স্ত্রীর অজান্তে তাদের তালাক দেওয়া বন্ধ করতে নতুন আইন জারি করল সৌদি আরব। এরআগে সৌদি পুরুষরা মৌখিকভাবে তালাক চাওয়ার পর আদালতে গেলে স্ত্রীকে না জানিয়েই বিবাহবিচ্ছেদ চূড়ান্ত করতে পারতেন।
তবে রবিবার থেকে কার্যকর হওয়া বিধির আওতায় বিবাহবিচ্ছেদ চূড়ান্ত করে দেওয়ার নিয়ম স্ত্রীর কাছে মোবাইলে মেসেজ মারফত পাঠাতে হবে আদালতকে। এর মধ্য দিয়ে স্ত্রীকে না জানিয়ে স্বামীদের গোপনে বিবাহবিচ্ছেদ চূড়ান্ত করার প্রবণতা বন্ধ হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় মহিলা আইনজীবীরা। খবর ভারতীয় গণমাধ্যম।
সৌদির আইনজীবীরা জানিয়েছেন, এই আইনের মাধ্যমে সৌদি মহিলারা বিচ্ছেদের পর স্বামীর কাছ থেকে খোরপোষ নিশ্চিত করতে পারবেন। ইসলামী আইনে পরিচালিত সৌদি আরবে শরীয়ার যে ব্যাখ্যা দাঁড় করানো হয়, তাতে পুরুষরা মৌখিকভাবে তালাক উচ্চারণের মধ্য দিয়ে বিবাহ বিচ্ছেদের ইচ্ছা প্রকাশ করলেই আদালত তা অনুমোদন করে। এক্ষেত্রে মহিলাদের মতামতের কোনও সুযোগ নেই।
তাদের মতামত তাই নেওয়াও হয় না। কেবল বিচ্ছেদই নয়, পুরুষ চাইলে আবার তালাক দেওয়া মহিলার সঙ্গে সম্পর্ক পুনঃস্থাপনও করতে পারে মৌখিক ইচ্ছা প্রকাশ করার মধ্য দিয়েই।
অন্যদিকে, মহিলার জন্য পুরুষকে তালাক দেওয়ার বিধান সৌদিতে খুবই শক্ত। এজন্য তাদের বিচ্ছেদের হাজার রকমের কারণ জানানোর পাশাপাশি নিপীড়নের প্রমাণও আদালতে দিতে হয়। মহিলার অজান্তে তাকে তালাক দেওয়ার বিধান জারি থাকায় সৌদি পুরুষরা আগের স্ত্রীকে কিছু না জানিয়েই আবারও বিয়ে করার সুযোগ নিয়ে থাকেন। এতে তালাকপ্রাপ্ত মহিলারা খোরপোষ থেকেও বঞ্চিত হন।
সৌদির আইনমন্ত্রী শেখ ওয়ালেদ বিন মোহাম্মদ বলেছেন, ‘মোবাইল ফোনে বার্তা পাঠিয়ে তালাক দেওয়ার মধ্য দিয়ে বিবাহবিচ্ছেদ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’
তালাক সংক্রান্ত মামলা পরিচালনার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন আইনজীবী সৌদির সংবাদমাধ্যম দ্য ন্যাশনালকে বলেছেন, ‘কখনও কখনও বিবাহবিচ্ছেদ সংক্রান্ত মামলার বিচার প্রক্রিয়া সম্পর্কে মহিলাদের জানানো হয় না, সেই সমস্যা সমাধানের একটি সরল সোজা সমাধান বার্তার মাধ্যমে তাকে অবগত করা।’
প্রসঙ্গত, গত বছর সৌদি আরবে মহিলাদের গাড়ি চালানোর ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়। তবে এখনও সেখানে পুরুষ অভিভাবকত্ব আইন বিদ্যমান। অভিভাবকত্ব ব্যবস্থার আওতায় মহিলাদেরকে ভ্রমণ, স্কুলে যাওয়া, চিকিৎসাসহ জীবনের বিভিন্ন কাজের ক্ষেত্রে তাদের কাছের পুরুষ অভিভাবকদের কাছ থেকে (স্বামী, বাবা কিংবা ভাই) অনুমতি নিতে হয়।
তালাকপ্রাপ্ত কিংবা বিধবা মাকে থাকতে হয় তার ছেলে সন্তানের অভিভাবকত্বের অধীনে। সৌদি আরবে নারীদের জন্য বিবাহ বিচ্ছেদ প্রক্রিয়াও কঠিন।
সৌদি আইনজীবী নিসরীন আল–ঘামদি বলেন, ‘নতুন পদক্ষেপের আওতায় বিবাহ বিচ্ছেদ হলে মহিলারা তাদের ভরণ–পোষণের অধিকার আদায় করতে পারবেন। বিবাহ বিচ্ছেদের অপব্যবহার হওয়ার আগেই পাওয়ারস অফ অ্যাটর্নি নিশ্চিত করা যাবে এর মধ্য দিয়ে।’
তবে পুরুষকে তালাক দেওয়ার ক্ষেত্রে মহিলারা সমঅধিকার পাবেন না।
শনি | রবি | সোম | মঙ্গল | বুধ | বৃহ | শুক্র |
---|---|---|---|---|---|---|
১ | ||||||
২ | ৩ | ৪ | ৫ | ৬ | ৭ | ৮ |
৯ | ১০ | ১১ | ১২ | ১৩ | ১৪ | ১৫ |
১৬ | ১৭ | ১৮ | ১৯ | ২০ | ২১ | ২২ |
২৩ | ২৪ | ২৫ | ২৬ | ২৭ | ২৮ | ২৯ |
৩০ | ৩১ |
আইটি সাপোর্ট ও ম্যানেজমেন্টঃ Creators IT Bangladesh