বিপদসীমার ১ সেন্টিমিটার দুরে পানি

পাকশীতে চিরচেনা রুপে পদ্মা ; তলিয়ে গেছে ফসলি জমি

সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ৫:২৪ অপরাহ্ণ | 507 বার

পাকশীতে চিরচেনা রুপে পদ্মা ; তলিয়ে গেছে ফসলি জমি
Advertisements

পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশীতে বেশ কয়েক বছর পর এবার বাড়ছে পদ্মা নদীর পানি। পাকশী হার্ডিঞ্জ ব্রিজ এলাকায় পানির স্রোতের তীব্রতায় প্রাণ ফিরে পেয়েছে এক সময়ের প্রমত্তা পদ্মা। যেন চিরচেনা রুপে দেখা মিলেছে পদ্মার।

গত শনিবার পর্যন্ত পাকশী হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পদ্মা নদীর পানি বিপদসীমার মাত্র এক সেন্টিমিটার দুরে প্রবাহিত হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা বলেছেন, পানি আরো বাড়বে এবং বিপদ সীমা অতিক্রম করার সম্ভাবনাও রয়েছে।

ওইদিন পাকশী পদ্মায় পানির উচ্চতা ছিল ১৩ দশমিক ৫৯ সেন্টিমিটার। এখানে বিপদসীমার মাত্রা ১৪ দশমিক ২৫ সেন্টিমিটার।

সরেজমিন পদ্মা নদীর পাকশী হার্ডিঞ্জ ব্রিজ এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, হার্ডিঞ্জ ব্রিজের ১৫টি স্প্যানের নিচে এখন পানিতে পরিপূর্ণ। পানি পৌঁছে গেছে নদী শাসন বাঁধ (গাইড ব্যাংক) পর্যন্ত। অথচ এক মাস আগেও ১৫টি স্প্যানের ৮টির নিচেই পানি ছিল না।

বেশ কয়েক বছর পর পাকশী পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধির খবর পেয়ে অনেকে পানি দেখতে ছুটে আসছেন হার্ডিঞ্জ ব্রিজের কাছে। কয়েক বছর আগে হার্ডিঞ্জ ব্রিজের নিচে যে সমস্ত অস্থায়ী দোকানপাট গড়ে উঠেছিল সেগুলোও সরিয়ে ফেলা হয়েছে। প্রমত্তা পদ্মার তীব্র স্রোত ও পানির তীব্রতা দেখতে প্রতিদিন শত শত মানুষ পদ্মা পাড়ে ভিড় জমাচ্ছেন।

পানি বাড়ার কারণে পদ্মার চরে জেগে উঠা সাঁড়া ইউনিয়নের সাহেবনগর ও মোল্লার চর গ্রামের বসতি সরিয়ে ফেলা হয়েছে। স্রোতের তীব্রতায় চরের অধিকাংশ ফসলি জমি নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। এছাড়াও  পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সাঁড়া, পাকশী  ও লক্ষীকুন্ডা ইউনিয়নের পদ্মা নদীর তীরবর্তী ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে।

সাঁড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এমদাদুল হক রানা সরদার জানান, নদীতে পানি বেড়েছে। নদী শাসন  বাঁধ থাকায় ভাঙ্গনের কবল থেকে এলাকাবাসী রক্ষা পেয়েছে। স্রোতের তীব্রতা বেশি থাকলেও নদী শাসন বাঁধের কোথাও কোন ক্ষয়-ক্ষতি হয়নি। পানি বেড়ে যাওয়ায় নদীর মধ্যবর্তী চরে গড়ে উঠা বসতি সরিয়ে ফেলা হয়েছে। নদীর তীরে যেসব আবাদি জমি ছিল তা তলিয়ে গেছে। এতে কৃষকরা বেশ ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে বলে জানান তিনি।

লক্ষীকুন্ডা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জিয়াউল ইসলাম জিয়া জানান, পদ্মার পানি বৃদ্ধি দ্রুত বাড়ছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে চরাঞ্চলের ফসলি জমি ডুবে যাওয়ার আশংকা রয়েছে।

পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী এস এম আহসান হাবিব বলেন, পদ্মার পানি প্রতিদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। হার্ডিঞ্জ ব্রীজ পয়েন্টে পানির উচ্চতা এখন ১৩ দশমিক ৫৯ সেন্টিমিটার। এখানকার বিপদসীমা হচ্ছে ১৪ দশমিক ২৫ সেন্টিমিটার।

এদিকে পদ্মায় পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় পাকশীর হার্ডিঞ্জ ও লালন শাহ সেতু এলাকা, আরামবাড়িয়া স্কুল সংলগ্ন এলাকা ও সাঁড়ার বাঁধ এলাকায় প্রতিদিনই শত শত মানুষ পদ্মার পানি দেখার জন্য ভিড় জমাচ্ছেন।

পাকশী হার্ডিঞ্জ ব্রিজ এলাকার নৌকার মাঝি বিমল জানায়, এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে পদ্মার পানি বেড়েই চলেছে। বেশ কয়েক বছর পর এবার পদ্মায় বেশি পানি দেখা যাচ্ছে। পাকশী হঠাৎপাড়ার বাসিন্দা আমির হোসেন (৭০)  জানান, বহু বছর পর পদ্মা নদীতে এতো পানি দেখলাম।

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  
khojkhobor.net-এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

আইটি সাপোর্ট ও ম্যানেজমেন্টঃ Creators IT Bangladesh