ভাষা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধে ছিল শামসুর রহমান শরীফ ডিলুর অসামান্য অবদান

বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২০ | ৭:৫৯ অপরাহ্ণ | 102 বার

ভাষা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধে ছিল শামসুর রহমান শরীফ ডিলুর অসামান্য অবদান
Advertisements

পাবনার রাজনীতিতে আজ শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিশেষ করে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা এখন শোকাচ্ছন্ন। কারণ তাদের প্রিয় নেতা ও বর্ষিয়াণ রাজনীতিবিদ, জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি শামসুর রহমান শরীফ ডিলু মারা গেছেন। তিনি ছিলেন একাধারে ভাষা সৈনিক, মুক্তিযোদ্ধা, প্রবীণ আওয়ামীলীগ নেতা, পরপর পাঁচবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য। দীর্ঘদিন ধরে সামলেছেন জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতির দায়িত্ব। ভাষা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধে ছিল তার অসামান্য অবদান।

জন্ম ও লেখাপড়া : পাবনা সদর উপজেলার হেমায়েতপুর ইউনিয়নের চর শানিকদিয়ার গ্রামে ১৯৪০ সালের ১০ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন শামসুর রহমান শরীফ ডিলু। পিতার নাম লুৎফর রহমান, মাতার নাম জোবেদা খাতুন। পৈত্রিক নিবাস ঈশ্বরদী উপজেলার লক্ষèীকুন্ডা গ্রামে। পাবনা জেলা স্কুল থেকে ১৯৫৭ সালে ম্যাট্রিক পাশ করেন। এরপর পাবনা এ্যাডওয়াার্ড কলেজ থেকে ১৯৬০ সালে ইন্টারমিডিয়েট এবং ১৯৬২ সনে গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করেন।

রাজনৈতিক জীবন : শামসুর রহমান শরীফের রাজনৈতিক জীবনে প্রথম সাফল্য আসে ঈশ্বরদী উপজেলার লক্ষিকুন্ডা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে। তারপরই তিনি সক্রিয়ভাবে রাজনিতীতে জড়িয়ে পড়েন। তিনি উক্ত ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত হন। পরে ক্রমান্নয়ে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, সাধারন সম্পাদক, সভাপতি এবং পরে ২০০৬ সালে জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মনোনীত হন এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন।

এর আগে তিনি ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর পর তৎকালীন সরকারের আমলে টানা ৫ বছর কারারুদ্ধ ছিলেন এবং এরশাদ সরকারের আমলেও তাকে কারাগারবরণ করতে হয়। তিনি সর্বপ্রথম ১৯৭৯ সালে পাবনা-৪ আসনে আওয়ামীলীগের মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে পরাজিত হন।

পরে ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে অংশ নিয়ে আবারও পরাজিত হন। পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালে দল তাকে মনোনয়ন দিলে বিপুল ভোটের ব্যাবধানে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর ২০০১, ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকা : ভারত বিভাগের পর নব্য স্বাধীন হওয়া পাকিস্তানে মাতৃভাষার দাবীতে আন্দোলন শুরু হয়। পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষার দাবী জানায় ও আন্দোলন চালাতে থাকে। পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্র থাকাবস্থায় শামসুর রহমান শরীফ ভাষা আন্দোলনে যোগদান করেন। ভাষার দাবীতে মিছিল করায় তাকে পুলিশ গ্রেফতার করে ও জেলে বন্দী রাখে।

১৯৫৯ সালে আইয়ুব খানের মার্শাল ল’ বিরোধী আন্দোলনে যোগ দেওয়ার কারণে তার বিরুদ্ধে হুলিয়া জারি হয়। ১৯৬২ সালে হামিদুর রহমান শিক্ষা কমিশনের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে গ্রেফতার হন। ছয় দফা আন্দোলনের প্রচার করতে গিয়ে ১৯৬৭ সালে আবারও তিনি কারাবরণ করেন। উনসত্তরের গণ অভ্যুত্থানে তার বলিষ্ঠ ভূমিকা ছিলো।

১৯৭১ সালের ২৯ মার্চ পাবনার মাধপুরে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ যুদ্ধে নেতৃত্ব দেন। তার নেতৃত্বে তার বাহিনীর ১৭ জন মুক্তিযোদ্ধা গুলিতে মারা যায় এবং পাকিস্তানি সেনাদের অনেকেই ঐ যুদ্ধে হতাহত হয়।

তার মৃত্যুতে পাবনার আওয়ামীলীগ রাজনীতিতে তৈরী হলো এক শূন্যতা। আওয়ামীলীগ হারালো তার একজন পরীক্ষিত ও জনপ্রিয় নেতাকে।

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  
khojkhobor.net-এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

আইটি সাপোর্ট ও ম্যানেজমেন্টঃ Creators IT Bangladesh