কথা রাখলেন ইউএনও, ভর্তি হলো মিতু

বৃহস্পতিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ | ৩:৪৪ অপরাহ্ণ | 650 বার

কথা রাখলেন ইউএনও, ভর্তি হলো মিতু
Advertisements

কথা রাখলেন চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সরকার অসীম কুমার। উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের ধূলাউড়ি গ্রামের সেই বাকপ্রতিবন্ধী মিতুকে বুধবার সকালে শিল্পকলা এ্যাকাডেমিতে চিত্রাংকন বিভাগে ভর্তি করালেন তিনি।

পরে শিল্পকলা এ্যাকাডেমির ভবনে অনুষ্ঠিত শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে চিত্রাংকন ও রচনা প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় মিতু। এরপর মিতুকে বেশ কিছু খাবার ও রঙ করার সামগ্রী উপহার ইউএনও। এ সময় প্রতিযোগিতায় আসা শিশু শিক্ষার্থীরা মিতুকে নিয়ে গল্পে মেতে ওঠে।

এরআগে ‘বাকপ্রতিবন্ধী মিতুর আঁকানো ছবি কথা বলে!’ শিরোনামে গত ১৫ ফেব্রুয়ারী খোঁজ খবর ডট নেট-এ একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। পরে মঙ্গলবার (১৯ ফেব্রুয়ারী) মিতুর বাড়িতে গিয়ে তার পড়াশোনাসহ সার্বিক দায়িত্ব নেন ইউএনও।

এ সময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সরকার অসীম কুমার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইকতেখারুল ইসলাম, ইউএনও পত্নী প্রিয়াংকা সিকদার, সমাজ সেবা অফিসার মো. রেজাউল করিম, সহকারী শিক্ষা অফিসার আনোয়ার হোসেন, সহকারী ইনস্ট্রাকটর কল্যাণ কুমার, এ্যাকাডেমিক সুপারভাইজার গোলাম মোস্তফা, শিল্পকলা এ্যাকাডেমির অংকন শিক্ষক মানিক দাসসহ বিভিন্ন অফিসের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পরে মিতুর প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড দ্রুত সময়ের মধ্যে করে দেয়ার জন্য সমাজ সেবা অফিসারকে নির্দেশ দেন ইউএনও।

উল্লেখ্য, বাকপ্রতিবন্ধী মিতু রানী দাসের কখনও শেখা হয়নি অংকন শিক্ষা। দেখে বোঝার উপায় নেই শুধুমাত্র চোখের দেখায় প্রতিনিয়ত এঁকে চলেছে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সজীব ওয়াজেদ জয়সহ নানা গুণীজনের ছবি। যা দেখে অবাক হয়েছেন অনেকেই।

পাবনার চাটমোহর উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের ধূলাউড়ি ঘোষপাড়া গ্রামের দরিদ্র কৃষক কুটিশ্বর ও গৃহিণী সুমিত্রা রানী দাস দম্পতির ছোট মেয়ে মিতু। গত বছর এসএসসি পরীক্ষায় আইসিটি বিষয়ে অকৃতকার্য হয় মিতু। সেই অকৃতকার্য হওয়া বিষয়ে চলতি বছরে আবারও পরীক্ষা দেয় সে। তবে অসাধারণ প্রতিভাবান ও মেধাবী এই তরুণীর ভাগ্যে জোটেনি কোনো ভাতা! সংসারে অভাব থাকলেও মেয়ের এমন আগ্রহ ও প্রতিভা দেখে বাধা হয়ে দাঁড়াননি বাবা-মা।

চার ভাইবোনের মধ্যে সবার ছোট মিতু। বড় বোন রেপা রানী দাসও বাকপ্রতিবন্ধী। অনেক কষ্টে তার বিয়ে দিয়েছেন বাবা-মা। মেজ বোন রিতা মাস্টার্স পাস করার পর বিয়ে হয়। বড় ভাই রিপন কুমার দাস ঢাকার একটি কলেজে পড়াশোনা করে। দারিদ্রতার কশাঘাতে জর্জরিত কুটিশ্বর দাস শত কষ্টের মাঝেও মিতুকে উৎসাহ দিয়ে গেছেন।

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
khojkhobor.net-এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

আইটি সাপোর্ট ও ম্যানেজমেন্টঃ Creators IT Bangladesh