‘ভোট আসলি পারে ভাতার কার্ড কইরে দিবি কয়’

বাকপ্রতিবন্ধী তিন ভাইবোন, ভাতা পান একজন!

সোমবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ১১:৫৫ অপরাহ্ণ | 944 বার

বাকপ্রতিবন্ধী তিন ভাইবোন, ভাতা পান একজন!
Advertisements

বাকপ্রতিবন্ধী তিন ভাই-বোন ফজলু সরকার (৫০), খুশি খাতুন (৪৭) ও রত্না খাতুন(৪০)। বাবা জয়নাল আবেদিনও ছিলেন বাকপ্রতিবন্ধী। ২০০১ সালে তিনি মারা যাওয়ার পর সংসারের দায়িত্ব এসে পড়ে ফজলুর ওপর। এখন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি তিনি। বৃদ্ধ মা রাবেয়া বেগম (৬৫), ছেলে নূর মোহাম্মদ ও মেয়ে লিমা পারভীনকে নিয়ে বাস তাদের।

পাবনার চাটমোহর উপজেলার নিমাইচড়া ইউনিয়নের ধানকুনিয়া গ্রামের নিদারুণ কষ্টে বাস করে পরিবারটি। এরমধ্যে খুশি খাতুন ভাতার কার্ড পেলেও ভাতা জোটেনি অন্য দু’ই ভাইবোনের এবং তাদের বৃদ্ধ মা রাবেয়া বেগমের।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, ফজলু সরকার ঈশ্বরদীতে চাতাল শ্রমিকের কাজ করেন। বর্ষার সময় কাজ না থাকায় বেশিরভাগ সময় বাড়িতে বসে কাটাতে হয়। বাকপ্রতিবন্ধী বলে খুশি ও রত্না’র বিয়ে ভেঙ্গেছে বহুবার।

বড় ভাই ফজলু সরকার এখন তাদের ভরসা। ফজলুর স্ত্রী নূরজাহান বেগম সংসারের এমন করুণ অবস্থা দেখে চট্টগ্রামে গিয়ে গার্মেন্টস-এ কাজ করেন। পরিবারের সাথে নেই কোন যোগাযোগ। ছোট ভাই চাঁদ সরকারও পৃথক হয়েছেন বহুদিন আগে! তবে শত কষ্টের মাঝেও ছেলে-মেয়েকে লেখাপড়া শেখাতে কার্পণ্য করেননি ফজলু সরকার।

ছেলে নূর মোহাম্মদ পাবনা পলিটেকনিক ইনিসস্টিটিউটে পাওয়ার টেকনোলজির শেষ বর্ষের ছাত্র। আর মেয়ে লিমা পারভীন ধানকুনিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্র। বাকপ্রতিবন্ধী ফজলু যা আয় করেন তা দিয়ে নিদারুণ কষ্টে জীবনযাপন করে পরিবারটি। কয়েকবছর আগে খুশি খাতুনকে একটি ভাতার কার্ড করে দিয়েছিলেন স্থানীয় ইউপি সদস্য।

তবে ভাতা বঞ্চিত রয়ে গেছেন ফজলু সরকার, তার বয়স্ক মা রাবেয়া বেগম এবং অপর বাকপ্রতিবন্ধী বোন রত্না খাতুন। এদিকে ফজলু সরকার টাকা পাঠাতে না পারলে মেস ভাড়া ও খাবার টাকা দিতে না পারায় বাড়িতে বসেই দিন কাটাতে হয় তার ছেলে নূর মোহাম্মদকে।

ফজলু সরকারের বাড়িতে গেলে তিনি ইশারায় তার কষ্টের কথা এই প্রতিবেদককে বোঝানোর চেষ্টা করছিলেন। এ সময় তাঁর মা রাবেয়া খাতুন বলেন, ‘বোবা দুই মিয়েক বিয়্যা দিবের পারল্যম না। তারেও বয়েস বাইড়ে গ্যালো। বড় ছাওয়ালও (ফজলু) কথা বলব্যার পারে না। আমার কপালডাই খারাপ। ভোট আসলিই চেয়ারম্যান-মেম্বররা ভাতার কার্ড কইরে দিবি কয়, কিন্তুক পরে আর খবর লেয় না। এখন নাতিই ভরসা।’

অসহায় পরিবারটির ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সরকার অসীম কুমারকে এই প্রতিবেদকের পক্ষ থেকে অবগত করা হলে তিনি বলেন, ফজলু সরকার ও তার পরিবারের সদস্যদের ব্যাপারে খোঁজখবর নিয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব রকমের সহযোগিতা করা হবে।

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  
khojkhobor.net-এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

আইটি সাপোর্ট ও ম্যানেজমেন্টঃ Creators IT Bangladesh