ছেলের খোঁজে ৩০ বছর পথে পথে ঘুরছেন এই বাবা

বৃহস্পতিবার, ০৪ এপ্রিল ২০১৯ | ১১:৪০ অপরাহ্ণ | 492 বার

ছেলের খোঁজে ৩০ বছর পথে পথে ঘুরছেন এই বাবা
ছবি-সংগৃহীত
Advertisements

চোখের দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে গিয়েছে তার। কানেও ভালো শুনতে পান না। নড়বড়ে দেহখানি লাঠিতে ভর করে তিনি ঘুরে বেরান। মৃত্যুর আগে অন্তত একবার ছেলের মুখ দেখতে চান এই বৃদ্ধ। তাইতো এই বয়সে এতটা কষ্ট করছেন। বাবারা বুঝি এমনই হয়।

পরীক্ষায় ফেল করার পর নিরুদ্দেশ হয়ে যায় তার ছেলে। তাকে খুঁজতে আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধবসহ পরিচিত সবার বাড়িতে পাগলের মত ঘুরেছেন স্কুলশিক্ষক বাবা। কিন্তু ছেলের খোঁজ পাননি। কোনো উপায় না দেখে পুলিশের শরণাপন্নও হন। কিন্তু তাতেও লাভ হয়নি।

শেষমেষ ছেলের খোঁজে রাস্তায় নামেন ওই শিক্ষক। এরপর কেটে গেলো ত্রিশ বছর। তবুও এক মুহূর্তের জন্য থামাননি ছেলেকে খুঁজে বের করার প্রচেষ্টা। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের ভুপতিনগর থানার বায়েন্দা গ্রামের ৯০ বছরের সন্তোষ কুমার মাইতি নামের এই বৃদ্ধের আশা, একদিন না একদিন তিনি ছেলেকে খুঁজে পাবেনই।

১৯৮৯ সালের ২ জানুয়ারি স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষার রেজাল্ট বের হলে দেখা যায় দয়ানন্দ ফেল করেছে। এরপর স্কুল থেকে আর বাড়ি ফেরেনি সতেরো বছরের দয়ানন্দ।

দুই সপ্তাহ ধরে আত্মীয়-স্বজন পরিচিতদের বাড়ি বাড়ি ছেলেকে খুঁজে ফেরেন ৬০ বছরের মধ্যবয়সী বাবা সন্তোষ কুমার মাইতি। এরপর ২০ জানুয়ারি ছেলে নিখোঁজের ঘটনা জানিয়ে ভূপতিনগর থানায় ডায়েরি করেন প্রাথমিক শিক্ষক সন্তোষবাবু।

এর চার বছর পর অর্থাৎ ১৯৯৩ সালে শিক্ষকতা থেকে অবসর নেন তিনি। এরপর ছেলের খোঁজে নিজেই নেমে আসেন রাস্তায়। সেই থেকে খুঁজেই চলেছেন। তিনি দুঃখ করে বলেন, ছেলের খেঁজে কতবার যে পুলিশের কাছে গেছি! কিন্তু তারা কোনো সাহায্যই করেনি।

২০১১ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর বড় ছেলেকে নিয়ে তার সঙ্গেও দেখা করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু দেখা হয়নি। বিষয়টি তার নজরে আনার জন্য ছেলের নিখোঁজ সংক্রান্ত সমস্ত কাগজপত্র মুখ্যমন্ত্রীর স্থানীয় দফতরে জমা দিয়েছেন সন্তোষ কুমার মাইতি।

কলকাতায় ভবানীভবনেও বহুবার ছেলের খোঁজে এসেছেন। সিআইডির তথ্যমতে ২০০৬ সালের ২৭ এপ্রিল ভবানীভবনে নতুন করে অভিযোগও দায়ের করেন। লালবাজার থানাতেও গিয়েছেন। কিন্তু ছেলের কোনো খোঁজ পাননি। শুধু কি থানা, আদালত চত্বরেও কত বছর ধরে ঘুরছেনে এই বৃদ্ধ! আদালতের এখানে সেখানে বসে ছেলের জন্য কান্না করেছেন।

তার দুই ছেলে ও দুই মেয়ে। বড় ছেলের নাম কৃষ্ণানন্দ আর ছোট ছেলের নাম দয়ানন্দ। সুভাষপল্লি হাইস্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র ছিলো ছোট ছেলে দয়ানন্দ।

বড় ছেলে কৃষ্ণানন্দ মাইতি বলেন, ভাই নিখোঁজ হওয়ার বছর দুয়েক পর প্রতিবেশীদের কয়েকজন জানিয়েছিলেন কলকাতার শিয়ালদহ, ধর্মতলা ও বৌবাজার এলাকায় তারা ভাইকে দেখেছেন। কিন্তু আজও ভাইয়ের খোঁজ পাইনি।

তবে মাইতি পরিবারের লোকজন জানান, কয়েক বছর আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের দফতর থেকে একটা চিঠি এসেছিল। তাতে জানানো হয়েছিল, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। আর এখনও সেই চিঠির কারণেই ছেলেকে ফিরে পাওয়ার আশায় দিন গুনছেন সন্তোষবাবু।

সূত্র- আনন্দবাজার

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  
khojkhobor.net-এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

আইটি সাপোর্ট ও ম্যানেজমেন্টঃ Creators IT Bangladesh