বাবার লাশ বাড়িতে রেখে পরীক্ষা কেন্দ্রে জিয়াউর !

বৃহস্পতিবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ২:২২ অপরাহ্ণ | 319 বার

বাবার লাশ বাড়িতে রেখে পরীক্ষা কেন্দ্রে জিয়াউর !

ছেলেকে প্রকৌশলী বানানোর স্বপ্ন নিয়ে জিয়াউর রহমানকে কারিগরি শাখায় পড়াশোনা করিয়েছেন বাবা। চলমান এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে ছেলে জিয়াউর। কিন্তু ছেলেকে প্রকৌশলী হিসেবে দেখার আগেই পৃথিবী ছেড়ে চলে গেলেন বাবা মকবুল হোসেন। বাবার সাথে পরীক্ষা কেন্দ্রে যেতো জিয়াউর, বৃহস্পতিবার বাবার লাশ বাড়িতে রেখে কাঁদতে কাঁদতে পরীক্ষা কেন্দ্রে যেতে হলো তাকে।

এমনই এক হৃদয় বিদারক ঘটনা ঘটেছে পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায়। উপজেলার সদর ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামের দুগ্ধ ব্যবসায়ী মকবুল হোসেনের ছেলে জিয়াউর এবছর উপজেলার অষ্টমনিষা টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজ থেকে সিভিল কনস্ট্রাকশন শাখায় এসএসসি ভোকেশনাল পরীক্ষায় অংগ্র্রহণ করছে। তার পরীক্ষাকেন্দ্র ছিল ভাঙ্গুড়া টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজ। তিন ভাই-বোনের মধ্যে জিয়াউর সকলের ছোট। ছোটবেলা থেকে সে মেধাবী।

জিয়াউরের স্বজনরা জানান, বুধবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে হঠাৎ করে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন তার বাবা মকবুল হোসেন। পরিবারের লোকজন দ্রুত তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানকার চিকিৎসকরা তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় ঢাকার হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালে প্রেরণ করেন। সেখানে পৌঁছানোর পরই চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঢাকা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল দশটার দিকে তার মরদেহ ভাঙ্গুড়া ফিরিয়ে আনা হয়। আর বাবার মরদেহ বাড়িতে রেখে কাঁদতে কাঁদতে তার স্বজনদের সাথে পরীক্ষাকেন্দ্রে যায় জিয়াউর।

কক্ষ পরিদর্শকরা জানান, জিয়াউর পরীক্ষার হলে মাঝেমধ্যেই কান্না করতে থাকে। তখন তারা তাকে সান্তনা দিয়ে শান্ত করে। তবে সে পরীক্ষার খাতায় সব সময়ই লেখার চেষ্টা করেছে। পিতা হারানোর বেদনা নিয়ে পরীক্ষা দিলেও সে ভালো ফলাফল করবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

কেন্দ্র সচিব অধ্যক্ষ বদরুল আলম বিদ্যুৎ বলেন, পিতা হারানোর বেদনা নিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে উপস্থিত হন শিক্ষার্থী জিয়াউর। পরীক্ষার হলে সার্বক্ষণিক তার খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে। সে বিমর্ষ হয়ে পরীক্ষা দিলেও তাকে খাতায় লিখতে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। এতে সে ধৈর্য ধরে খাতায় লিখেছে।

ভাঙ্গুড়া উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা সৈয়দ আশরাফুজ্জামান বলেন, বিষয়টি শোনার সঙ্গে সঙ্গে আমি পরীক্ষাকেন্দ্রে গিয়ে ওই শিক্ষার্থীর খোঁজখবর নেই। এ সময় জানতে পারি সে সকালের খাবার না খেয়ে পরীক্ষার কক্ষে কাঁদতে কাঁদতে বসেছে। তখন আমি তাকে খাওয়াানোর ব্যবস্থা করে অনেক বুঝিয়ে স্বাভাবিক করার চেষ্টা করি।

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
khojkhobor.net-এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

আইটি সাপোর্ট ও ম্যানেজমেন্টঃ Creators IT Bangladesh

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্টঃ WebNewsDesign