গাছের মগডালে উঠে যুবকের অনশন!

রবিবার, ০৩ মার্চ ২০১৯ | ১১:৪৩ অপরাহ্ণ | 450 বার

গাছের মগডালে উঠে যুবকের অনশন!
ছবি সংগৃহীত
Advertisements

রাস্তা নির্মানে বাঁধা দেওয়ার প্রতিবাদে ও রাস্তা সংস্কারের দাবিতে কাফনের কাপড় পরে একটি কড়ই গাছের ৫০ ফুট উঁচুতে উঠে অনশন করে অভিনব প্রতিবাদ জানিয়েছেন জহিরুল ইসলাম (২২) নামে এক যুবক। ঘটনাটি ঘটেছে রবিবার গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানার কোনাপাড়া গ্রামে। পাগলা থানা পুলিশ ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের সহায়তায় জহিরুল ইসলামকে গাছ থেকে নামিয়ে আটক করে থানায় নিয়ে এসেছে। জহিরুল পাগলা থানায় পুলিশ হেফাজতে আমরণ অনশন করছে।

এলাকাবাসী, পাগলা থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পাগলা সড়ক থেকে দত্তেবাজার ইউনিয়নের কোনাপাড়া গ্রাম হয়ে পাঁচুলী গ্রাম পর্যন্ত দেড় কিলোমিটার সড়কটি প্রস্থে ছোট। সড়কটির বেহাল অবস্থার কারণে পাগলা কোনাপাড়া ও পাচুঁলী গ্রামের প্রায় এক হাজার মানুষের দুর্ভোগের শেষ নেই। মাত্র ৬/৭ ফুট প্রস্থের সড়কটি দিয়ে ভালোভাবে একটি রিক্সাও চলতে পারে না।

বর্ষা-বাদলের দিনে হাঁটু সমান কাদার মধ্যে দিয়েই ওই রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে হয়। কম প্রস্থের এই সড়ক দিয়ে এই এলাকার রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিতে হাসপাতালে নিতে এবং কৃষকদের কৃষি পণ্য বাজারজাত করতে অবর্নণীয় দুভোর্গে পোহাতে হয়। এলাকাবাসীর আবেদন-নিবেদনের প্রেক্ষিতে সরকারি পর্যায় থেকে এই রাস্তাটি প্রশস্ত করনের জন্য বেশ কয়েকবার উদ্যোগ নেওয়া হলেও এই এলাকার কিছু চিহ্নিত লোকের বাঁধার কারনে রাস্তাটি সংস্কার ও প্রশস্তকরণ সম্ভব হয়নি।

সম্প্রতি পাগলা কোনাপাড়া আদর্শ ক্লাবের উদ্যোগে এলাকার যুব সমাজ রাস্তাটি নিজেদের অর্থে প্রশস্তকরণের কাজ শুরু করে। স্থানীয় দত্তেরবাজার ইউপি চেয়ারম্যান রোকসানা বেগমের সহযোগিতায় এই রাস্তার নামে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে কাবিটা প্রকল্প থেকে প্রাপ্ত অর্থ বরাদ্দ হয়। কাবিটা প্রকল্পের অর্থ ও এলকাবাসীর স্বেচ্ছা অনুদান থেকে প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে এই রাস্তাটি ১২ ফুট প্রশস্ককরন ও সংস্কারের কাজ পুরোদমে শুরু হয় গত ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে।

রাস্তাটি প্রশস্তকরনের সুবিধার্থে এলাকাবাসী তাদের প্রায় তিন শতাধিক গাছ কেটে নেয়। রাস্তাটির প্রশস্তকরণ কাজ মাত্র একশ মিটার হওয়ার পর রাস্তার হালটে থাকা বড় দুইটি কড়ই গাছ নিজেদের দাবি করে গাছ কাটতে বাধা দেয় কোনাপাড়া গ্রামের বেলাল হোসেন (৬০) ও আবুল হাশেম (৫০) নামে দুই ব্যক্তি। ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে বন্ধ হয়ে যায় রাস্তা প্রশস্তকরণ ও সংস্কার কাজ।

এ নিয়ে গত দুই সপ্তাহে বেশ কয়েকবার দেন-দরবার, সালিশ-বৈঠক হয়। কিন্ত প্রভাবশালী আবুল হাশেম ও বেলাল হোসেন তাদের বাড়ির নিকটে থাকা রাস্তায় থাকা দুইটি কড়ই গাছ কাটতে বাধা দেয় এবং গাছ কাটতে এলে খুন করার হুমকি দেয়।। রাস্তা প্রশস্তকরন ও সংস্কারের কাজ আর শুরু করতে পারেনি এলাকাবাসী।

কড়ই গাছগুলো কেটে পুনরায় রাস্তা প্রশস্তকরণ ও সংস্কার কাজ শুরু করার দাবিতে শনিবার গভীর রাতে কোনাপাড়া গ্রামের শাহাবুদ্দিনের ছেলে অনশন শুরু করে। খবর পেয়ে রবিবার সকালে কয়েক শত মানুষ কড়ইগাছ তলায় জমা হয়। জহিরুলের পরিবারের লোকজন ও এলাকাবাসীর শত অনুরোধ সত্বেও জহিরুল গাছ থেকে নামেনি।

এক পর্যায়ে পাগলা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। খবর দেওয়া হয় দমকল বাহিনীর কর্মীদের। দমকল বাহিনীর কর্মীদের সহায়তায় দুপুর ১২টার দিকে জহিরুলকে গাছ থেকে নামানো হয়। আটক করে পাগলা থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। শেষ খবর পাওয়া জহিরুল পাগলা থানায় আটক অবস্থায় আমরন অনশন করছে। গাছ কেটে রাস্তার কাজ পুনরায় শুরু না করলে সে অনশন ভাঙবে না বলে দাবি করছে।

দত্তেরবাজর কোনাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা গনি মাষ্টার (৬৫), কামরুল ইসলাম করিম(৩৫),মাসুদ আকন্দ (৪৫), সাইফুল ইসলাম(৪৬), নজরুর আকন্দ (৪২) বলেন, এই রাস্তাটি দওেরবাজার কোনাপাড়া ও পাচুঁলি গ্রামে এক হাজার মানুষের জন্য খুবই প্রয়োজন।

গত ২০ বছর ধরে একটি মহলের বাঁধার কারনে রাস্তাটি চলাচল উপযোগী বড় করা যাচ্ছে না। সহজ-সরল ছেলে জহিরুল আবেগের বশবর্তী হয়ে কাজটি করেছে। তারা জহিরুলের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করছে।

এ ব্যাপারে দত্তেরবাজার ইউপি চেয়ারম্যান রোকসানা বেগম বলেন, এলাকাবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে কোনাপাড়া গ্রামে রাস্তার কাজ শুরু হয়েছিল। একটি মহলের বিরোধিতার কারণে রাস্তার কাজটি বন্ধ হয়ে গিয়েছে। রাস্তার কাজটি পুনরায় শুরু করার দাবিতে জহিরুল এই কাজটি করেছে।

পাগলা থানার ওসি মোঃ শাহিনুজ্জামান বলেন, জিঙ্গাসাবাদের জন্য জহিরুলকে থানায় আটক রাখা হয়েছে।

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  
khojkhobor.net-এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

আইটি সাপোর্ট ও ম্যানেজমেন্টঃ Creators IT Bangladesh