নিশ্চুপ পৌর কর্তৃপক্ষ

মশার উৎপাতে দিশেহারা চাটমোহরবাসী!

রবিবার, ১৭ মার্চ ২০১৯ | ১০:১১ অপরাহ্ণ | 582 বার

মশার উৎপাতে দিশেহারা চাটমোহরবাসী!
মশারির মধ্যে পড়ছে এক শিক্ষার্থী
Advertisements

অন্য যে কোন সময়ের চেয়ে পাবনার চাটমোহর পৌর শহর সহ উপজেলার প্রায় সব এলাকায় বৃদ্ধি পেয়েছে মশার উপদ্রব। গ্রীষ্মের উত্তাপ বাড়ার সাথে সাথে বেড়েছে মশার আনাগোনা। বাসাবাড়ি, অফিস, স্কুল-কলেজ, দোকানপাট সবখানেই এখন মশার দাপট।

রাতের বেলা কয়েল জ্বালিয়ে, স্প্রে করে, মশারি টাঙালেও কোন কিছুতেই সুফল মিলছে না। দিনের বেলাতেও একই অবস্থা। কয়েলের গন্ধে অনেকেই হচ্ছেন অসুস্থ। সবমিলিয়ে মশার উৎপাতে দিশেহারা সাধারণ মানুষ।

অথচ প্রথম শ্রেণীর পৌরসভা হওয়া সত্ত্বেও মশা নিধনের কোন কার্যক্রম নেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। তাদের নিশ্চুপতার কারণে মশার কাছে অসহায় পড়েছে উপজেলাবাসী। এ নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভ বিরাজ করছে সবার মধ্যে।

শনিবার (১৬ মার্চ) দুপুরে সরেজমিন পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বেশিরভাগ ড্রেনে জমে আছে পচা পানি ও পলিথিনের স্তুপ। শহরের মধ্যে দিয়ে এক সময়ের প্রমত্তা বড়াল নদটিও এখন ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। জমে আছে কচুরীপানার স্তুপ। সেখানে বংশবিস্তার করছে লাখ লাখ মশা।

স্থানীয়রা জানান, মশার উৎপাতে পড়াশোনা করতে পারছে না শিক্ষার্থীরা। অনেকে দিনের বেলায় কয়েল জ্বালিয়ে বা মশারী টাঙিয়ে পড়াশোনা ও খাওয়া দাওয়া করছেন। মশার কামড়ে রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন শিশু থেকে শুরু করে বয়োবৃদ্ধরা। আবার অনেকেই কয়েলের গন্ধে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। মশা এখন নিত্যসঙ্গী চাটমোহর পৌরবাসীর।

তবে পৌর কর্তৃপক্ষ বলছে- মশা নিধনের জন্য কোন বরাদ্দ নেই। একমাত্র ফগার মেশিনটিও নষ্ট। তবে এসব অজুহাত শুনতে নারাজ মশার অত্যাচারে অতিষ্ট পৌরবাসী। শুধু পৌর এলাকা নয়, উপজেলার প্রায় সব গ্রামে একই চিত্র। মশার জ্বালায় অতিষ্ট সবাই।

পৌর শহরের ছোট শালিকা মহল্লার বাসিন্দা স্কুল শিক্ষক মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেন, ‘অনেক অবাধ্য ছাত্রকে বাধ্য করেছি পড়াশোনা করতে। কিন্তু মশার কাছে অসহায় হয়ে পড়েছি! কোন কিছুতেই মশার হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছি না। পৌরকর বাড়ানোর পরেও আমরা নাগরিকরা সেবা বঞ্চিত হচ্ছি। যা অত্যন্ত দুঃখজনক।’

ক্ষোভের সুরে পুরাতন বাজার এলাকার চা বিক্রেতা শুকচাঁদ হোসেন বলেন, ‘মশার উপদ্রবে সন্ধ্যার পর দোকানে দাঁড়ানোই দায়। মনে হয় মশা তুলে নিয়ে যাবে। পৌরসভা থেকে উদ্যোগ নিলেই আমরা মশার অত্যাচার থেকে মুক্তি পেতে পারি।’

উপজেলার মথুরাপুর গ্রামের নাজমা খাতুন জানান, সন্ধ্যার পর ঘরে বসে থাকা সম্ভব হচ্ছে না। ছেলেকে মশারির মধ্যে পড়াশোনা করাতে বাধ্য হচ্ছি। কয়েল জ্বালিয়েও রেহাই মিলছে না। এত মশার উৎপাত আগে কখনও দেখিনি।

মশার উপদ্রবের কথা স্বীকার করে চাটমোহর পৌরসভার মেয়র মির্জা রেজাউল করিম দুলাল বলেন, মশার উপদ্রব ব্যাপকভাবে বেড়েছে। পৌরসভার একটি মাত্র ফগার মেশিন, তাও নষ্ট। এছাড়া মশা নিধনের কোন বরাদ্দও নেই। তবে চেষ্টা করছি পাবনা থেকে মেশিন কেনার। পাওয়া গেলে মশা নিধনে ওষুধ স্প্রে করা হবে।’

তবে শুধু পৌরসভা নয়, উপজেলা প্রশাসনকে এ বিষয়ে মশা নিধনের উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  
khojkhobor.net-এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

আইটি সাপোর্ট ও ম্যানেজমেন্টঃ Creators IT Bangladesh