চলনবিলাঞ্চলে ফাঁদ পেতে অবাধে চলছে পাখি শিকার

শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮ | ৮:৩৪ অপরাহ্ণ | 833 বার

চলনবিলাঞ্চলে ফাঁদ পেতে অবাধে চলছে পাখি শিকার
পাখি শিকারে যাচ্ছেন এক শিকারী
Advertisements

পাবনার চাটমোহরসহ চলনবিলাঞ্চলে ফাঁদ পেতে প্রকাশ্যে চলছে পাখি শিকার। আর লুকিয়ে বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন হাটে-বাজারে। প্রচলিত আইনে পাখি শিকার দন্ডনীয় অপরাধ জেনেও এক শ্রেণির অসাধু পাখি শিকারী তৎপর হয়ে উঠেছেন পাখি শিকারে।

মাছের সঙ্গে কীটনাশক ব্যবহার, জাল, বড়শিসহ শিকারীরা নানা ধরণের ফাঁদ পেতে রাখছেন বিলের মধ্যে-এভাবেই অভিনব কৌশলে চলছে পাখি নিধন। প্রকাশ্যে পাখি শিকার এবং বিক্রি হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না বলে সচেতন মহলের অভিযোগ।

এভাবে পাখি শিকার চলতে থাকলে পরিবেশের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করছেন সবাই।

শুক্রবার সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার কুড়িল বিল, পদ্ম বিল, ডিকশির বিল, গড়গড়ি বিল, বড় বিল, বগলা গাড়ি, খলিশাগাড়ি বিল, চাতরার বিলসহ বিভিন্ন বিলে খুব ভোরে পাখি শিকারীরা বিলের মাঝে বিভিন্ন ধরণের ফাঁদ পেতে রাখছেন।

পাখি শিকার করতে ব্যবহার করছেন হচ্ছে ইঁদুর মারা বা জমিতে দেয়া কীটনাশক। এছাড়া জাল বা বড়শিও ব্যবহার করা হচ্ছে। আর বেশিরভাগে ফাঁদে কীটনাশক ব্যবহার করা মাছ খেয়ে বিল এলাকায় আসা পাখিগুলো অচেতন হয়ে মারা যাচ্ছে।

কেউ কেউ আবার মানুষ আকৃতির খড়ের পালা তৈরি করে তার মধ্যে অবস্থান করছে। সহসাই ধরা পড়ছে বক, পানকৌড়ি, ঘুঘু, শালিক, মাছরাঙা, রাতচরা, পানকৌড়ি, বালিহাঁস ও সারসসহ নানা জাতের অতিথি পাখি।

এদিকে স্থানীয়রা জানান, হাটে-বাজারে প্রতিটি বক ও ঘুঘু ৮০-১০০, রাতচরা ১২০-১৫০, পানকৌড়ি ১০০-১২০ এবং বালিহাঁস ও সারস গড়ে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অপরদিকে এক শ্রেণীর সচেতন মানুষ অপরাধ জেনেও শিকারীদের কাছ থেকে অবাধে কিনছেন শিকার করা পাখি।
Pakhi shikar Photo-22

কথা হয় উপজেলার ডিবিগ্রাম ইউনিয়নের কাঁটাখালি এলাকার গড়গড়ি বিলে আসা দুই পাখি শিকারীর সঙ্গে। ঘাড়ে করে বাঁশের কঞ্চি, জাল ও বিষটোপ নিয়ে বিলের মধ্যে তারা দু’জন যাচ্ছেন পাখি শিকারে।

পাখি শিকার দন্ডনীয় অপরাধ এমন কথা জানালে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা বলেন, ‘অপরাধ তো জানি, কিন্তু বাজারে প্রচুর চাহিদা এবং ভাল দাম পাওয়া যায় বলে এ কাজ করছি।’

চাটমোহর সরকারি কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রভাষক আবদুল আলীম বলেন, প্রকৃতি ও পরিবেশ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে নানা প্রজাতির পাখ-পাখালি। তার ওপর যেভাবে নিরীহ পাখি নিধন করা হচ্ছে, তাতে প্রকৃতির খাদ্যশৃঙ্খলের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়বে।

পাশাপাশি কীটনাশক ব্যবহার করে শিকার করা পাখি রান্না করে খেলে মানবদেহের ব্যাপক ক্ষতি হবে। প্রশাসনের এ ব্যাপারে সচেতনতা বাড়াতে কাজ করা উচিত এবং পাখি শিকার বন্ধে নজরদারি বাড়ানো উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সরকার অসীম কুমার বলেন, ‘পাখি শিকার দন্ডনীয় অপরাধ। অচিরেই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে পাখি শিকারীদের আইনের আওতায় আনা হবে।’

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
khojkhobor.net-এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

আইটি সাপোর্ট ও ম্যানেজমেন্টঃ Creators IT Bangladesh