বনানী আগুন ট্রাজেডি

বিয়ে করা হলো না পাবনার রাব্বীর

শুক্রবার, ২৯ মার্চ ২০১৯ | ১০:০০ অপরাহ্ণ | 469 বার

বিয়ে করা হলো না পাবনার রাব্বীর
নিহত আমির হোসেন রাব্বী
Advertisements

‘খুব শিগগির বিয়ে করার ইচ্ছা ছিল, এজন্য নতুন বাড়ি করতে ইটও কিনেছিলেন। কিন্তু বিয়ে করে সংসারী হওয়ার সাধ পূরণ হলো না পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার আর আতাইকুলা ইউনিয়নের চরপাড়া গ্রামের আমির হোসেন রাব্বির। কারণ ঢাকার বনানীতে এফ আর টাওয়ারের ভয়াবহ আগুনে নিহত হওয়ার মধ্য দিয়ে শেষহয়ে গেছে রাব্বী ও তার পরিবারের স্বপ্ন।’

তার মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে তার গ্রামের বাড়িতে। শোকের মাতমে ভারি হয়ে উঠেছে এলাকার বাতাস। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে দিশেহারা বাবা-মা। শোকাহত পরিবারের পাশে ছুটে গেছেন প্রশাসনিক কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন শ্রেনীর মানুষ।

পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার আর আতাইকুলা ইউনিয়নের চরপাড়া গ্রামের কৃষিজীবি আইয়ুব আলীর একমাত্র ছেলে আমির হোসেন রাব্বি ছিলেন তিন ভাইবোনের মধ্যে সবার বড়। পাবনার শহীদ বুলবুল কলেজ থেকে এইচএস সি ও এডওয়ার্ড কলেজ থেকে এম এ পাশ করে চাকরিতে যোগ দেন ঢাকা বনানীর এফ আর টাওয়ারের ১১ তলার ইকোলাইন বিডি লিমিটেড নামের একটি কোম্পানীতে।

গেলো মাসে পাবনাতে এসে পিতামাতার সাথে সময় কাটিয়ে গেছেন রাব্বি। বাড়ির কাজে হাত দিয়ে বিয়ের পিঁড়িতে বসবেন বলে বেশ কিছু ইটও কিনে বাড়ির পাশে রেখে পিতামাতার দোয়া নিয়ে চলে যান ঢাকায়। আবারও তার বাড়িতে আসার কথা ছিলো এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে।

কিন্তু ২৮ মার্চে বনানীতে তার চাকরিস্থল এফ আর টাওয়ারের ভযাবহ অগ্নিকান্ডে অকালে সে চলে যায় না ফেরার দেশে। তিনি বাড়িতে আসলেন কিন্তু লাশ হয়ে।

তার দীর্ঘদিনের রুমমেট আরেক বন্ধুর ফোনের মাধ্যমে আগুনের ঘটনা জেনে খোঁজ করে খুঁজে পাননি রাব্বিকে। পরে ঐদিন রাত সাড়ে এগারোটায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রাব্বির মরদেহ দেখে সনাক্ত করে বাড়িতে খবর দেয়।

শুক্রবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়।

ভালোবাসার মানুষদের ভীড়ে তার বাড়ির আঙিনা হয়ে পড়ে যেন শোকাহত মানুষের মিলিত কান্নার ঢেউয়ে। ছোটবেলা থেকেই মেধাবী, বিনয়ী ও সদালাপী হিসেবে গ্রামের মানুষের কাছে অনেক আদরের ছিলো রাব্বি। আর একারনেই তার এমন অনাকাংখিত মৃত্যু যেন নাড়া দিয়েছে তার পুরো গ্রামের মানুষকে।

খবর জেনে বাড়িতে ছুটে গেছেন প্রশাসনিক কর্মকর্তারা সহ নানা শ্রেনীর অসংখ্য মানুষ। একমাত্র সন্তানের এমন মৃত্যুতে বাকরুদ্ধ রাব্বির পিতা আইয়ুব আলী ও রহিমা খাতুন।

রাব্বির পিতা আইয়ুব আলী জানান, ফেব্রæয়ারি মাসের শেষেরদিকে পাবনায় গ্রামের বাড়িতে এসেছিলেন রাব্বী। বিয়ে করবে বলে ঘর করতে কিছু ইটসহ সরঞ্জাম কিনে বাড়িতে রেখেছে। এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে বাড়িতে আসার কথা ছিল তার। কিন্তু আমার ছেলে এভাবে বাড়িতে আসবে ভাবতে পারিনি।

রাব্বির চাচা আব্দুর রশিদ জানান, ভাতিজা রাব্বী যে ভবনে থাকে সেখানে অগ্নিকান্ডের খবর জেনে ঢাকা ছুটে যাই। সেখানে রাব্বির বন্ধু মাসুদ রানাকে সাথে নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে মরদেহ সনাক্ত করে বাড়িতে নিয়ে আসি। ঢাকায় একের পর এক আগুনে আর কত প্রাণ গেলে হুশ ফিরবে কর্তৃপক্ষের এমন প্রশ্রে উত্তর জানেন না চাচা রশিদ।

রাব্বীর সবচেয়ে কাছের বন্ধু মাসুদ রানা জানান, আমি আর রাব্বী একই রুমে থাকতাম। সে সকালে অফিসে যায়, আমিও আমার অফিসে যাই। দুপুরে আরেক বন্ধুর ফোন পেয়ে জানতে পারি রাব্বী যে ভবনে চাকুরী করে সেখানে আগুন লেগেছে। পরে তার কোনো খবর পাইনি। খুঁজতে খুঁজতে রাত সাড়ে এগারোটায় ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে বন্ধু রাব্বির মরদেহ খুঁজে পাই।

এদিকে নিহতের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে প্রশাসনের কর্মকর্তারা। শুক্রবার সকালে আমির হোসেন রাব্বীর বাড়িতে গিয়ে পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম। এ সময় তিনি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষনিক নিহতের পরিবারকে বিশ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।

নিহত আমির হোসেন রাব্বীর মরদেহ ঢাকা থেকে শুক্রবার সকাল সাড়ে আটটায় গ্রামের বাড়িতে এসে পৌঁছায়। পরে জানাযা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
khojkhobor.net-এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

আইটি সাপোর্ট ও ম্যানেজমেন্টঃ Creators IT Bangladesh