ভূতের মুখে রাম নাম, জপটা জরুরী

সোমবার, ০৫ নভেম্বর ২০১৮ | ১০:১৫ অপরাহ্ণ | 893 বার

ভূতের মুখে রাম নাম, জপটা জরুরী

হিন্দু সমাজে বিশ্বাসগত বিপরিত্ব ধারনা থেকে ‘ভূতের মুখে রাম নাম’ কথাটি এসেছে। এই যে বিশ্বাসগত বিপরীত্ব? এটা বিষ্ময় জাগানিয়া। ভূত অর্থ্যাৎ মন্দসত্বা যখন স্বভাব-বিরুদ্ধ হয়ে ভালো সত্বা রাম নাম জপ করে, তখন তো বিষ্মিত হতেই হয়। অথচ এটাই হওয়া উচিত ছিলো স্বাভাবিকতা! সমাজের জন্য, অনুগত লক্ষনের মুখে রাম নামের চেয়ে, মন্দসত্বা ভূতের মুখে রাম নাম অধিক জরুরী। যেমন জরুরী ছিলো দস্যু রত্নাকরের মুখে!

দস্যু রত্নাকর একদিন তমস্যা নদীর ধারে নারদ মুনিকে আক্রমন করে বেঁধে ফেললো। তখন নারদমুনি রত্নাকরকে বললেন, “তুমি একবার তোমার বাড়ির আত্মীয়-স্বজনকে জিজ্ঞাসা কর তো, আমাদের মেরে যে পাপ তুমি করবে, সেই পাপের ভাগী কেউ হবে কি না?” রত্নাকর বাড়িতে এসে সবাইকে জিজ্ঞেস করল।

কিন্তু একজনও তার পাপের ভাগী হতে রাজি হল না। করুন মুখে দস্যু রত্নাকর ফিরে এলো তপস্যা নদীর ধারে, তার মধ্যে দেখা দেয় অনুসূচনা, তাকে ব্যকুল করে ইতোপূর্বের পাপ থেকে মুক্তির আকাঙ্খা… তখন নারদ তাকে বললেন- ৬০ হাজার বার ‘রাম’ নাম জপ করতে হবে। তবেই সে মুক্তি পাবে।

রত্নাকর যত বার চেষ্টা করল রাম বলার, তার মুখ দিয়ে শুধু মরা বেরুলো, ‘মরা’। কারণ এতো খুন সে করেছে, এতো পাপ সে করেছে তা থেকে মুক্তি এত সহজ নয়। তাই নিবিষ্ট মনে মরা, মরা, মরা জপ করে যেতে থাকলেন রত্নাকর, একসময় তার সারা শরীর উঁইয়ের ঢিবিতে ভরে গেল! উঁইকে বলা হয় ‘বল্মী’। সেই জন্যই এক সময় তার নাম হয় “বাল্মীকি”।

একদিন বাল্মীকি তমস্যা নদীর ধার দিয়ে যাচ্ছিলেন। আর আকাশে উড়ছিল দুটো বক। হটাৎ উনি দেখেন, এক শিকারী ঐ বক দুটিকে বান মারার জন্য এগিয়ে যাচ্ছে। উনি বক দুটিকে বাঁচাতে যাওয়ার আগেই শিকারী বান মেরে দেয়! বক দুটি মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। আর ঠিক তখনই বাল্মীকির মুখ দিয়ে প্রথম বেরিয়ে আসে- “মা নিষাদ প্রতিষ্ঠাং ত্বমগমঃ শাশ্বতী সমঃ। যৎ ক্রৌঞ্চমিথুনদেকমবধীঃ কামমোহিতম।

” অর্থঃ হে শিকারী, তুমি যে কামমোহিত ক্রৌঞ্চমিথুনকে (বকযুগলকে) বধ করলে, তার ফলস্বরূপ জীবনে কখনও শান্তি পাবে না। একসময়ের দস্যুর মুখ থেকে বেড়োলো দেব ভাষা। এই কথাটিই হলো রামায়নের প্রথম শ্লোক। এবার ভাবুন, ভুতের মুখে রাম নাম যদি আপনার কাছে উপহাস হয়, তবে কী দস্যু রত্নাকরের মুখে রাম নামও উপহাসের নয়?

এখানকার উপলব্ধিটা গুরুত্বপূর্ন- যদি উদ্দেশ্য সৎ হয় তবে রাম নাম জপুক ভুত কিংবা ভগবান। আগেই বলেছি- অনুগত লক্ষনের মুখে রাম নামের চেয়ে, মন্দসত্বা ভূতের মুখে রাম নাম অধিক জরুরী। যেমন রত্নাকরের মুখে রাম নাম এক দস্যুকে পুড়িয়ে রামায়নের লেখক বানিয়েছে…. তবে আমার আগ্রহ, পাপী রত্নাকরের মুখে রাম নাম উচ্চারিত না হয়ে মরা উচ্চারিত হওয়ায়। রামকে আপনি মরা বলছেন এটা গুরুত্বপূর্ন নয়, গুরুত্বপূর্ন আপনি কোন বিশ্বাসে বলছেন। বিশ্বাস ঠিক থাকলে মরা, মরা, মরা জপতে জপতেই রাম নামের জপ আসবে।

সত্যি বলতে, আগামী নির্বাচন নিয়ে চলমান যে সংলাপ চলছে, তা গণতন্ত্র দস্যুদের পাপি মুখে হুট করেই যে সফলতায় মিলবে তা নয়। দেশের জন্য বিশ্বাস ঠিক রেখে মরা, মরা উচ্চারন করে যেতে হবে, গণতন্ত্র এতে মরবে না বরং এক সময় এ উচ্চারন পূন্যনাম রামে পরিনত হবে।

এ জন্য রাজনৈতিক নেতাদের এবং রাজনৈতিক দলগুলোকে অনেক ভাঙতে হবে। এ ভাঙ্গন দেখে কটাক্ষের সুরে ‘ভূতের মুখে রাম নাম’ উপহাস করা থেকে বিরত থাকতে হবে দায়িত্বশীল জনগনদের। আর রাজনীতিবিদদের মনে রাখতে হবে উপহাস সাময়িক তবে অভিশাপ দীর্ঘস্থায়ী।

ব্যক্তি বা দলগত অহংএ যদি বধ হয় জনগনের অধিকার তবে তপস্যা নদীর তীরে বাল্মীকির উচ্চারনই হবে ১৬ কোটি জনতার অভিশাপ- “….ফল সরূপ জীবনে কখনো শান্তি পাবে না”

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  
khojkhobor.net-এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

আইটি সাপোর্ট ও ম্যানেজমেন্টঃ Creators IT Bangladesh

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্টঃ WebNewsDesign