পুলিশের সামনে হামলার শিকার যুবক ; তদন্তে ৩ সদস্যের কমিটি

মঙ্গলবার, ২১ জানুয়ারি ২০২০ | ৮:১৯ অপরাহ্ণ | 504 বার

পুলিশের সামনে হামলার শিকার যুবক ; তদন্তে ৩ সদস্যের কমিটি
Advertisements

পাবনায় ধর্ষণ মামলায় পুলিশকে সহযোগিতা করতে গিয়ে উল্টো পুলিশের সামনে প্রতিপক্ষের হাতে মারধরের শিকার হলেন আব্দুল আলীম (৩৬) নামের এক যুবক। হামলার ঘটনার সিসিটিভির ফুটেজ ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। তবে ভুক্তভোগী যুবকের অভিযোগ, পুলিশ ও স্থানীয়দের উপস্থিতিতে তার ওপর হামলা হলেও তাকে রক্ষায় কেউ এগিয়ে আসেনি। ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে পুলিশ।

এ ঘটনায় জড়িত দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো-সদর উপজেলার মনোহরপুর গ্রামের তেজেম প্রামানিকের ছেলে আশররাফ হোসেন (৪৫) ও দারোগ আলীর ছেলে তোফাজ্জল হোসেন (৪২)।

সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, গত ২০ ডিসেম্বর সদর উপজেলার গোপালপুর গ্রামে স্বামী পরিত্যক্তা এক নারী ধর্ষণের শিকার হয়। এ ঘটনায় ২২ ডিসেম্বর সদর থানায় মালিগাছা ইউপি চেয়ারম্যানসহ শরিফুল ইসলামসহ আটজনকে আসামী করে মামলা দায়ের করে ভুক্তভোগী নারীর পরিবার। এই মামলা তদন্ত করতে গত ১৭ জানুয়ারি সন্ধ্যায় গাছপাড়া বাজারে যান সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) খাইরুল ইসলাম ও এক কনস্টেবল।

সেখানে মামলার স্বাক্ষ্য গ্রহণে সহযোগিতা করতে এগিয়ে আসে স্থানীয় নুরপুর এলাকার যুবক আব্দুল আলীম। গাছপাড়া বাজারের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বসে আলীমসহ কয়েকজনের মামলার বিষয়ে কথা বলছিলেন পরিদর্শক (তদন্ত) খাইরুল ইসলাম। এ সময় ধর্ষণ মামলার আসামী ইউপি চেয়ারম্যানপক্ষের আরিফ, হেলাল, আশরাফ সহ অন্যরা অতর্কিত আলীমের ওপর হামলা চালিয়ে এলোপাথারী মারধর করে। পরে তাকে উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসাপাতালে ভর্তি করা হয়। হামলার ঘটনার সিসিটিভির ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার ঝড় ওঠে।

ফুটেজে দেখা যায়, ঘটনাস্থল থেকে বেরিয়ে যাচ্ছেন পরিদর্শক (তদন্ত) খাইরুল ইসলাম ও কনস্টেবল। তারপরই আলীমকে মারধর শুরু করে হামলাকারীরা। বেশকিছু সময় তাকে লাঠিশোঠা, লোহার রড দিয়ে মারধর করে দুই পা ভেঙ্গে দেয়া হয়।

আহত যুবক আলীম জানান, ধর্ষণ মামলায় পুলিশকে সহযোগিতা করতে গিয়ে আমি হামলার শিকার হয়েছি। ওসি (তদন্ত) খাইরুল ইসলাম ধর্ষণ মামলায় স্বাক্ষী খুঁজে দিতে আমার সহযোগিতা চেয়েছিলেন। আমি তার কথায় সহযোগিতা করতে কয়েকজন স্বাক্ষীকে ডেকে নিয়ে ওইদিন বসে কথা বলছিলাম। এমন সময় আমার ওপর হামলা হয়। আলীম বলেন, আমার কষ্ট হলো, যার কথায় তাকে সহযোগিতা করতে এগিয়ে আসলাম, কিন্তু তিনি আমাকে রক্ষায় এগিয়ে না এসে চলে যান।

আহত আলীমের স্ত্রী রুমা খাতুন জানান, পুলিশ অফিসার আমার স্বামীকে সহযোগিতা করার জন্য মোবাইলে ডেকে নিয়ে যান। কিন্তু তার উপস্থিতিতে হামলা হলো অথচ তিনি কোনো ভূমিকা নিলেন না। হামলায় জড়িতদের শাস্তির দাবি জানান রুমা খাতুন।

পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস জানান, ঘটনার পর অভিযানে নামে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। আহত যুবকের স্ত্রী রুমা খাতুন বাদি হয়ে দশজনকে আসামী করে সোমবার রাতে মামলা দায়েরে করেন। এরপর অভিযান চালিয়ে দুই আসামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গৌতম কুমার বিশ্বাস আরো জানান, এ ঘটনায় পুলিশের গাফিলতি ছিল কিনা সেটি তদন্তে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বিশেষ শাখা) শামীমা আক্তারকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে সাতদিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) খাইরুল ইসলাম জানান, মামলার স্বাক্ষীর বিষয়ে কথা শেষ করে চলে আসার পর আলীমের ওপর হামলা হয়। কিছু দূরে যাওয়ার পর লোকজনের দৌড়াদৌড়ি দেখে তাৎক্ষনিক বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানাই এবং আশপাশে থাকা পুলিশের মোবাইল টিমকে খবর দেই। পরে আহত আলীমকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায় স্থানীয় লোকজন।

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
khojkhobor.net-এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

আইটি সাপোর্ট ও ম্যানেজমেন্টঃ Creators IT Bangladesh