টক অব দ্যা চাটমোহর

বক্তা এলেন হেলিকপ্টারে; গেলেন ট্রেনে !

বৃহস্পতিবার, ২৯ নভেম্বর ২০১৮ | ৭:৩৬ অপরাহ্ণ | 1213 বার

বক্তা এলেন হেলিকপ্টারে; গেলেন ট্রেনে !
জনরোষ থেকে বক্তা হাফিজুরকে উদ্ধার করে পুলিশ
Advertisements

পাবনার চাটমোহরে হেলিকপ্টারে চড়ে জালসা করতে এসে চুক্তি অনুযায়ী ওয়াজ না করায় আয়োজক ও মুসল্লীদের জনরোষের শিকার হতে হয়েছে প্রধান বক্তা মাওলানা মো. হাফিজুর রহমান সিদ্দিক (কুয়াকাটা) নামে এক বক্তাকে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে পৌর শহরের বালুচর মাঠে এ ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তাকে ছাড়াই হেলিকপ্টার ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে চলে যায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে হাফিজুর রহমান সিদ্দিককে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

হেলিকপ্টারে চড়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে জালসা করতে যান বলে তিনি হেলিকপ্টার হুজুর নামে পরিচিত। ঘটনাটি টক অব দ্যা চাটমোহরে পরিণত হয়। ‘হেলিকপ্টারে এসে হুজুর গেলেন ট্রেনে’ এমন কথা এখন চাটমোহরের মানুষের মুখে মুখে।

জালসা কমিটি ও স্থানীয়রা জানান, উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের ছোট গুড়াখাড়া-চিরইল-সাড়োরা-ইঁচাখালী সম্মিলিত হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিম খানায় ইসলামী জালসার দিন ছিল বৃহস্পতিবার(২৯ নভেম্বর)। জালসার প্রধান বক্তা মওলানা মো. হাফিজুর রহমান সিদ্দিক (কুয়াকাটা) কে প্রায় এক বছর আগে চুক্তি করে ৫০ হাজার টাকা বায়না দেয় কমিটি।

চুক্তি ছিল জালসার দিন বাদ জোহর থেকে বাদ আসর পর্যন্ত ওয়াজ করবেন। সেই সাথে হেলিকপ্টারে যাওয়ার জন্য ভাড়া বাবদ ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা দিতে হবে। চুক্তি অনুযায়ী জালসা কমিটি হেলিকপ্টারের ভাড়া পরিশোধ করেন।

বৃহস্পতিবার দুপুর সোয়া ২টার দিকে ঢাকা থেকে একটি হেলিকপ্টারে চড়ে পৌর শহরের বালুচর মাঠে নামেন প্রধান বক্তা হাফিজুর রহমান সিদ্দিক।

এরপর আড়াইটার সময় জালসাস্থলে গিয়ে ওয়াজ শুরু করেন। প্রায় চল্লিশ মিনিট ওয়াজ করে মোনাজাত শেষে তড়িঘড়ি করে বালুচর মাঠে এসে হেলিকপ্টারে চড়ার সময় জালসা কমিটি ও মুসল্লীরা বাধা দিলে সেখানে উত্তেজনা শুরু হয়।

এই হেলিকপ্টারে এসেছিলেন বক্তা হাফিজুর সিদ্দিক কুয়াকাটা

এই হেলিকপ্টারে এসেছিলেন বক্তা হাফিজুর সিদ্দিক কুয়াকাটা

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে এবং হাফিজুর রহমান সিদ্দিককে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। এরপর সন্ধ্যায় পুলিশী পাহাড়ায় চাটমোহর স্টেশনে নিয়ে রাজশাহী-ঢাকাগামী আন্তঃনগর পদ্মা এক্সপ্রেস ট্রেনে তাকে তুলে দেয়া হয় তাকে।

জালসা কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব মো. নজরুল ইসলাম বলেন,‘আমরা প্রতি বছর চার গ্রামের মানুষ মিলে বড় জালসার আয়োজন করে থাকি। চুক্তি অনুযায়ী তিনি (হাফিজুর রহমান সিদ্দিক) ওয়াজ না করে দ্রæত সময়ে চলে যাওয়ার সময় স্থানীয় মুসল্লীরা বাধা দেয় এবং ক্ষিপ্ত হয়। তিনি (প্রধান বক্তা) আমাদের সাথে প্রতারণা করেছেন। কোন বছরই কোন বক্তা এমন করেনি। তিনি আমাদের অনেক ক্ষতি করেছেন।’

প্রধানবক্তা হাফিজুর রহমান সিদ্দিকের সাথে যোগাযোগের জন্য তার একান্ত সহকারী (রফিক) মোবাইলে একাধিকবার কল করলেও তিনি রিসিভ না করায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

এ ব্যাপারে চাটমোহর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সেখ মো. নাসীর উদ্দিন  বলেন, ‘ভুল বোঝাবুঝি থেকে জনরোষের সৃষ্টি হয়েছিল। পরে হাফিজুর রহমান সিদ্দিককে উদ্ধার করে চাটমোহর রেলষ্টেশন থেকে ঢাকাগামী পদ্মা এক্সপ্রেস ট্রেনে টিকিট কেটে তুলে দেয়া হয়েছে।’

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
khojkhobor.net-এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

আইটি সাপোর্ট ও ম্যানেজমেন্টঃ Creators IT Bangladesh