এ সময় থেকে আমরা যেভাবে বেড়োবো

বৃহস্পতিবার, ১৮ এপ্রিল ২০১৯ | ১২:৩৯ পূর্বাহ্ণ | 462 বার

এ সময় থেকে আমরা যেভাবে বেড়োবো
Advertisements

চাটমোহরে আশংকাজনকভাবে বেড়ে গেছে ধর্ষণের সংখ্যা। চলতি মাসের প্রথম ১৭ দিনে ১ টি ধর্ষণ ও ২ টি ধর্ষণ চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে।

২ এপ্রিল পৈলানপুরে ধর্ষিত হয় তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রী। ৬ এপ্রিল হরিপুরের রামপুরে চড়ইকোল উচ্চবিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেনীর এক ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়। সর্বশেষ ১৬ এপ্রিল পার্শডাঙ্গার বোয়ালিয়ায় আরেক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায় ধর্ষণ চেষ্টাকারী।

সামাজিক সংগঠন চেতনায় চাটমোহর-এর তথ্য অনুযায়ী, এ বছরে আরো ২ টি ধর্ষণ এবং ১ টি ধর্ষণ চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। ৬ জানুয়ারী নিমাইচড়ার মির্জাপুরে স্বামী পরিত্যক্তা এক মহিলা ধর্ষিত হয়। ১৪ মার্চ মূলগ্রামের মহরমখালি গ্রামে ৬ষ্ট শ্রেণীর এক ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা করা হয়। ১৮ মার্চ মূলগ্রামের শাহপুরে শিশুশ্রেণীর এক ছাত্রী ধর্ষিত হয়।

গত সাড়ে ৩ মাসে ঘটা এ ৬ টি ঘটনা বিশ্লেষন করে দেখা যায়- ৬ জন ভিক্টিমের ৫ জনের বয়স ৬ থেকে ১৪। ৬ জনের ৩ জন বাবা-মা’র থেকে আলাদা অর্থ্যাৎ নানা বাড়িতে থাকে এবং ১ জন স্বামী পরিত্যক্তা। (অর্থ্যাৎ এ ৪ জন সমাজ প্রচলিত অভিভাবকহীন)

৬ জন ভিক্টিমই দরিদ্র পরিবারের, যাদের ৪ জনই এ পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিলো নিজ বাড়িতে, যখন বাড়িতে আর কেউ ছিলো না। ৬ জন ভিক্টিমের ২ জন প্রাথমিকভাবে চেপে গেছে, পরবর্তিতে রক্তক্ষরণ শুরু হলে হাসপাতালে নিয়ে আসছে, ৩ জনের চিৎকারে এলাকাবাসী চলে আসছে। ২ জনকে ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে যেন সে চুপ থাকে।

এ সকল দিক বিশ্লেষন করে, যে বিষয়গুলো পাওয়া যায়-

এক. ধর্ষণ কিংবা ধর্ষণ চেষ্টার বিষয়গুলো ভীতির কারনে ভিক্টিম এবং লোকলজ্জার ভয়ে তাদের পরিবার সামনে আনতে চায় না। হয়তো এ সময়ে ধর্ষণের আরো ঘটনা ঘটেছে, যা সামনে আসে নি।

দুই. অভিভাবকহীন মেয়েরা শিকারে পরিনত হচ্ছে তাই মা-বাবার উচিত সন্তানকে নিজেদের কাছে রাখা। নিরুপায় হয়ে যদি অন্যত্র রাখতেই হয় তবে সেই পরিবারের উচিত বিশেষ নজর রাখা।

তিন. যেহেতু অধিকাংশ মেয়ে নিজ বাড়িতে এ পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে, তাই ধরে নেয়া যায় কপট পুরুষটি আশেপাশের এবং তারা দীর্ঘদিন ধরে এমন সুযোগ খুঁজেছে। এদের বিষয়ে আগেই সতর্ক হবার সুযোগ ছিলো।

চার. ৬ জন ভিক্টিমের সকলেই দরিদ্র পরিবারের, এটা কী আমাদের সমাজের বিচারহীনতার দিকটি নির্দেশ করে? দরিদ্র বলে ওদের সমাজে প্রভাব নেই, তাই কিছু করলেও সমস্যা নেই!

এখন প্রশ্ন হলো, এ বাজে সময়ে দাড়িয়ে আমাদের করনীয় কী?

এটা খুব দুঃখজনক যে, এ বছরে ঘটা ৬ টি ঘটনার ৫ জন ভিক্টিম বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। কিন্তু এই ৫ জনের জন্য তাদের স্ব স্ব বিদ্যালয়ের ভূমিকা কী ছিলো?

৫ টি বিদ্যালয় যদি তাদের ছাত্রীর সাথে ঘটে যাওয়া এ নৃশংসতার প্রতিবাদ করতো, নিজ প্রতিষ্ঠানের সামনে সকল শিক্ষার্থী নিয়ে ১ ঘন্টা দাড়াতো, সে প্রতিবাদে দাঁড়ানোর জন্য আমন্ত্রন করতো বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি, ইউপি চেয়ারম্যান, ওয়ার্ড মেম্বার, মসজিদের ইমাম থেকে সমাজের গুরুত্বপূর্ন ব্যক্তিদের, তবে স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা তৈরী হতো এবং ভিক্টিমকে মানসিকভাবে শক্তিশালী করা সম্ভব হতো।

খেয়াল করুন, ভিক্টিমেরা অধিকাংশই মা-বাবা ছাড়া নানা বাড়িতে থাকে, সে নানাও দরিদ্র। ধর্ষকেরা এটার সুযোগ নিয়েছে। তারা ফাঁকা বাড়ি কবে পাবে সে সুযোগ সন্ধান করে গেছে। তাদের দৃঢ় বিশ্বাস ছিলো, ধর্ষনের পর ভয়ভীতি দেখালে চুপ থাকবে অথবা লোকলজ্জার ভয়ে চুপ থাকবে। যদি প্রকাশ হয়েও যায় দরিদ্র তো তাই অল্লতে মিমাংসা করে ফেলা যাবে।

এ সময়ে আমাদের বড় কাজ হবে, এ সকল চিন্তার জায়গাটা ভেঙ্গে ফেলা। ভিক্টিম দরিদ্র হলেও কোন অঘটন ঘটলে সে আর দরিদ্র থাকবে না, তার বিদ্যালয় থেকে শুরু করে সকল বোধ সম্পন্ন মানুষ তার পাশে দাড়াবে। ভিক্টিম ভয়ে লজ্জায় চুপ থাকতে চাইলেও তার হয়ে হাজারো কন্ঠ কথা বলবে।

এ বাজে সময়ে শুধু এতটুকু নিশ্চিত করলেই, এ সমস্যার অনেক ভালো সুফল পাওয়া যাবে।

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
khojkhobor.net-এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

আইটি সাপোর্ট ও ম্যানেজমেন্টঃ Creators IT Bangladesh