চাটমোহরে চার মাসে ধর্ষণ-ধর্ষণচেষ্টা ৭টি ; অপমৃত্যু-১৫

রবিবার, ০৫ মে ২০১৯ | ১০:০৭ অপরাহ্ণ | 397 বার

চাটমোহরে চার মাসে ধর্ষণ-ধর্ষণচেষ্টা ৭টি ; অপমৃত্যু-১৫
Advertisements

চাটমোহরে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটন-অঘটনের তথ্য সংগ্রহ করা এবং তা লীপিবদ্ধ আকারে সংরক্ষন ও প্রকাশ করে আসছে চেতনায় চাটমোহর।

গত বছরের শেষ চার মাস (সেপ্টেম্বর, অক্টোবর, নভেম্বর, ডিসেম্বর’১৮) এর তথ্য প্রকাশের পর দ্বিতীয় প্রয়াস হিসাবে চলতি বছরের প্রথম চার মাস (জানুয়ারী, ফেব্রুয়ারী, মার্চ, এপ্রিল’১৯) এর তথ্যগুলো প্রকাশ করা হলো-

চার মাসে চাটমোহর (জানুয়ারী, ফেব্রুয়ারী, মার্চ, এপ্রিল’১৯)

সড়ক দূর্ঘটনায় মৃত্যু- ৯ : চার মাসে সড়ক দূর্ঘটনায় ৯ টি মৃত্যু ইতিপূর্বের যে কোন সময়ের চেয়ে বেশী। গত বছরের শেষ চার মাসে সড়ক দূর্ঘটনায় মারা গিয়েছিলো ৪ জন। এ বছরের প্রথম চার মাসে মৃত্যু সংখ্যা দ্বিগুন ছাড়িয়েছে। ১৬ জানুয়ারী রামনগর, ১৮ জানুয়ারী নিমাইচড়া, ৭ ফেব্রুয়ারী রতনপুর, ১১ মার্চ রামচন্দ্রপুর, ১৫ মার্চ মথুড়াপুর, ২২ মার্চ ভাদ্রা বাইপাস, ২৯ মার্চ জাদ্রিস মোড় এবং ১১ এপ্রিল শিমুলতলী মোট আট টি দূর্ঘটনায় ৯ জন প্রান হারিয়েছে। সবচেয়ে লক্ষণীয়, ৭ ফেব্রুয়ারী মোটরসাইকেলের অতিরিক্ত গতির কারনে নিয়ন্ত্রন হারিয়ে প্রান হারায় হৃদয় হোসেন নামের ২৬ বছরের এক যুবক। এ থেকে এলাকার তরুন মোটরসাইকেল চালকেরা শিক্ষা নিতে পারে।

আত্মহত্যা- ১ : চাটমোহর খুব আত্মহত্যা প্রবন এলাকা। গত বছরের শেষ চার মাসে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছিলো ৭ টি। এ বছরের প্রথম চার মাসে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে ১ টি। এ সংখ্যাহ্রাস আশাব্যঞ্জক।

বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু- ১ : আত্মহত্যার মত বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর সংখ্যাও কমে এসেছে। আগের চার মাসে ৫ জনের মৃত্যু হলেও সর্বশেষ চার মাসে মৃত্যু হয়েছে ১ জনের।

বজ্রপাতে মৃত্যু- ২ : ঝড়-বৃষ্টির মাঝে বজ্রপাতে চাটমোহরে গত চার মাসে মারা গেছেন দু’জন।

অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যু- ২ : এছাড়া এই চারমাসে আগুনে পুড়ে মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে দু’জনের।

ধর্ষণ/ধর্ষণ চেষ্টা- ৭ : সাম্প্রতিক সময়ে ধর্ষণ ও ধর্ষণচেষ্টার ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ৭ টি ঘটনার রেকর্ড চেতনায় চাটমোহরের হাতে থাকলেও এর বাহিরে দুই-একটি ঘটনা পারিবারিকভাবে গোপনে মিমাংসার খবর পাওয়া গেছে। রেকর্ডকৃত ৭ টি ঘটনার ৬ টিতে ভিক্টিমের বয়স ৫ থেকে ১৩। যাদের ৪ জন অভিভাবকহীন (৩ জন নানা বাড়িতে থাকে এবং ১ জন স্বামী পরিত্যাক্তা)।

৬ জন ছাত্রীকে শ্লীলতাহানী করা হয়েছে অথচ তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কোন ভূমিকা রাখেনি, ভূমিকা রাখেনি স্থানীয় জনগন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, এটা খুব দুঃখজনক বাস্তবতা।

অগ্নিকান্ডের ঘটনা- ৭ : অগ্নিকান্ডের ৭ টি ঘটনায় ২ জন মানুষ (বালুচরের মুক্তি খাতুন এবং পার্শ্বডাঙ্গার মিছিরন বেওয়া), ৫ টি ছাগল, ১ টি গরু, ১ টি মটরসাইকেল, ১৩ টি ঘর এবং ৪ টি দোকান পুড়ে গেছে। যাতে প্রায় ২৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। (২ জনের জীবন আর্থিক মূল্যে বিচার্য নয়)

ভূয়া চিকিৎসা বিরোধী তৎপরতা- ৩ : ১১ এপ্রিল বিলচলনের উত্তর সেনগ্রামে এবং ২৫ এপ্রিল বোঁথড়ে অনুমতিবিহীন দুটি চক্ষু শিবির পরিচালনা, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না হয়েও পদবী ব্যবহার করা সহ নানা অভিযোগে অভিযান পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।

৩ এপ্রিল চাটমোহরের দুটি কবিরাজি প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় সনদ না থাকা ও অপচিকিৎসা প্রদানের জন্য সিলগালা করে দেয়া হয়। এছাড়া এর আগে ৩ মার্চ মহেলা বাজার থেকে আটক হয় ভূয়া চিকিৎসক শফিকুল ইসলাম।

বাল্যবিবাহ বন্ধ- ২ : ২৫ মার্চ মুলগ্রাম ইউনিয়নের শাহপুরে এবং ১৭ এপ্রিল ছাইকোলা ইউনিয়নের বোয়াইমারীতে দুটি বাল্যবিবাহ বন্ধ করে প্রশাসন।

ডাকাতি/ছিনতাই- ৩ : ১৩ জানুয়ারী জাবোরখোল স্কুলের সামনে থেকে ২৫ হাজার টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে।
২০ এপ্রিল চাটমোহর-মান্নাননগর সড়কের নিমাইচড়া নামক স্থানে রাস্তায় গাছের গুড়ি ফেলে দুটি ট্রাক থেকে ৫১ হাজার টাকা ও দুটি মোবাইল ডাকাতির ঘটনা ঘটে।

হত্যাচেষ্টা- ২ : ১৬ মার্চ বোয়াইলমারিতে ইউপি চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান খোকন ও তার সহযোগী সাখাওয়াত হোসেনকে হত্যার উদ্দেশ্যে কুপিয়ে জখম করে দুর্বৃত্তরা।

২৯ জানুয়ারী পূর্বশত্রুতার জের ধরে দিনে দুপুরে দুই যুবককে ধারালো ক্ষুর দিয়ে কুপিয়ে জখম করে বালুচরের ইয়াসিন মোল্লা।

মাদক ও জাল টাকা উদ্ধার : ১০ ফেব্রুয়ারী রতনপুর গ্রাম থেকে ৮০ বোতল ফেন্সিডিল ও ২৬ হাজার জাল টাকা উদ্ধার করা হয়।

মন্তব্য : ২০১৯ সাল শুরু হয়েছিলো অসাধারণ কিছু অর্জনের মাধ্যমে। ৪৮ তম শীতকালীন জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় দেশসেরা হয় তরুন আব্দুস সোয়াদ। মেজর জেনারেল ফসিউর রহমান বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সামরিক চিকিৎসা মহাপরিদফতরের মহাপরিচালক হন। র‍্যাব-১৩ অধিনায়ক মোজাম্মেল হক বিপিএম এবং ডিআইজি ওয়াইএম বেলালুর রহমান বিপিএম-সেবা পদক পান। এলজিআরডি’র প্রকল্প পরিচালক মোমিন মজিবুল হক সমাজী পঞ্চাশার্ধো বয়সে এসে কৃতিত্বপূর্ন ফলাফলের জন্য ‘ভাইস চ্যান্সেলর গোল্ড মেডেল’ অর্জন করেন।

চাটমোহরের কৃতি সন্তানদের এ সকল অর্জন নিয়ে লেখালেখি হলেও নাগরিক সংবর্ধনা আয়োজন না হওয়াটা দুঃখজনক বাস্তবতা।

২০১৯ সালে চাটমোহরের সবচেয়ে আতংকের বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে ধর্ষণ। গত ৪ মাসে ৭ টি ঘটনার রেকর্ড পাওয়া গেলেও সম্ভবত বাস্তবতা অনেক বেশী। পারিবারিক সন্মান, বিচারহীনতার সংস্কৃতি, স্থানীয় প্রভাবশালীদের আপসের চাপ সৃষ্টি নানা কারনে এ সকল ঘটনা অপ্রকাশিত রয়ে যায়। এ বিষয়ে সাংবাদিক এবং প্রশাসনের আরো মনোযোগ দেয়া দরকার।

গত ৪ মাসে সবচেয়ে শংকার বিষয় চাটমোহরের তারুণ্য। বেপোরোয়া মোটরসাইকেল চালিয়ে প্রান হারিয়েছে তরুন। ধর্ষণ বা ধর্ষণ চেষ্টা করছে তরুন। শত্রুতার জের ধরে ক্ষুর মেরে শক্তি প্রদর্শন করছে তরুন। এছাড়াও তরুনেরা জড়িয়ে পরছে মাদক, টিকিট কালোবাজারির মত গুরুতর অপরাধের সাথে। এ তরুন-তরুনীদের রক্ষায় আমাদের উচ্চকিত ভূমিকা রাখতে হবে।

এ তরুনদের সামনে তুলে ধরতে হবে দেশসেরা সোয়াদকে, চাটমোহরের যে তরুন ব্যাডমিন্টনে দেশসেরা হয়েছে। তুলে ধরতে হবে চাটমোহর ক্রিকেট একাডেমিকে, যারা চাটমোহরের তরুনদের নিয়ে তৃতীয় বিভাগ ক্রিকেট খেলতে যাচ্ছে।

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১  
khojkhobor.net-এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

আইটি সাপোর্ট ও ম্যানেজমেন্টঃ Creators IT Bangladesh