চাটমোহরে শিক্ষা অফিসারের নাচ-গান নিয়ে সমালোচনার ঝড়!

বুধবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ১১:০৪ অপরাহ্ণ | 929 বার

চাটমোহরে শিক্ষা অফিসারের নাচ-গান নিয়ে সমালোচনার ঝড়!
গান গাচ্ছেন শিক্ষা অফিসার আশরাফুল ইসলাম। ভিডিও থেকে ধারণ করা ছবি।
Advertisements

শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটিয়ে প্রশিক্ষণের নামে উচ্চ স্বরে সাউন্ডবক্স বাজিয়ে নাচ-গান করার অভিযোগ উঠেছে পাবনার চাটমোহর উপজেলা শিক্ষা অফিসার ও তার সহকারিদের বিরুদ্ধে। সম্প্রতি এমনই একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় সমালোচনার ঝড়। বিষয়টি নিয়ে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ডিসেম্বর’২০১৯ মাস থেকে চাটমোহর পৌর সদরের জিরো পয়েন্টে ইউআরসি ভবনে শুরু হয়েছে বিষয় ভিত্তিক প্রশিক্ষণ। এতে অংশ নিচ্ছেন উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকরা। সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলে এই প্রশিক্ষণ। কিন্তু প্রশিক্ষণ চলাকালীন সেখানে দলবল নিয়ে হাজির হয়ে থাকেন শিক্ষা অফিসার আশরাফুল ইসলাম, সহকারী শিক্ষা অফিসার কামরুল ইসলাম, ফরিদুজ্জামান, আনোয়ার হোসেন এবং সহকারী ইনস্ট্রাকটর কল্যাণ কুমার।

শুধু তারাই নয়, এতে আরো সামিল হন শিক্ষা অফিসারের পছন্দের আরো বেশ কয়েকজন প্রধান শিক্ষক। কোনো নিয়মনীতি না মেনে প্রতিদিনই শুরু হয় উচ্চস্বরে সাউন্ডবক্সে গান। পাশাপাশি চলে অশালীন অঙ্গভঙ্গি করে নাচ। যারা নাচ-গান করতে পারে না তাদের প্রশিক্ষণে নাম দেন না শিক্ষা অফিসার মো. আশরাফুল ইসলাম-এমন অভিযোগ অনেকের। তাদের এমন আচরণে ক্ষুব্দ হয়ে ইনস্ট্রাকটর মো. মাহমুদুল হাসানও। তিনি প্রতিবাদ করলেও শিক্ষা অফিসারের সাথে পেরে ওঠেন না। খোদ শিক্ষা অফিসারের এমন আচরণে ক্ষুব্ধ অভিভাবক ও স্থানীয়রা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, গত কয়েকদিন আগে তার বাবা অসুস্থ। তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত। ইউআরসি ভবন থেকে উচ্চস্বরে গানের আওয়াজ আসায় অসুস্থ বাবার সমস্যা হচ্ছিল। এছাড়া পাশের স্কুলের শিক্ষার্থীদেরও পড়াশোনায় ব্যাঘাত হয়। তাই বারণ করতে গিয়ে নানা কথা শুনতে হয়েছে তাকে। যা সত্যিই দুঃখজনক।

শিক্ষার্থী এবং স্থানীয়দের অসুবিধার কথা স্বীকার করে সহকারী ইনস্ট্রাকটর কল্যাণ কুমার সরকার বলেন, ‘গান করার নিয়ম আছে। তবে নাচানাচি করার সুযোগ নেই।’ তাহলে কেন নাচানাচি হয় এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘এটা করা ঠিক হয়নি। তবে শিক্ষা অফিসার স্যার থাকেন তো। সেখানে কিছু বলা যায় না।’

ইনস্ট্রাকটর মো. মাহমুদুল হক ঘটনা স্বীকার করে বলেন, আসলে যারা এসব করে তাদেরকে বহুবার বারণ করা হয়েছে। কিন্তু তারা কেউ শোনেন না।’

উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, ট্রেনিংয়ের কার্যক্রম হিসেবে গান করা হয়। আর গানের তালে তো একটু নাচানাচি হয়ই। তবে ইউআরসি ভবন এবং স্কুলটি একসাথে হওয়ার কারণে শিক্ষার্থীদের কিছু সমস্যা হয়। তাই বলে তো আর ট্রেনিং বন্ধ করা যায় না। তবে এরপর থেকে বিষয়গুলো মেনে চলা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরকার মোহাম্মদ রায়হান বলেন, ‘শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ রয়েছে। এগুলো করা কোনো মতেই ঠিক হয়নি। বিষয়টি আমি গুরত্ব সহকারে দেখছি এবং এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
khojkhobor.net-এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

আইটি সাপোর্ট ও ম্যানেজমেন্টঃ Creators IT Bangladesh