চাটমোহর পৌর বাসষ্ট্যান্ড : কাগজে-কলমে সচল, বাস্তবে অচল

বৃহস্পতিবার, ১১ জুলাই ২০১৯ | ১২:১৬ পূর্বাহ্ণ | 317 বার

চাটমোহর পৌর বাসষ্ট্যান্ড : কাগজে-কলমে সচল, বাস্তবে অচল
Advertisements

চাটমোহর পৌর বাসষ্ট্যান্ডটি এখন স্থানীয়রা দখলে নিয়েছেন। স্থানীয়রা সেখানে ইট-বালুসহ নানা সরঞ্জাম রেখে ব্যবসা চালিয়ে আসছেন। অথচ শহরের মধ্যে যানবাহনের চাপ কমাতে চাটমোহর-জোনাইল সড়কের পাশে পৌর শহরের গাইনগড় এলাকায় দুই বিঘা জমির ওপর ২০১১ সালে বাসষ্ট্যান্ডটি নির্মাণ করে চাটমোহর পৌরসভা।

সব রকম সুযোগ-সুবিধা থাকার পরেও দীর্ঘ ৮ বছরেও কোন যানবাহন প্রবেশ করেনি সেখানে। বাসষ্ট্যান্ডের ঘরগুলো ধূলোর আস্তরণে ঢাকা পড়েছে। সন্ধ্যার পরেই সেখানে ভূতুরে পরিবেশের সৃষ্টি হয়। বসে মাদক সেবীদের আড্ডা। আর এসব দেখেও কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেন না পৌর কর্তৃপক্ষ। লাখ লাখ টাকা ব্যায় করে বাসষ্ট্যান্ড নির্মাণ করেও উপকারে না আসায় ক্ষোভ দেখা দিয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।

জানা গেছে, উপজেলা পরিষদের নগর উন্নয়ন প্রকল্প থেকে ৬০ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে এবং পৌর তহবিল থেকে ৮ লাখ টাকা মিলিয়ে মোট ৬৮ লাখ টাকা ব্যায়ে নির্মিত হয় চাটমোহর পৌর বাসষ্ট্যান্ড। সেখানে যাত্রীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে বিশ্রামাগার, টিকিট কাউন্টার, দোকান ঘর, শৌচাগার নির্মাণ করা হয়।

এরপর ঘটা করে উদ্বোধন করা হলেও সেখানে অদ্যাবদি কোন যানবাহন প্রবেশ করেনি। কিছুদিন পূর্বে লোকসমাগমের জন্য বর্তমান মেয়র মির্জা রেজাউল করিম দুলাল সেখানে পরপর দুই বার সাপ্তাহিক হাট বসান। এরজন্য তিনি (মেয়র) বাসষ্ট্যান্ড আলোকিত করতে ২৮টি সোলার প্যানেল বসান, সুপেয় পানির জন্য পানির পাম্প বসান এবং বাইরে আরো একটি শৌচাগার নির্মাণ করেন।

কিন্তু তার কোন উদ্যোগও সফল হয়নি। এই সুযোগে স্থানীয় কয়েকজন ইট-বালু-মাটি, সুড়কিসহ নানা সরঞ্জাম রেখে ব্যবসা করছেন। বাসষ্ট্যান্ড এখন গরু-ছাগলের খামারে পরিণত হয়েছে।

অথচ বাস-ট্রাক, সিএনজি অটোরিকশা থেকে শুরু করে নানা রকম যানবাহন প্রতিদিন শহরের যত্রতত্র সড়কের ওপর দাঁড় করিয়ে যাত্রী ওঠা-নামা করানো এবং ট্রাক থেকে মালামাল লোড-আনলোড করা হয়। এতে শহরের মধ্যে প্রতিনিয়ত যানজট লেগে থাকে। কাগজে কলমে সচল থাকলেও দীর্ঘদিন অচল হয়ে পড়ে আছে পৌর বাসষ্ট্যান্ডটি।

এতে সাধারণ মানুষ দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। স্থানীয়রা বলছেন-সুষ্ঠ পরিকল্পনা না করেই জনগণের ট্যাক্সের লাখ লাখ টাকা অপচয় করা হয়েছে। এতে স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভে দেখা দিয়েছে।

বাসষ্ট্যান্ড সংলগ্ন গাইনগড় গ্রামের বাসিন্দা আবদুল গনি, ব্যবসায়ী রনি রায়সহ বেশ কয়েকজন বলেন, অপরিকল্পিত কোন কিছুই টেকসই হয় না তার প্রমাণ আমরা হাতে নাতে পাচ্ছি। এখানে সরকারী টাকা অপচয় ছাড়া কিছুই হয়নি।

পৌর মেয়র মির্জা রেজাউল করিম দুলাল বলেন, অনেক চেষ্টা করেও বাসষ্ট্যান্ডটি চালু করতে পারছি না। সংযোগ সড়ক না করেই অপরিকল্পিতভাবে পূর্বের মেয়ররা সেখানে বাসষ্ট্যান্ড নির্মাণ করেছেন। তাদের ভুলের খেসারত আমাকে দিতে হচ্ছে। বাসষ্ট্যান্ড নির্মাণের ঋণের টাকা এখনও পৌর তহবিল থেকে পরিশোধ করতে হচ্ছে। তবে চেষ্টা করছি কিভাবে আবারও বাসষ্ট্যান্ডটি পুনরায় চালু করা যায়।

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
khojkhobor.net-এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

আইটি সাপোর্ট ও ম্যানেজমেন্টঃ Creators IT Bangladesh