চাটমোহরে বাল্য বিয়ে পড়ানোর অভিযোগ

বিয়ে পড়ালেন ভুয়া কাজী, অভিযোগ দিলেন প্রকৃত কাজী!

শুক্রবার, ০৫ এপ্রিল ২০১৯ | ১১:৩৫ অপরাহ্ণ | 818 বার

বিয়ে পড়ালেন ভুয়া কাজী, অভিযোগ দিলেন প্রকৃত কাজী!
ছবি-ইউএনও’র কাছে দেয়া প্রকৃত কাজীর অভিযোগ পত্র।
Advertisements

পাবনার চাটমোহরে কাজী (বিবাহ রেজিষ্টার) না হয়েও আসাদুল ইসলাম নামে এক মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে বাল্য বিয়ে পড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। গত শুক্রবার (২৯ মার্চ) উপজেলার মূলগ্রাম ইউনিয়নের মাঝগ্রাম ঢাকাপাড়ায় বিয়েটি পড়ানো হয়।

এদিকে এই ঘটনা জানার পর বৃহস্পতিবার (৪ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ওই ইউনিয়নের প্রকৃত কাজী আবদুল ওয়াহাব।

অভিযুক্ত আসাদুল ইসলাম একই ইউনিয়নের কুবিরদিয়ার গ্রামের মোকছেদ আলীর ছেলে এবং এম.কে আর আহম্মাদিয়া দাখিল মাদ্রাসার সহকারী মৌলভী শিক্ষক।

অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কুবিরদিয়ার এলাকার এম.কে আর আহম্মাদিয়া দাখিল মাদ্রাসায় দশম শ্রেণীতে পড়ুয়া জনৈক এক ছাত্রীর সঙ্গে আনিসুর রহমান নামে এক সহপাঠীর সঙ্গে বেশ কিছুদিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

এরপর সম্পর্কের ব্যাপারে জানাজানি হওয়ার পর মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ তাদের দু’জনকে মাদ্রাসায় আসতে বারণ করে। পরে গোপনে ২৯ মার্চ কাজী না হয়েও এম.কে আর আহম্মাদিয়া দাখিল মাদ্রাসার সহকারী মৌলভী শিক্ষক আসাদুল ইসলাম ওই দু’জনের মধ্যে বিয়ে পড়ান বলে অভিযোগ।

পরে বিষয়টি জানার পর মূলগ্রাম ইউনিয়নের প্রকৃত কাজী আবদুল ওয়াহাব তথ্যসহ বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলা নির্বাহী সরকার অসীম কুমারের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দেন।

অভিযোগে তিনি উল্লেখ্য করেন, সহকারী মৌলভী আসাদুল ইসলাম জনৈক রাজ্জাক কাজীর কাছ থেকে বিবাহ রেজিষ্টার নিয়ে ওই দু’জনের মধ্যে বাল্য বিয়ে রেজিষ্ট্রি করিয়েছেন।

অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে অভিযুক্ত সহকারী মৌলভী শিক্ষক আসাদুল ইসলাম জানান, ‘ওই দুই শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এই বিষয় নিয়ে তিন বার বিচার-শালীস হয়েছে। তাদের বিয়ে আমি পড়াইনি। তবে মেয়ের বাড়িতে বসে নীরিক্ষণ (আঞ্চলিক ভাষায় বিয়ে ঠিক করে রাখা) দেয়া হয়েছে।’

প্রকৃত বিবাহ রেজিষ্টার (কাজী) আবদুল ওয়াহাব বলেন, ‘আসাদুল ওই দু’জনের মধ্যে বাল্য বিয়ে পড়িয়েছে। আমি বিষয়টি তাকে বললে সে আমার কাছে এসে ক্ষমা চায়। যার প্রমাণ আমি মোবাইলে রেকর্ডিং করে রেখেছি। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে সে রাজ্জাক কাজী নামে একজনের সহযোগিতায় আমার ইউনিয়নে গোপনে বাল্য বিয়ে পড়িয়ে আসছে। এদেরকে প্রতিহত করতে না পারলে বাল্য বিয়ে বন্ধ করা সম্ভব নয়। যে কারণে আমি ইউএনও স্যারের কাছে অভিযোগ দিয়েছে।’

অভিযোগ প্রাপ্তির সত্যতা নিশ্চিত করে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সরকার অসীম কুমার জানান, ‘বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  
khojkhobor.net-এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

আইটি সাপোর্ট ও ম্যানেজমেন্টঃ Creators IT Bangladesh