কোটিপতি মকবুল আর লাখপতি আনোয়ার!

শনিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০১৮ | ৯:৪২ অপরাহ্ণ | 1351 বার

কোটিপতি মকবুল আর লাখপতি আনোয়ার!
ছবি : খোঁজখবর
Advertisements

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাবনা-৩ আসনে (চাটমোহর-ভাঙ্গুড়া-ফরিদপুর) এবার ভোটযুদ্ধ হবে আওয়ামীলীগ ও বিএনপির প্রার্থীর মধ্যে। সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে এ আসনে আওয়ামীলীগ থেকে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন আলহাজ্ব মো: মকবুল হোসেন। আর বিএনপি থেকে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন আলহাজ্ব কে এম আনোয়ারুল ইসলাম।

দুইবার করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া এই দুই অভিজ্ঞ রাজনীতিক কে নিয়ে তাই ভোটারদের মাঝেও রয়েছে আগ্রহ। শুরু হয়েছে বিশ্লেষন। কে কেমন, এমপি থাকাকালে কি করেছেন, নির্বাচিত হলেই বা কি করবেন, কোন প্রতিশ্রুতিতে ভোটারদের মন জয় করবেন- এমন নানা সমীকরণ নিয়ে সমালোচনা এখন চা স্টল থেকে শুরু করে সবখানে।

যেহেতু সবার আগ্রহ তাদের বিষয়ে জানার, সেহেতু আসুন দেখে নেয়া যাক মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় দেয়া তাদের হলফনামায় কি আছে। কে কেমন অর্থ সম্পদের মালিক।

হলফনামার বিশ্লেষনে দেখা গেছে, তাদের মধ্যে কোটিপতি মকবুল হোসেনের নগদ টাকা আছে ১ কোটি ৫ লাখ টাকা। আর লাখপতি আনোয়ারুল ইসলামের নগদ টাকা আছে ২৯ লাখ ৪ হাজার ৬৩৩ টাকা। শিক্ষাগত যোগ্যতায় এগিয়ে আনোয়ারুল ইসলাম স্নাতক পাশ। মকবুল হোসেন এসএসসি পাশ।

আলহাজ্ব মো: মকবুল হোসেন : হলফনামায় তার নাম উল্লেখ করা হয়েছে মো: মকবুল হোসেন। পিতা মহসীন আলী। ঠিকানা: মহল্লা-সরদারপাড়া, ভাঙ্গুড়া, পাবনা। তার শিক্ষাগত যোগ্যতা এস এস সি পাশ। পেশা ‘জোতদারী’। বর্তমানে ও অতীতে মকবুল হোসেনের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারী মামলা নেই বা ছিলনা।

হলফনামার তথ্য মতে, আয়ের উৎস হিসেবে মকবুল হোসেনের বছরে আয় ১২ লাখ ৭৫ হাজার ৮০৮ টাকা। এর মধ্যে কৃষি খাত থেকে তার বার্ষিক আয় ১ লাখ টাকা। বাড়ি/এপার্টমেন্ট/দোকান বা অন্যান্য ভাড়া বাবদ বার্ষিক আয় ৩ লাখ ৬৫ হাজার ৮০৮ টাকা। জমি লীজ দেয়া বাবদ আয় বছরে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। সংসদ সদস্য হিসেবে বছরে সম্মানী পেয়েছেন ৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা।

অস্থাবর সম্পদ হিসেবে মকবুল হোসেনের নগদ টাকা আছে ১ কোটি ৫ লাখ টাকা। তবে কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে তার টাকা জমা নেই। তার একটি মিটসুবিসি পাজেরো (ঢাকা মেট্রো-চ-১৩-৫৫৪৪) জীপ আছে, যার মুল্য ৪৭ লাখ ৭৫ হাজার ৮৭১ টাকা। অলংকার আছে ১০ তোলা।

ইলেক্ট্রনিক সামগ্রীর মধ্যে আছে ২টি ফ্রিজ, ২টি টিভি, ১০টি ফ্যান। অথচ এসব সামগ্রীর মুল্য ধরা হয়েছে মাত্র ৫৩ হাজার টাকা। আসবাবপত্র হিসেবে রয়েছে ২টি খাট, ২টি আলনা, ড্রেসিং টেবিল ১টি, সোফা ১ সেট। যার মুল্য দেখানো হয়েছে মাত্র ২ হাজার টাকা।

অপরদিকে স্থাবর সম্পদের মধ্যে মকবুল হোসেনের আছে কৃষি জমি ২০ বিঘা, স্ত্রীর নামে ০.৯০ একর, অকৃষি জমি ০.০৭ একর, আবাসিক ভবন হিসেবে তার একটি দালান বাড়ি রয়েছে, যার মুল্য দেখিয়েছেন ৫ লাখ ৫১ হাজার ৬০০ টাকা।

তার কোনো ব্যাংক ঋণের বকেয়া নেই। ইতিপুর্বে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার আগে মকবুল হোসেন ভোটারদের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তার প্রায় সকল প্রতিশ্রুতি তিনি বাস্তবায়ন করেছেন বলে উল্লেখ করেছেন হলফনামায়। মকবুল হোসেনের আয়ের উৎস ও স্থাবর সম্পদের মধ্যে তার স্ত্রীর নামে কোনো সম্পদ নেই।

আলহাজ্ব কে এম আনোয়ারুল ইসলাম : হলফনামায় তার নাম উল্লেখ করা হয়েছে কে. এম. আনোয়ারুল ইসলাম। পিতা খন্দকার ইউসুফ আলী, মাতা মিসেস মাজেদা খাতুন। ঠিকানা-উপজেলা সড়ক, পাঠানপাড়া, চাটমোহর, পাবনা। তার শিক্ষাগত যোগত্যা স্নাতক পাশ। পেশা ‘কৃষি ও মজুদ মালের ব্যবসা’।

তার বিরুদ্ধে বর্তমানে একটি ফৌজদারী মামলা রয়েছে। যে মামলাটি উচ্চ আদালত স্থগিতাদেশ প্রদান করেছেন। এছাড়া অতীতে তার বিরুদ্ধে ৪টি ফৌজদারী মামলা ছিল। যেগুলো নিষ্পত্তি হওয়ায় তিনি সব মামলা থেকে অব্যহতি পেয়েছেন।

হলফনামায় আয়ের উৎসে বর্ণিত তথ্য মতে, আনোয়ারুল ইসলামের বছরে আয় ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এর মধ্যে কৃষি খাত থেকে বছরে আয় দেখিয়েছেন ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা। বাড়ি/এপার্টমেন্ট/দোকান বা অন্যান্য ভাড়া বাবদ বার্ষিক আয় ৪৮ হাজার টাকা।

ব্যবসা থেকে বছরে আয় ২ লাখ ২২ হাজার টাকা। অস্থাবর সম্পদের মধ্যে তার নগদ টাকা আছে ২৯ লাখ ৪ হাজার ৬৩৩ টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে তার জমা রয়েছে ৯৫ হাজার ৩৬৭ টাকা। আনোয়ারুল ইসলামের উত্তরাধিকার সুত্রে প্রাপ্ত একটি টয়োটা মাইক্রোবাস আছে। রয়েছে ৭ ভর্রি স্বর্ন।

ইলেকট্রনিক সামগ্রীর মধ্যে আছে একটি টেলিভিশন, একটি ফ্রিজ, ৭টি সিলিং ফ্যান, যার মোটা মুল্য ধরা হয়েছে ৫০ হাজার টাকা। অপরদিকে স্থাবর সম্পদের মধ্যে সাবেক এই সংসদ সদস্যের রয়েছে ১০.৮৩ একর কৃষি জমি। যার মুল্য ৫১ লাখ ১২ হাজার ৬০০ টাকা। অকৃষি জমি আছে ০.৪১৫৭ একর, মুল্য ৫৬ হাজার ৩৩৩ টাকা। আর দালান কিংবা আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবনের সংখ্যা উল্লেখ না করলেও মুল্য দেখিয়েছেন ১০ লাখ ৯৮ হাজার ৬৬৭ টাকা।

ইতিপুর্বে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার সময় ভোটারদের কাছে তার প্রতিশ্রুতি ছিল এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য রাস্তা, ব্রীজ ও কালভার্ট নির্মাণ, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা ব্যবস্থার সার্বিক মান উন্নয়ন ও দারিদ্র বিমোচন। যার সবগুলো অর্জিত হয়েছিল বলে উল্লেখ করেছেন তার হলফনামায়। কোনো ব্যাংকে তার কোনো ঋণ বকেয়া নেই।

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
khojkhobor.net-এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

আইটি সাপোর্ট ও ম্যানেজমেন্টঃ Creators IT Bangladesh