দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগ

শুক্রবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০১৮ | ৫:১০ অপরাহ্ণ | 484 বার

দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগ
প্রতিকী ছবি
Advertisements

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে ওই বিদ্যালয়ের দপ্তরী কাম নৈশ প্রহরীর বিরুদ্ধে। গত সোমবার (০৩ ডিসেম্বর) সকালে পার-ভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের পাটুলীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঘটনাটি ঘটে।

এরপর ওই শিক্ষার্থীর মা স্কুলে এসে মৌখিক অভিযোগ দেন। তবে বিষয়টি জানাজানি হয় বৃহস্পতিবার। অভিযুক্ত নৈশ প্রহরী মো. শরিফুল ইসলাম ওই এলাকার গোলজার প্রামানিকের ছেলে। তিনি এক সন্তানের জনক।

এদিকে বিষয়টি এলাকায় জানাজানির পর এলাকাজুড়ে চলছে সমালোচনা ঝড়। তবে ঘটনার পর বৃহস্পতিবার স্থানীয় প্রভাবশালীদের চাপে শিক্ষার্থীরা পরিবার মৌখিক অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেন।

স্থানীয় ও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন শারীরিক শিক্ষা পরীক্ষা থাকায় দ্বিতীয় শ্রেণীর ওই ছাত্রী সবার প্রথমে স্কুলে আসে। এরপর দপ্তরী শরিফুল ইসলাম তাকে শ্রেণীকক্ষের টেবিল পরিস্কার করতে বলে। টেবিল পরিস্কার করার সময় আচমকা ওই শিক্ষার্থীকে একা পেয়ে জাপটে ধরে শ্লীলতাহানির চেষ্টা চালায় সে।

এ সময় ওই ছাত্রী চিৎকার দিয়ে শ্রেণীকক্ষ থেকে বের হয়ে বাড়ি ফিরে ঘটনাটি তার মাকে খুলে বলে। পরে ওই শিক্ষার্থীর মা তাতক্ষণিক বিদ্যালয়ে এসে প্রধান শিক্ষককে না পেয়ে অন্য শিক্ষকদের কাছে মৌখিক অভিযোগ দেন। পরে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে অভিযুক্ত শরিফুল স্থানীয় প্রভাবশালীদের দ্বারস্থ হয় এবং তাদের ভয়ে ওই শিক্ষার্থীর পরিবার অভিযোগ ফিরিয়ে নিয়েছেন বলে একাধিক সূত্র জানায়।

ঘটনার ব্যাপারে জানতে চাইলে অভিযুক্ত নৈশ প্রহরী কাম দপ্তরী শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘ওই শিক্ষার্থীর মা গত সোমবার স্কুলে এসে মৌখিক অভিযোগ দেওয়ার পর বৃহস্পতিবার অভিযোগ প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। গ্রামের প্রতিপক্ষরা আমাকে ফাঁসানোর জন্য এমন কৌশল অবলম্বন করেছে। বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা হওয়ায় আমি লজ্জিত।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষিকা কানিজ ফাতেমা মায়া বলেন, ‘ঘটনার দিন আমি ছুটিতে ছিলাম। পরে এসে শুনেছি ওই শিক্ষার্থীর মা মৌখিক অভিযোগ দিয়েছেন। তাদেরকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছিল। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে বৃহস্পতিবার অভিযোগ প্রত্যাহার করে নিয়ে গেছে।’ বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

তবে উপজেলা শিক্ষা অফিসার খ.ম. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। লিখিত অভিযোগ পেলে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেব।’

ভাঙ্গুড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. মাছুদুর রহমান জানান, ‘বিষয়টি আমি শুনেছি। শিক্ষা অফিসারকে এ ব্যাপারে খোঁজ নিতে বলেছিলাম। লিখিত অভিযোগ পেলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  
khojkhobor.net-এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

আইটি সাপোর্ট ও ম্যানেজমেন্টঃ Creators IT Bangladesh