জনগণ মালিক না থাকলে প্রকৃত অর্থে আমরা স্বাধীন থাকি না : ড. কামাল

বুধবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৮ | ১০:৫১ অপরাহ্ণ | 372 বার

জনগণ মালিক না থাকলে প্রকৃত অর্থে আমরা স্বাধীন থাকি না : ড. কামাল
সংগৃহিত ছবি
Advertisements

সিলেটে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশে ড. কামাল হোসেন বলেছেন, স্বাধীন দেশের মালিক হলো জনগণ। জনগণ মালিক না থাকলে প্রকৃত অর্থে আমরা স্বাধীন থাকি না। তিনি বলেন, স্বৈরাচারের প্রজা থেকে মুক্ত হতে হলে রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা বঙ্গবন্ধুর যে স্বপ্ন ছিল- জনগণ ক্ষমতার মালিক; তা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে আমরা আবার মালিক হবো। এই রাষ্ট্র আমাদের নিয়ন্ত্রণে আনবো।

বুধবার (২৪ অক্টোবর) বিকেলে সিলেটের রেজিস্ট্রারি মাঠে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট আয়োজিত জনসভায় ড. কামাল হোসেন এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমরা বাঙালি যখন ঐক্যবদ্ধ হয়েছি তখনই বিজয়ী হয়েছি। এটা মনে রাখবেন। বিজয়কে সামনে রেখে আসুন আমরা ঐক্যবদ্ধ হই। ইনশাল্লাহ ক্ষমতার মালিক আমরা হব। আশা দিতে চাই, ঐক্যবদ্ধ হোন, বিজয় আমাদের অনিবার্য।

তিনি বলেন, আমরা সাত দফা দিয়েছি, এটা আপনাদের মধ্যে বিতরণ করা হবে, আপনারা মনোযোগ সহকারে দেখবেন। দেখার পরে গ্রামে-গ্রামে, ইউনিয়নে-ইউনিয়নে, থানায়-থানায়, উপজেলায়, জেলায় এই ঐক্যকে আরও সুসংহত করতে হবে।

সমাবেশে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন, পদত্যাগ করে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিন। সংসদ বাতিল করুন।  নির্বাচন কমিশনকে পুনর্গঠন করুন। ইভিএম দেওয়া চলবে না। ডিজিটাল চুরি করবেন? সেটা আর করতে দেওয়া হবে না। সেনা মোতায়েন করতে হবে।

তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, মানুষের অধিকার ফিরিয়ে আনা, বাংলাদেশকে একটি কল্যাণধর্মী রাষ্ট্র হিসেবে নির্মাণ করা। আসুন আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হই। আজকে সিলেটের মানুষ যেভাবে শত বাধাবিপত্তি উপেক্ষা করে ছুটে এসেছে জনসভায়, তারা প্রমাণ করেছে যে, এদেশের মানুষ গণতন্ত্র ফিরে চায়। আমি সিলেটের জনগণকে অভিবাদন জানাই।

জেসডির কেন্দ্রীয় সভাপতি আ স ম আব্দুর রব বলেন, দেশ ডাকাতের হাতে পড়েছে। জনগণকে নিয়ে মাঠে নামতে হবে। সরকার উস্কানি দেবে, তাই শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করতে হবে। আরেকবার গায়ে হাত দিলে সবাই রাস্তায় নামব। এ লড়াই বাঁচার লড়াই, ভোটের লড়াই, সুষ্ঠু নির্বাচনের লড়াই। এ লড়াইয়ে আমাদের বিজয়ী হতে হবে।

সমাবেশে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, উন্নয়নের জোয়ারে সরকার টালমাটাল। উন্নয়নের জোয়ারে সরকারের চোখে ছানি পড়ে গেছে!

তিনি আরো বলেন, আগামী ৪ নভেম্বর বনানী কবরস্থানে গিয়ে ’৭৫ এর শহীদদের কবর জিয়ারত করে সংসদ ভবন এলাকায় জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারত করতে চাই। সেখান থেকে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে গিয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানাতে চাই। এটা আমার প্রস্তাব।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, এই সরকারের সময়ে দেশে সীমাহীন দুর্নীতি হয়েছে। ঘুষ ছাড়া কোনো কাজ হয় না। বড় বড় দুর্নীতি হয়েছে। এগুলোর বিচার করতে হবে। ক্ষমতায় গেলে প্রতিটি দুর্নীতির বিচার হবে।

মওদুদ আরো বলেন, স্বৈরাচারী সরকারকে হঠাতেই আজ ঐক্য করতে হয়েছে। সরকারকে সংলাপে আসতে হবে। নয়তো বুঝতে হবে, এই সরকার গণতন্ত্র চায় না। তারা সম্পদ পাচার করেছে ৩৭ হাজার কোটি টাকা।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান বলেছেন, দেশে এখন গণতন্ত্র মৃত, মানবাধিকার-সুশাসন নেই। সরকার বলছে লাখ-লাখ, হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন করেছে। তাহলে নিরপেক্ষ নির্বাচন দিতে এত ভয় কেন?

গণফোরামের জাতীয় নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী বলেন, ‘রাবিশ’ মন্ত্রী বাংলাদেশকে ফতুর করে দিয়েছেন। শেখ হাসিনা বিনাভোটে নির্বাচন করেছেন, জাতি আপনাকে ক্ষমা করবে না। বর্তমান সরকার ফিটনেসবিহীন। এই সরকারকে এখনই পদত্যাগ করতে হবে।

বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য ও সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন,  বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ইনাম আহমদ চৌধুরী, মোহাম্মদ শাহজাহান, বরকত উল্লাহ বুলু, শামসুজ্জামান দুদু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, জয়নুল আবদিন ফারুক, ফজলুল হক আসপিয়া, অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান, খন্দকার আব্দুল মোকতাদির, তাহসিনা রুশদীর লুনা, বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আব্দুর রকিব, এলডিপির মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদ, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব অধ্যাপক ড. আহমেদ আবদুল কাদের, নাগরিক ঐক্য সিলেটের আহ্বায়ক জিল্লুর রশিদ, গণফোরাম নেতা আ হ ম শফিকুল আলম, জগলুল হায়দার আতিক, মোকাব্বির খান, বিএনপির স্থানীয় সরকার বিষয়ক সম্পাদক শাম্মী আকতার, বিএনপির সহ-ক্ষুদ্র ঋণ বিষয়ক সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক, জেএসডির ইস্কান্দার রাজা চৌধুরী, বিএনপির পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক ও হবিগঞ্জ জেলা সভাপতি জিকে গউস, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক দিলদার হোসেন সেলিম, কলিম উদ্দিন মিলন, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা শাহিনুর পাশা চৌধুরী, সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কাহের শামীম, সিনিয়র সহসভাপতি আব্দুল কাইয়ুম জালালী পঙ্কি প্রমুখ।

সভা পরিচালনা করেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সিলেটের সমন্বয়ক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ ও নগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আজমল বখত সাদেক।

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
khojkhobor.net-এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

আইটি সাপোর্ট ও ম্যানেজমেন্টঃ Creators IT Bangladesh