চাটমোহরে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ৪১ শিক্ষকের জিডি

বুধবার, ১৫ মে ২০১৯ | ৭:৪০ অপরাহ্ণ | 605 বার

চাটমোহরে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ৪১ শিক্ষকের জিডি
Advertisements

পাবনার চাটমোহর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মো. মিজানুর রহমান ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে চাটমোহর থানায় সাধারণ ডায়েরি হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে একই কলেজের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকরা এ জিডি করেন।

জিডিতে অধ্যক্ষ ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকদের প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ আনা হয়। জিডির আবেদনে মোট ৪১ জন শিক্ষক স্বাক্ষর করেন।

জিডি সূত্রে জানা গেছে, সরকারি করণের পদ সৃজনের তথ্য ছকে, অধ্যক্ষের প্রত্যয়ন পত্রে, মন্তব্যে মিথ্যা তথ্য প্রদান, ফাইলে প্রয়োজনীয় সকল কাগজপত্র সরবরাহ না করাসহ অধ্যক্ষের সার্বিক অসহযোগিতার কারণে গত ৯ মে চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সরকার অসীম কুমারের কাছে ওই কলেজের বিভিন্ন বিভাগের মোট ৫১ জন শিক্ষক অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দেন।

এরপরেই ক্ষিপ্ত হয়ে অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান এবং তার কিছু অনুসারী ওই শিক্ষকদের প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে অভিযোগ। পরে ভুক্তভোগী শিক্ষকরা মঙ্গলবার বিকেলে জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে চাটমোহর থানায় অধ্যক্ষসহ মোট ১২ জনকে অভিযুক্ত করে একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। জিডি নং-৫১১। তাং-১৪-০৫-২০১৯ ইং।

ভুক্তভোগী শিক্ষকরা অভিযোগ করে বলেন, কলেজের নিয়মিত শিক্ষকদের পদ সৃজনের জন্য অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান কর্তৃক প্রস্তুতকৃত তথ্য ছক, মন্তব্য এবং প্রত্যয়নপত্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক বেঁধে দেয়া সময়ের একেবারে শেষ প্রান্তে এসে অনেক বিলম্বে, গোপনীয়ভাবে তাদের দেখতে না দিয়েই কলেজের সভাপতি ও ইউএনও সরকার অসীম কুমারের কাছে জমা দেয়া হয়।

এতে অধ্যক্ষ মিথ্যা তথ্য দিতে পারেন এমন আশংকা থেকে শিক্ষকরা ইউএনও’র কাছে অধ্যক্ষের জমা দেয়া কাগজগুলো দেখতে চেয়ে আবেদন করেন। পরে কাগজগুলো দেখালে অধ্যক্ষ কর্তৃক পূরণকৃত কাগজগুলোতে মিথ্যা তথ্য দিয়ে জমা দেয়ার বিষয়টি নজরে আসে। এরমধ্যে নিয়মিত উপস্থিত শিক্ষককে দীর্ঘদিন অনুপস্থিত দেখানো, বৈধ শিক্ষককে তালিকা থেকে বাদ দেয়া, অনেকের প্রত্যয়ন পত্রে স্বাক্ষর না করা এবং ফাইলপত্রে বেশ কয়েকটি কাগজপত্র সংযোজন না করেই উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান জমা দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী শিক্ষকরা।

অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চেয়ে অধ্যক্ষ মিজানুর রহমানের মোবাইলে কল দিলে তিনি রিসিভ না করে লাইনটি কেটে দেন। এর আগে মঙ্গলবার বিকেলে তার মোবাইলে বারবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। পরে তাকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে মোবাইলে ক্ষুদে বার্তা পাঠালেও তার কোন উত্তর দেননি। এরপর আবারও কল দিলে অধ্যক্ষ’র ফোনটি বন্ধ পাওয়ায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

জিডির ব্যাপারে জানতে চাইলে চাটমোহর থানার ওসি সেখ নাসীর উদ্দিন জানান, মঙ্গলবার বেশ কয়েকজন শিক্ষক নিরাপত্তা চেয়ে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। এর আগে কলেজ অধ্যক্ষও একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। যে কোন অপ্রীতকর ঘটনা এড়াতে কলেজ এলাকায় পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সরকার অসীম কুমার বলেন, ‘পদ সৃজন সংক্রান্ত কাগজপত্র মৌখিকভাবে বার বার উপস্থাপন করতে বলা হলেও অধ্যক্ষ তা উপস্থাপন করতে গড়িমসি করেন, শেষ সময়ে তিনি শুধুমাত্র তালিকা নিয়ে আসলেও কাগজপত্র উপস্থাপন করেন নি। ইতোমধ্যে ডিসি স্যার বরাবর বেশ কিছু অভিযোগ পড়েছে যার জন্য ডিসি স্যার এসিল্যান্ড (চাটমোহর) ইকতেখারুল ইসলাম এবং জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার মো. বায়েজীদ বিন আকন্দকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘তদন্ত কমিটি বেশ কিছু প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উপস্থাপন করার জন্য অধ্যক্ষ বরাবর মৌখিক, সরাসরি এবং পত্র মারফত যোগাযোগ করলেও তিনি (অধ্যক্ষ) তা উপস্থাপন করেননি বরং পনের দিনের সময় চেয়ে উল্টো পত্র প্রেরণ করেছেন।’

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
khojkhobor.net-এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

আইটি সাপোর্ট ও ম্যানেজমেন্টঃ Creators IT Bangladesh