পাকশীতে রেলওয়ের জমি অধিগ্রহণ না করার দাবিতে মানববন্ধন

বৃহস্পতিবার, ৩১ জানুয়ারি ২০১৯ | ৯:০১ অপরাহ্ণ | 644 বার

পাকশীতে রেলওয়ের জমি অধিগ্রহণ না করার দাবিতে মানববন্ধন
এলাকাবাসীর মানববন্ধন
Advertisements

শত বছরের পুরনো ঐতিহ্যময় এলাকা পাবনার ঈশ্বরদীর পাকশীর অস্তিত্ব রক্ষার দাবিতে এখন উত্তাল পাকশী। বৃহস্পতিবার সকালে নারী-শিশুসহ সকল বয়সী কয়েক হাজার মানুষ পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে অফিস ঘেরাও করে প্রায় দুই ঘন্টাব্যাপী বিক্ষোভ সমাবেশ, মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করেছে। এসময় বক্তারা জীবন দিয়ে হলেও শত বছরের ঐতিহ্যবাহী জনপদ পাকশীকে রক্ষা করবেন বলে ঘোষণা দেন।

পাকশী রেলওয়ে বিভাগীয় কার্যালয়ের সামনে রেলওয়ে ফুটবল মাঠে ‘পাকশীর অস্তিত্ব রক্ষা কমিটি’র আয়োজনে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন কমিটির আহবায়ক মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুল ইসলাম হব্বুল।

বক্তব্য দেন প্রবীণ অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ, পাকশীর চেয়ারম্যান এনামুল হক বিশ্বাস, শ্রমিকনেতা মোহাম্মদ রশিদুল্লাহ্, পাকশী আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ছাইফুল আলম বাবু মন্ডল, অধ্যক্ষ মোস্তফা ইমরুল কায়েস পারভেজ, প্রেসক্লাবের সভাপতি স্বপন কুমার কুন্ডু, অধ্যক্ষ আখতার আনজাম হোসেন ডন, সাংবাদিক মাহাবুবুল হক দুদু, সেলিম সরদার, রেল শ্রমিকলীগের সম্পাদক নজরুল ইসলাম, যুবলীগ সভাপতি আনোয়ার হোসেন, সাবেক ইউপি মেম্বার ও জাসদ নেতা জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ।

মানববন্ধনে হরিজন সম্প্রদায়ের নারীরা বলেন, আমরা মেথর সে কারণে আমাদের কেউ বাসা ভাড়া দেয়না, আমোদের নিজের কোন জমি নেই, এখন যদি রেলের এসব বাড়ি-ঘর ভেঙে দেওয়া হয় তবে আমরা কোথায় যাবো ? ১০৮ বছর বয়সী নারী মাহমুদা বেগম বলেন আমার জন্ম এই পাকশীতে এই পাকশীতেই আমি মরতে চাই।

একইভাবে পাকশী রেলওয়ে কলেজ, বিপিএড কলেজ, পাকশী রেলওয়ে সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়সহ সরকারী-বেসরকারী বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শত শত শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবকরাও পাকশীর অস্তিত্ব রক্ষার আন্দোলনে এসে বক্তব্য দেন।

প্রসঙ্গত, শত বছরের পুরনো ঐতিহ্যময় এলাকা ঈশ্বরদীর পাকশীতে ঘরবাড়ি ও রেলের অফিস-আদালত ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হারানোর আতঙ্কে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন পাকশীবাসী। পাকশী রেলওয়ে বাজার, হাসপাতালের সামনের এলাকাসহ প্রায় ১ লাখ জনগন অধ্যুষিত পাকশীর বিস্তীর্ণ এলাকা অধিগ্রহণ করা হবে বলে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের ঘোষনায় এই আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। শতবর্ষের প্রাচীন জনপদ পাকশীর সব মানুষ এখন তাদের আবাসন, ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান ও কর্মস্থল হারানোর ভয়ে উদ্বিগ্ন সময় কাটাচ্ছেন।

পাকশী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা হবিবুল ইসলাম হব্বুল জানান, এসব জমি অধিগ্রহণ করা হলে এই ইউনিয়নের ২টি ওয়ার্ডের বেশিরভাগ জনবসতি এবং ২টি মৌজাও বিলুপ্ত হয়ে যাবে।

বিভাগীয় রেলওয়ে ভূ-সম্পত্তি কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, রূপপুর প্রকল্পের নিরাপত্তার জন্য চাওয়া এসব জমির মধ্যে পাকশী পদ্মা নদীতে ২য় রেলসেতুর জন্য প্রয়োজনীয় ১১৪ দশমিক ৪৮ একর জমি ছাড়াও ডিআরএম পাকশীর দপ্তর, ১৫টি বিভাগীয় রেলওয়ে কর্মকর্তার কার্যালয়, বিভাগীয় ট্রেন কন্ট্রোল অফিস, রেলওয়ে জেলার পুলিশ সুপারের কার্যালয়, রেলওয়ে পুলিশ লাইনস, রেলওয়ে হাসপাতাল, পোষ্ট অফিস, স্কুল-কলেজসহ অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং প্রায় ১ হাজার শতবর্ষী বিশালাকৃতির গাছ রয়েছে।

পাকশীর রেললাইন থেকে ইপিজেড পর্যন্ত জায়গার মধ্যে পাকশী রেলওয়ে কলেজ, পাকশী বাজার, বাবু পাড়া, ব্যারাক পাড়া, মেরিন পাড়া, পাকশী এমএস কলোনী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, বিপিএড কলেজ, পাকশী রেলওয়ে সরকারী বালিকা বিদ্যালয়, পাকশী রিসোর্ট, পাকশী রেলওয়ে হাসপাতালের সামনের জায়গাসহ আশেপাশের বিভিন্ন এলাকার বাড়ি-ঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, রেলওয়ে অফিসের কিছু অংশ পর্যন্ত প্রায় ৭০৬ একর জমির সকল স্থাপনা উচ্ছেদ করে সেখানে রূপপুর প্রকল্পের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় স্থাপনা গড়ে তোলা হবে বলে রেল এবং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্পের বিস্বস্থ সূত্রে জানা গেছে।

পাকশীর হাজার হাজার মানুষ সরকারকে মানবিক বিষয় আমলে নিয়ে নতুনভাবে ভাবতে অনুরোধ জানিয়ে ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী বরাবর আবেদন জানিয়েছেন।

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
khojkhobor.net-এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

আইটি সাপোর্ট ও ম্যানেজমেন্টঃ Creators IT Bangladesh