন ক্ষমতাও নেই। তিনি বলেন, আমি যতটুকু জানি, এটি সংরক্ষেনের জন্য একটি নীতিগত সিন্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে পাবনার জেলা প্রশাসক বিশ্বাস রাসেল হোসেন বলেন, এ ঘটনাটি আমি ভালোভাবে জানিনা। বিষয়টি জেনে তারপর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে বলে দাবী করেন তিনি।

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  
khojkhobor.net-এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

আইটি সাপোর্ট ও ম্যানেজমেন্টঃ Creators IT Bangladesh

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্টঃ WebNewsDesign