চাটমোহরে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান

সোমবার, ২২ এপ্রিল ২০১৯ | ১১:৪৪ অপরাহ্ণ | 343 বার

চাটমোহরে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান
চাটমোহর
Advertisements

পাবনার চাটমোহর উপজেলার ১০ নম্বর নিমাইচড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদান। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জরাজীর্ণ ভবনেই ক্লাস করতে বাধ্য হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।

শ্রেণীকক্ষের ভেতরের মূল পিলার ও বিমের পলেস্তারা ধ্বসে পড়েছে। দরজা-জানালা ভাঙ্গাচোরা। ভবনের বিভিন্ন জায়গায় ধরেছে ফাঁটল। আর কিছু সংখ্যক শিক্ষার্থী তীব্র গরমের মধ্যে স্কুল চত্ত্বরের গাছতলায় বসে পাঠগ্রহণ করছে।

তবে দীর্ঘ প্রাচীন এই স্কুলটি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ একবারেই উদাসীন। অথচ যে কোন সময় ঘটতে পারে প্রাণহানির মতো ঘটনা। এদিকে স্কুলের এমন অবস্থার কারণে ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে শিক্ষার্থীর সংখ্যা।

সরেজমিনে স্কুলটিতে গিয়ে দেখা যায়, স্কুলের একপাশে করতোয়া নদী, অপর পাশে বিশাল পুকুর। তারই মাঝখানে নিমাইচড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ১৯২৮ সালে প্রতিষ্ঠিত দীর্ঘ প্রাচীন এই স্কুলে ৩টি টিনশেডের আধাপাকা ঘর এবং দুই কক্ষ বিশিষ্ট একটি পাকা ঘর রয়েছে।

নদী ও পুকুরের কারণে ভবনের নিচ থেকে সরে গেছে মাটি। টিনগুলোতে মরিচা ধরে ফুটো হয়ে গেছে। আর পাকা ভবনের দুটি কক্ষের মূল পিলার ও বিমের পলেস্তারা ধ্বসে পড়েছে। বেশিরভাগ কক্ষই ব্যবহারের অযোগ্য। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান চলছে দুই শতাধিক শিক্ষার্থীর। কিছু সংখ্যক শিক্ষার্থীকে গাছতলায় বসিয়ে পড়ানো হচ্ছে।

এদিকে খোলা আকাশের নিচে বসে ক্লাস করতে গিয়ে অনেক শিশু শিক্ষার্থীই অসুস্থ হয়ে পড়ছে। সম্প্রতি জরাজীর্ণ পাকা ভবনের শ্রেণীকক্ষে ক্লাস করার সময় মূল পিলারের বিম ভেঙ্গে পড়ে। অল্পের প্রাণে বেঁচে যান পঞ্চম শ্রেণীর কয়েকজন শিক্ষার্থী।

এছাড়া বৃষ্টি এলেই সবাইকে একটি কক্ষে গাদাগাদি করে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। ভিজে যায় বই-খাতা। তবে বারবার নতুন ভবনের জন্য আবেদন করেও শিক্ষা অফিস থেকে কোন সাড়া মেলেনি -এমনটাই জানালেন স্কুল কর্তৃপক্ষ।

দ্বিতীয় শ্রেণীর সোমা খাতুন, জ্যোতি আরা শরিফুল ইসলাম, পঞ্চম শ্রেণীর আশিক, লাবণী আকতারসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, ‘ক্লাসে বসতে ভয় লাগে। বৃষ্টি এলে বই-খাতা ও জামা কাপড় ভিজে যায়। বাইরে গাছের নিচে বসলে খুব গরম লাগে। আমাদের কথা কেউ ভাবে না।’

সহকারি শিক্ষিক মোছা. নূর নেহার পারভীন বলেন, পড়াশোনার জন্য সবার আগে প্রয়োজন সুস্থ পরিবেশ। কিন্তু আমাদের স্কুলের সেই অবস্থা নেই। মাঝে মধ্যেই মনে হয় ছাদ ধ্বসে পড়বে।

ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. সোহরাব আলী  বলেন, ‘স্কুলের ব্যাপারে আমার করার কিছু নেই। কয়েকদিন আগে ইউএনও স্যার এবং শিক্ষা অফিসার মা সমাবেশে এসেছিলেন। তারা দুর্দশা দেখে গেছেন। যা করার এখন তারাই করবেন।’

প্রধান শিক্ষক জয়শ্রী দাস বলেন, ‘ভবনের বেশ কিছু জায়গায় ফাটল ধরেছে। এরআগে ছাদের বিম ধসে অল্পের জন্য বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী প্রাণে বেঁচে গেছে। বাচ্চাদের নিয়ে খুব ভয়ে ভয়ে থাকি। নতুন ভবনের জন্য কয়েকবার উপজেলা শিক্ষা অফিসার বরাবর দরখাস্ত করেছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোন কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। ঝুঁকি নিয়েই ভাঙ্গাচোরা ভবন ও গাছতলায় বসিয়ে শিক্ষার্থীদের পড়ানো হচ্ছে।’

জানতে চাইলে উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক আমাকে লিখিতভাবে জানিয়েছেন। ঝুঁকিপূর্ণ ভবন হিসেবে স্কুলটিকে চিহ্নিত করে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছে। অচিরেই এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  
khojkhobor.net-এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

আইটি সাপোর্ট ও ম্যানেজমেন্টঃ Creators IT Bangladesh