চরমপন্থিদের আত্মসমর্পন

পুলিশ গোয়েন্দা সংস্থা যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় দক্ষ : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

মঙ্গলবার, ০৯ এপ্রিল ২০১৯ | ১০:২৮ অপরাহ্ণ | 489 বার

পুলিশ গোয়েন্দা সংস্থা যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় দক্ষ : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
Advertisements

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, বাংলাদেশের পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থা যে কোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় দক্ষ। আজ যারা আত্মসমর্পন করলেন তাদের আইনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা হবে।

মঙ্গলবার (০৯ এপ্রিল) বিকেলে পাবনার শহীদ অ্যাডভোকেট আমিন উদ্দিন স্টেডিয়ামে চরমপন্থিদের আত্মসমর্পন অনুষ্ঠানে প্রধান অথিতির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী আরো বলেন, সরকার চরমপন্থা অনুসরনকারীদের ভাল পথে ফেরার সুযোগ দিয়েছে। যারা আত্মসমর্পণ করলেন, তাদের জন্য প্রধানমন্ত্রী প্রণোদনা দিয়েছেন। যারা এখনও অন্ধকার জগতে রয়েছে তাদের ফিরে আসার আহবান জানিয়েছে তিনি বলেন, তারা যদি ফিরে না আসে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর থাকবে আইন শৃংখলা বাহিনী।

আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, বিগত ১৯৯৯ সালেও আওয়ামীলীগ সরকারের সময়ে ২ হাজার চরমপন্থি সদস্য আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসে। পুলিশ-গোয়েন্দা সংস্থা আর আগের মতো নেই। তারা বর্তমানে জলদস্যু, বনসদ্যু, চরমপন্থি, মাদক সন্ত্রাসীদের দমন করতে সক্ষম। যে কোন ধরণের নাশকতা, সন্ত্রাসী কর্মকান্ড নির্মূলে পুলিশ বাহিনী সোচ্ছার। তিনি বলেন, পাবনার এই অনুষ্ঠানে যে সকল চরমপন্থি আত্মসমর্পণ করলেন, তাদের মধ্যে অনেকেই শিক্ষিত। তাদের যোগ্যতা ভিত্তিত্বে প্রধানমন্ত্রী কর্মসংস্থানের ব্যবস্থার নির্দেশনা দিয়েছেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচকের বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ পুলিশের আইজি ড. জাবেদ পাটোয়ারি (বিপিএম, বার)। তিনি বলেন, পথচ্যুত মানুষদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরাতে কাজ করছে সরকার। বাংলাদেশ পুলিশ তাদের আইনী সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। আইজি বলেন, উগ্রপন্থা ও চরমপন্থা দমনে বাংলাদেশ আজ বিশ্বের কাছে রোল মডেল। আজ যেসব চরমপন্থি আত্মসমর্পন করছে তাদের আইনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সহযোগিতা করা হবে, যাতে তারা মুলস্রোতধারায় ফিরে আসতে পারে।

ভিন্ন বিশ্বাসী, ভিন্ন দর্শনে থাকা, ভিন্ন ভাবে জীবন পরিচালনায় ব্যর্থ হয়েই স্বাভাবিক জীবন নিশ্চিতের তাগিদেই উত্তর -দক্ষিন ও পশ্চিমাঞ্চলের ১৪ জেলার সশস্ত্র ৫৯৫ জন চরমপন্থি নেতা ও সদস্যরা আত্মসমর্পন করেন।

আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে পাবনা, টাঙ্গাইল, যশোর, নড়াইল, সাতক্ষিরা, খুলনা, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, বগুড়া, নাটোর, সিরাজগঞ্জ, রাজশাহী, জয়পুরহাট ও নওগাঁ জেলার ৬১৪ জন নিষিদ্ধ ঘোষিত চরমপন্থি সংগঠন পূর্ববাংলা কমিউনিস্টপার্টি এমএল লালপতাকা, জনযুদ্ধ, সর্বহারা, কাদামাটি পার্টি ও নকশালের আঞ্চলিক নেতা ও সদস্যরা আত্মসমর্পণের কথা থাকলেও অবশেষে ৫৯৫ জন আনুষ্ঠানিক ভাবে আত্মসমর্পণ করেন।

আত্মসমর্পণকালে চরমপন্থিরা বিভিন্ন ধরণের ৬৮ টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ৫৭৫ টি দেশীয় অস্ত্র জমা দেন। বিকেল তিনটায় পাবনার শহীদ আমিন উদ্দিন স্টেডিয়ামে এই আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

পাবনার পুলিশ সুপার শেখ রফিকুল ইসলাম বিপিএম-পিপিএম’র সভাপতিত্বে আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি, পাবনা-১ আসনের সাংসদ অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকু, ভূমি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি, পাবনা-৩ আসনের সাংসদ মকবুল হোসেন, পররাষ্ট্র সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য, পাবনা-৫ আসনের সাংসদ গোলাম ফারুক খোন্দকার প্রিন্স, পাবনা-৪ আসনের সাংসদ শামসুর রহমান শরীফ ডিলু, পাবনা-২ আসনের সাংসদ আহমেদ ফিরোজ কবির, রাজশাহী-৪ আসনের সাংসদ ইঞ্জিনিয়ার এনামূল হক, পাবনা-সিরাজগঞ্জ সংরক্ষিত আসনের সাংসদ নাদিরা আক্তার জলি, পাবনা জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দিন প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে আত্মসমর্পণকারী চরমপন্থিদের প্রতিনিধি হিসেবে বক্তব্য দেন রাজশাহী, নওগাঁ অঞ্চলের দায়িত্বে থাকা নিষিদ্ধ ঘোষিত চরমপন্থি সংগঠন পূর্ববাংলা কমিউনিস্টপার্টি এমএল লালপতাকার আঞ্চলিক নেতা আব্দুর রাজ্জার বাবু ওরফে আর্ট বাবু।

তিনি তার বক্তব্যে বলেন, আমি অতি বামপন্থি সশস্ত্র সংগঠনে জড়িয়ে পড়েছিলাম রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করার সময়ে। শ্রেণিশত্রু খতম, সমাজ বিপ্লব পরিবর্তন, আলোকিত মুক্তির অভিপ্রায় নিয়ে সক্রিয় ভাবেই সংগঠনে জড়িয়ে পড়ি। তাদের রাজনৈতি তত্ব ও কথার সাথে কাজের মিল নেই। এমনটি জানা বোঝার পরও সংগঠন থেকে বের হওয়ার সুযোগ পাচ্ছিলাম না।

বাবু বলেন, সংগঠনের সাথে জড়িত অবস্থায় রাজশাহী কারাগারে যাই। ২০০৮ সালে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচনী ইস্তেহার ঘোষনা করেন। সেখানে চরমপন্থি সন্ত্রাসীদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরলে তাদের স্বাভাবিক জীবন যাপনের সকল সুযোগ সুবিধা দেয়া হবে। এই ঘোষনার পর জেলখানাতেই তিনি অন্যান্য সহকর্মিদের সাথে আলোরপথে ফেরা পরামর্শ করেন। ইতোমধ্যে অনেক স্থানেই এ ধরণের আত্মসমর্পণের আয়োজন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী কথা দিয়ে কথা রেখেছেন এই বিশ্বাসে আস্থাশীল হয়েই আজ অন্ধকারের পথ ছেড়ে আলোরপথে আসার সুযোগ পেয়েছি।

আত্মসমর্পণকারী চরমপন্থি পরিবারের পক্ষে বক্তব্য দেন, পাবনার চরমপন্থি নেতা ইকবাল শেখের স্ত্রী রত্মা খাতুন। তিনি বলেন, আমার স্বামী ভুল করে ভুল পথে গিয়ে বিপথগামী হয়ে পড়েছিল। তার কারণে সমাজে, পরিবারে, আত্মীয় স্বজনের কাছে মুখ দেখাতে পারিনি। বৃদ্ধ মা-বাবা, শ্বশুড় শ্বাশুড়িকে সেবাযত্ম করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছি। আপনার আমাদের পাশে থাকবেন। আমার স্বামীসহ যারা আলোর পথে আসলেন, তারা যেন এই সমাজে স্বাভাবিক ভাবেই জীবন যাপন করতে পারেন।

আত্মসমর্পণের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল আর্থিক প্রণোদনা তুলে দেন, ফরিদপুর-রাজবাড়ী অঞ্চলের লাল পতাকার নেতা আনোয়ার হোসেন, পাবনার সর্বহারা নেতা মোবারক হোসেন, ফরিদপুর-পাবনার সর্বহারা নেতা ইউসুফ ফকির ওরফে মিন্টু ফকির, সিরাজ সিকদার গ্রুপের মনসুর ওরফে স্বপন, সিরাজগঞ্জ-নাটোর-রাজশাহী-নওগাঁ-বগুড়া অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত লালপতাকার নেতা আবু তালেব শেখ, সিরাজগঞ্জের লাল পতাকার নেতা আব্দুল আলীম, পাবনার লাল পতাকার নেতা বাবলু ব্যাপারী, বিএনপি জামাত সমর্থিত ইকবাল শেখ, নাটোর-রাজশাহী-নওগাঁ-চাপাইনবাবগঞ্জ অঞ্চলের লাল পতাকার নেতা আব্দুর রাজ্জাক বাবু ওরফে আর্ট বাবু, সর্বহারা নেতা আতাউর রহমান ওরফে মোশারোফ, বগুড়া-নওগাঁ অঞ্চলের লাল পতাকার নেতা মহসিন আলম, নিউ বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টি খুলনা-সাতক্ষিরা ও যশোর অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা ফারুক মোল্লা, একই সংগঠনের আব্দুল্লাহ আল মামুন, লিপু ব্যাপারী ও জয়পুরহাটের কাদামাটি সংগঠনের রমজান আলী সর্দারের হাতে।

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  
khojkhobor.net-এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

আইটি সাপোর্ট ও ম্যানেজমেন্টঃ Creators IT Bangladesh