বাঁশ ফেলে লকডাউনের নামে চলছে ‘নিরাপদ আড্ডা’

শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২০ | ৭:৫০ অপরাহ্ণ | 665 বার

বাঁশ ফেলে লকডাউনের নামে চলছে ‘নিরাপদ আড্ডা’
Advertisements

পাবনার চাটমোহর উপজেলাকে ‘লকডাউন’ ঘোষণা করার পর থেকে পৌরশহরসহ উপজেলা প্রতিটি পাড়া-মহল্লার অলিগলি বাঁশ ও গাছ দিয়ে ঘিরে দিয়েছেন এক শ্রেণীর প্রভাবশালী ব্যক্তি। জরুরি প্রয়োজনে বের হতে গেলে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। এছাড়া অসুস্থ হলে হাসপাতালে যেতে বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছেন রোগীরা। বাদ যাচ্ছেন না গণমাধ্যম কর্মী ও জরুরি কাজে যাতায়াতকারী প্রতিষ্ঠানের যানবাহন। আর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা প্রবেশ করতে না পারায় অলিগলিতে চলছে ‘নিরাপদ আড্ডা’। নির্ভয়ে চলছে মাদক সেবন। গোপনে চালানো হচ্ছে চা-স্টল।

সরেজমিন ঘুরে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলায় প্রথম করোনায় আক্রান্ত রোগি শনাক্ত হওয়ার পর স্থানীয় প্রশাসন উপজেলাকে ‘লকডাউন’ ঘোষণা দেয়। এরপর শুক্রবার সকাল থেকে পৌর শহরের অলিগলিতে বাঁশ বাঁধার মহোৎসব শুরু হয়ে যায়। প্রতিটি রাস্তায় গাছের গুড়ি ফেলেও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়। জরুরি প্রয়োজনে বিভিন্ন যানবাহনে যাতায়াতকারীদের নামিয়ে লাঠিশোঠা হাতে এক শ্রেণীর যুবক ও তরুণ তাদের শাসানো শুরু করে। অথচ তার নিজেরাই সুরক্ষিত নয়!

এদিকে বাঁশ দিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা অলিগলিতে মহসমারোহে চলছে ‘নিরাপদ আড্ডা’। বিকেল থেকেই বাসা-বাড়িতে বসানো হচ্ছে চায়ের স্টল। সন্ধ্যার পর রাস্তাঘাট ফাঁকা থাকায় বিভিন্ন এলাকার মাদক সেবনকারীরা এসে মাদক সেবন করছে নির্ভয়ে। সন্ধ্যা ৬টার পর পাড়া-মহল্লার দোকানপাট বন্ধ থাকার নিয়ম থাকলেও যথারীতি সামনে বন্ধ রেখে পেছনের দরজা দিয়ে মালামাল ক্রয়-বিক্রয় করা হচ্ছে। অথচ জরুরি প্রয়োজনে কেউ বের হতে গেলে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন!

ভুক্তভোগী নারিকেল পাড়া মহল্লার সাগর হোসেন জানান, শুক্রবার বিকেলে তার মা আনোয়ারা খাতুন অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে হাসপাতালে নিতে গেলে দেখেন গলির মুখে বাঁশ দিয়ে বেড়া দেয়া। পরে অনেক কষ্টে বাঁশের বাঁধন খুলে একটি ভ্যানে করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু সময় অপচয় হওয়ায় তার মা আরো বেশি অসুস্থ হয়ে পড়েন। অথচ সবাই অলিগলিতে আড্ডা দিচ্ছেন। এছাড়া এরকম ভুক্তভোগী রয়েছেন অসংখ্য মানুষ।

জানতে চাইলে থানার ওসি সেখ নাসীর উদ্দিন জানান, জরুরি প্রয়োজনে বের হওয়া মানুষের সমস্যা তৈরি করে কোনো কিছু করা যাবে না। এ রকম বেশ কয়েকটা অভিযোগ পেয়ে সেখানে পুলিশ পাঠিয়ে প্রতিবন্ধকতা সরিয়ে ফেলা হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে মানুষকে বের হতে দিতেই হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরকার মোহাম্মদ রায়হান বলেন, শুধু মাত্র উপজেলার প্রবেশ ও বাহির পথগুলো বন্ধ করে দিতে বলা হয়েছে। অন্য উপজেলা থেকে কেউ যেন না আসে এ ব্যাপারে স্বেচ্ছাসেবকদের লক্ষ্য রাখতে বলা হয়েছে। অলিগলির ব্যাপারে কোন নির্দেশনা দেয়া হয়নি। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে সেগুলো অপসারণের ব্যবস্থা করবেন বলে জানান তিনি।

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১  
khojkhobor.net-এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

আইটি সাপোর্ট ও ম্যানেজমেন্টঃ Creators IT Bangladesh