এমপিওভুক্ত না হওয়ার হতাশায় ভাঙ্গুড়ায় শিক্ষকের আত্মহত্যা

বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২০ | ১১:২৫ অপরাহ্ণ | 157 বার

এমপিওভুক্ত না হওয়ার হতাশায় ভাঙ্গুড়ায় শিক্ষকের আত্মহত্যা
Advertisements

পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার সদ্য এমপিওভুক্ত মমতাজ মোস্তফা আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজের ক্রীড়া শিক্ষক গোলাম মোস্তফা আত্মহত্যা করেছেন। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ভোরে উপজেলার পারভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের টলটলিয়াপাড়া গ্রামে নিজ বাসভবনে বারান্দার গ্রিলের সঙ্গে গলায় গামছা পেঁচিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেন।

ওই বিদ্যালয়ের ছয় শিক্ষক সম্প্রতি এমপিওভুক্ত হলেও তিনি বাদ পড়ায় হতাশাগ্রস্থ হয়ে এই আত্মহত্যার পথ বেঁছে নেন বলে জানায় গোলাম মোস্তফার সহকর্মী ও পরিবারের সদস্যরা।

স্কুল ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, নিহত গোলাম মোস্তফা প্রায় দেড় যুগ আগে পার্শ্ববর্তী ফরিদপুর উপজেলার পৌর মহিলা ডিগ্রী কলেজে ক্রীড়া শিক্ষক হিসেবে চাকরি নেয়। কিন্তু ওই প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত না হওয়ায় এক পর্যায়ে তিনি চাকরি ছেড়ে দেন। এরপর তিনি ভাঙ্গুড়া উপজেলার আরেকটি নন-এমপিও প্রতিষ্ঠান মমতাজ মোস্তফা আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজে ক্রীড়া শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। গত বছর মমতাজ মোস্তফা আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজকে এমপিওভুক্ত ঘোষণা করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। পরে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ মোতাবেক শিক্ষক এমপিও ভুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও অফিশিয়ালি মেইনটেইন করার কাজ শুরু করে শিক্ষকরা।

কিন্তু গোলাম মোস্তফার বিপিএড ডিগ্রীর মূল মার্কশিট না থাকায় এমপিওভুক্তির প্রক্রিয়া থেকে বাদ পড়ে যান। এ অবস্থায় করোনা পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘদিন অফিস-আদালত বন্ধ থাকায় গোলাম মোস্তফা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তার বিপিএড ডিগ্রির মূল মার্কশিট আর উত্তোলন করতে পারেনি। এ কারণে বিদ্যালয়ের ৬ জন শিক্ষক এমপিও ভুক্ত হলেও তিনি বাদ পড়ে যান, ফলে বেতন ভাতা বঞ্ছিত হন। এতে গত কয়েকদিন ধরে প্রচন্ড মানসিক হতাশায় ভুগছিলেন গোলাম মোস্তফা। এরপর বৃহস্পতিবার ভোর বেলায় নিজের বাসার বারান্দার গ্রিলের সঙ্গে গলায় গামছা পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন দুই কন্যা সন্তানের জনক গোলাম মোস্তফা।

গোলাম মোস্তফার স্ত্রী স্কুল শিক্ষিকা ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, সহকর্মীদের অনেকের বেতন হয়ে গেছে। কিন্তু ছোট্ট একটি সমস্যায় তার বেতন হয়নি। এ কারণে কয়েকদিন খুব হতাশায় ভুগছিলেন তিনি।

ভাঙ্গুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদ রানা বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে মানসিকভাবে হতাশাগ্রস্ত হয়ে বারান্দার গ্রীলে গামছা পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন ওই স্কুল শিক্ষক। তার শরীরে কোনো ক্ষতের চিহ্ন নেই। তবে নিঃশ্বাস বন্ধ হওয়ার সময় ছোটাছুটি করার সময় দেয়ালের সঙ্গে পা আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে রক্তাক্ত হয়েছে। তবে মরদেহ ময়না তদন্তের পরে প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১  
khojkhobor.net-এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

আইটি সাপোর্ট ও ম্যানেজমেন্টঃ Creators IT Bangladesh