ফলোআপ

‘কারিমা’র মাকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে রেখেছিলেন কাদের’

সোমবার, ২০ আগস্ট ২০১৮ | ৬:২০ অপরাহ্ণ | 611 বার

‘কারিমা’র মাকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে রেখেছিলেন কাদের’

পাবনার ঈশ্বরদীতে আলোচিত বাবা কর্তৃক ১৪ মাস বয়সী শিশু কন্যা কারিমাকে হত্যার জট খুলতে শুরু করেছে। অধ্যক্ষ পিতা কাদেরুজ্জামান ঠান্ডা মাথায় তার কন্যাকে মেরে ফেলেছে বলে নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ ও কারিমা’র মা সুবর্ণা আক্তার ইতি।

সোমবার কারিমার মা সূবর্ণার সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি বলেন, আমার বুকের ধনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে তার বাবা নিজেই। তিনি বলেন, আগের রাতে তাকে শরবত খাইয়েছিলেন তার স্বামী কাদেরুজ্জামান। কিন্তু শরবতের সঙ্গে যে ঘুমের ওষুধ মেশানো ছিল তা তিনি বুঝতে পারেননি।

শনিবার (১৮ আগস্ট) খুব সকালে মেয়েকে নিজ হাতে নতুন কাপড় পরিয়ে যখন নিয়ে যান তখনও ঘুমে বিভোর ছিলেন তিনি। শিশুকন্যার শোকে বারবার মুর্ছা যাচ্ছিলেন মা সুবর্ণা আক্তার ইতি।

প্রতিবেশি ঈশ্বরদী পৌরসভার নারী কাউন্সিলর ফিরোজা বেগম বলেন, তাকে সুস্থ্য করে তুলতে নিজের বাসায় এনে রেখে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছেন তিনি। এদিকে শিশুসন্তানের ঘাতক পিতা অধ্যক্ষ কাদেরুজ্জামান নিজ হাতে তার প্রতিষ্ঠানের পিওন রাসেলকে উদ্দেশ্য করে লেখা চিঠিটি যে তিনি নিজেই লিখেছেন, লেখা দেখে তা নিশ্চিত হয়েছেন স্ত্রী সুবর্ণা আক্তার ইতি।

চিঠিতে তিনি উলে­খ করেছেন “রাসেল-পল্লব আমাকে বাঁচতে দিবেনা, আমি রেজিস্ট্রেশন কার্ড তুলতে পারিনাই। তাই পলল্লব এর কাছে অপমান হওয়ার থেকে মৃত্যু অনেক ভাল, আমার মৃত্যু হলে আমার মেয়ের ভবিষ্যত অনেক খারাপ হবে তাই মেয়েকে আমিই মেরে ফেললাম, পাশের ঘরের ড্রামে আমার মেয়ের লাশ আছে।”

চিঠির শেষ অংশে পাবনার ইসলামিক পলিটেকনিকের আর একজন ছাত্র গোলাম রাব্বি তার সঙ্গে ব্ল্যাকমেইল করে অনেক টাকা নিচ্ছে বলে উলে­খ করেছেন অধ্যক্ষ কাদেরুজ্জাান।”

এই চিঠিতে উল্লে­খ করা পল্ল­ব ও গোলাম রাব্বির পরিচয় জানার চেষ্টা করা হলেও তাদের পরিচয় পাওয়া যায়নি, তবে তারা দু’জন পাবনায় থাকেন বলে নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ।

অধ্যক্ষ কাদেরুজ্জামানের প্রতিষ্ঠান আইআইএসটি পলিটেকনিকের পিওন রাসেল জানান, শনিবার সকালে স্যার আমার মোবাইলে এসএমএস করে তার মেয়েকে মেরে ফেলার জন্য কলেজে আসবেন বলে জানিয়েছিলেন, রাসেলের বাড়ি উপজেলার পাকুড়িয়া গ্রামে। স্যারের এ ধরনের একটি এসএমএস পেয়ে দ্রুত কলেজে আসার জন্য বাড়ি থেকে রওয়ানা দিয়েও কলেজে এসে পৌঁছার আগেই মেয়েটিকে মেরে ফেলেন স্যার।

ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আজিম উদ্দিন বলেন, এ ঘটনায় কাদেরুজ্জামানকে একমাত্র আসামী করে ঈশ্বরদী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। অসুস্থ্য থাকায় পুলিশি হেফাজতে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে তিনি এখনো আটক অবস্থায় রয়েছেন। সুস্থ্য হওয়ার পর তাকে নিয়ম অনুযায়ী রিমান্ডে এনে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। আর সন্দেহভাজন পল্ল­ব ও গোলাম রাব্বি কে খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।

এদিকে ঈশ্বরদী পৌর কাউন্সিলর ফিরোজা বেগম জানিয়েছেন, রবিবার জ্ঞান ফেরার পর মেয়েকে হত্যার কথা স্বীকার করে কাদেরুজ্জামান বলেছেন, আমি ভুল করেছি, তবে আমি বেঁচে থাকবো তা আশা করিনি।

উল্লে­খ্য, শনিবার (১৮ আগস্ট) ঈশ্বরদী সরকারী কলেজের পেছনের আইআইএসটি পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের একটি ড্রামের মধ্যে ভাসমান অবস্থায় শিশু কারিমার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই পলিটেকনিকের অধ্যক্ষ কাদেরুজ্জামান নিজেই তার শিশুকন্যাকে হত্যা করে।

খোঁজখবর/এসআর

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  
khojkhobor.net-এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

আইটি সাপোর্ট ও ম্যানেজমেন্টঃ Creators IT Bangladesh

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্টঃ WebNewsDesign