উর্বরতা হারাচ্ছে কৃষি জমি

পাবনায় অবৈধ কারখানার বর্জ্য দূষণে জনজীবন দুর্বিষহ

সোমবার, ২৫ মার্চ ২০১৯ | ৭:১০ অপরাহ্ণ | 478 বার

পাবনায় অবৈধ কারখানার বর্জ্য দূষণে জনজীবন দুর্বিষহ
আবাসিক এলাকায় অবৈধ কারখানার বর্জ্য দূষণে দূর্বিষহ পাবনার সুজানগরের কাঁচুরী গ্রামের মানুষের জনজীবন
Advertisements

আবাসিক এলাকায় অবৈধভাবে গড়ে উঠা সুতা প্রসেসিং কারখানার বর্জ্য দূষণে জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে। এছাড়া একদিকে কারখানটির কেমিক্যাল মিশ্রিত বিষাক্ত পানিতে কৃষি আবাদি জমির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে। নানা রঙের কেমিক্যাল মিশ্রিত জলাবদ্ধ পানির পচা গন্ধ ছড়ানোর পাশাপাশি মশা মাছির ভাগারে পরিণত হয়েছে।

ফলে বাতাসে বিষের গন্ধ নিয়ে বসবাস করছেন পাবনার সুজানগর উপজেলার সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের কাঁচুরী গ্রামের মানুষ। এই সমস্যার সমাধানে দ্রæত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

স্থানীয়রা বলেছেন, সরকারি জায়গায় সরকারি অনুমতি ছাড়াই মামা-ভাগ্নে প্রসেসিং এন্ড ডাইং এর বর্জ্য দূষণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ ব্যাপারে কাঁচুরী গ্রামের ভুক্তভোগী জনসাধারণ প্রতিকার চেয়ে গত ২১ মার্চ পাবনা জেলা প্রশাসক, নির্বাহী প্রকৌশলী পানি উন্নয়ন বোর্ড, পরিবেশ অধিদপ্তর ও সুজানগর উপজেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, দীর্ঘ ৫ বছর ধরে একই গ্রামের মৃত আব্দুস ছামাদ খানের ছেলে শাহীন হোসেন খান, স্থানীয় জনগণের নিষেধ না মেনে প্রভাব খাটিয়ে আবাসিক এলাকায় ও সরকারি পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গায় সরকারের বিনা অনুমতিতে অবৈধভাবে মামা-ভাগ্নে প্রসেসিং এন্ড ডাইং কারখানা পরিচালনা করে আসছে। সুতা প্রসেসিং এর দু’টি কারখানা রয়েছে সেখানে। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই কারখানা দুটি চালাচ্ছেন শাহীন খান।

একটি আবাসিক এলাকায় এবং কৃষি জমি সংলগ্ন অপরটি মাছ চাষের নামে লিজ গ্রহণ করে পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গার উপরে কারখানা গড়ে তুলেছেন তিনি। কারখানা দুটি কাঁচুরী গ্রামে গড়ে উঠার পর থেকে কারখানার কেমিক্যাল বর্জ্য পদার্থের সাথে মারাত্মক দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।

এ বিষয়ে কেউ প্রতিবাদ করলে তাদেরই ভয় ভীতি প্রদর্শন করা হয় এমন অভিযোগ উঠেছে। আবাসিক এলাকায় অবৈধ কারখানা দু’টিতে বেশকিছু কর্মচারী থাকার ফলে এলাকার সামাজিক পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে। বহিরাগত ব্যক্তিদের অবাধ যাতায়াতে স্থানীয় নারীরা প্রায়ই ইভটিজিং এর শিকার সহ নানা সমস্যায় পড়ছে।

এ ব্যাপারে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি শামীম হোসেন বলেন, পরিবেশ দূষণ হচ্ছে এটা আমিও জানি, আমার কাছে এলাকার মানুষ এ নিয়ে বহুবার বাদি হয়েছে। তারা অভিযোগ করেছে, কিন্তু আমি তাদের বলেছি আপনারা জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ করেন কারণ আমার ক্ষমতা সীমিত। আমি ডাকলে কারখানার মালিক আসে না।

স্থানীয় ভুক্তভোগী আব্দুল লতিফ খান বলেন, কারখানার বিষাক্ত কেমিক্যালের গন্ধে বাড়িতে বসবাস করা দায় হয়ে পড়েছে। রাস্তাঘাটে চলাচল করাও অসুবিধা, সর্বোপরি মশার উপদ্রব। আমি মনে করি মিলটি প্রশাসনের সহায়তায় অতি জরুরি অপসারণ করা দরকার।

স্থানীয় কৃষক বিল্লাল শেখ বলেন, শাহীন হোসেন এর কারখানার কেমিক্যালের বিষাক্ত পানি আমার ইরি ধানের ক্ষেতে ঢুকে পড়ে। ধীরে ধীরে আমার ক্ষেতের ঊর্বরতা শক্তি হারিয়ে যায়। বর্তমানে ক্ষেতে আর কোন ফসল জন্মাতে পারি না। একই অবস্থা বিরাজ করছে পাশের একটি পেঁয়াজের ক্ষেতে। কারখানাটি অপসারণ না করা গেলে ধীরে ধীরে বহু ফসলের ক্ষেত নষ্ট হয়ে যাবে। হারিয়ে যাবে উর্বর ক্ষমতা অচিরেই।

শাহীন হোসেন খান এর কেমিক্যালের বিষাক্ত পানির পচা গন্ধ ও মশার ভাগার সর্ম্পকে স্থানীয় ডালিয়া ও হাসনা নামের বয়স্ক বৃদ্ধা বলেন, রান্নার সময়, শোবার সময়, গরম ভাত খাবার সময় এমনকি ঘুমের ভেতর, এভাবেই ২৪ ঘন্টা জুড়ে মনে হয় কেমিক্যাল খাচ্ছি। এভাবে কি বেঁচে থাকা যায়। দেখারও কি কেউ নেই!

কোম্পানীর মালিক শাহীন হোসেন খান অবৈধভাবে প্রতিষ্ঠান চালানোর কথা স্বীকার করে বলেন, আমি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এর অনুমতি নিয়ে প্রতিষ্ঠান চালাচ্ছি। চেয়ারম্যানের এক সার্টিকেট নিয়ে দুই জায়গায় চালালে সমস্যা কি? কেমিক্যাল দিয়ে কোম্পানী চালাতে সরকারি অনুমোদন লাগে জানতাম না। তিনি আরো বলেন, সরকারি জায়গা মাছ চাষের জন্য লিজ নেয়া আছে ওখানে একটি কারখানা আছে তবে এর জন্য আলাদা সার্টিফিকেট লাগলে জোগাড় করব। তিনি আরো বলেন, শত্রæতাবশত আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে। আমার কারখানা চালানোর জন্য এলাকায় তেমন কোন সমস্যা হচ্ছে না।

এ ব্যাপারে পাবনা জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দিন বলেন, সুজানগর সাতবাড়ীয়া এলাকার কাচুরী গ্রামে অবৈধভাবে কেমিকেল দিয়ে কারখানা চালানোর অভিযোগটি পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
khojkhobor.net-এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

আইটি সাপোর্ট ও ম্যানেজমেন্টঃ Creators IT Bangladesh