এক হাতেই সংসারের চাকা ঘোরাচ্ছেন অরুন দাশ

বুধবার, ০৪ আগস্ট ২০২১ | ৯:৪৩ অপরাহ্ণ | 163 বার

এক হাতেই সংসারের চাকা ঘোরাচ্ছেন অরুন দাশ

চালকলে শ্রমিকের কাজ করতে গিয়ে মেশিনের ফিতায় লুঙ্গী জড়িয়ে দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় অরুন দাশ (৪৯) এর ডান হাত। আঘাত পান ডান পায়েও। তারপর থেকে দু:সহ জীবন যন্ত্রণা বয়ে বেড়াচ্ছেন তিনি। তবুও থেমে নেই জীবনযুদ্ধ। অভাবের সাথে লড়াই করে ২৭ বছর ধরে এক হাতেই ঘোরাচ্ছেন সংসারের চাকা।

অরুন দাশ পাবনার চাটমোহর উপজেলার মুলগ্রাম ইউনিয়নের অমৃতকুন্ডা গ্রামের মৃত নরেন চন্দ্রের ছেলে।

আলাপকালে তিনি বলেন, ১৯৮৮ সালে স্থানীয় একটি রাইচ মিলে শ্রমিকের কাজ করার সময় মোটর লাইনের চলন্ত চাকার শেফের ফিতার সাথে অরুন দাশের লুঙ্গী জড়িয়ে যায়। তাতে ডান হাত দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং ডান পায়ে আঘাত পান। দূর্ঘটনার ৬ মাস পর সুস্থ হন। তখন মিলের মালিক জীবিকার তাগিদে তাকে ডেকে নিয়ে কাজ দেন। এক হাতেই আবার কাজ শুরু করেন জীবন সংগ্রাম। এভাবে ২/৩ বছর কাজ করার পর মিলটি বন্ধ হয়ে যায়।

১৯৯৫ সালে তিনি বিয়ে করেন তুলসী রানী (৩৫) কে। তাদের সংসারে আসে ৬টি কন্যা সন্তান। ছেলে সন্তানের আশায় একে একে মেয়ে সন্তান জন্ম নেয়। তার মধ্যে ৩ মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে। ইচ্ছা ছিল ছেলে সন্তান হলে সে চাকুরী করে সংসারের হাল ধরবে। কিন্তু সে স্বপ্ন পূরণ হয়নি তাদের।

তিন মেয়েকে বিয়ে দেয়ার পর বর্তমানে আরো ৩ মেয়ে, স্ত্রী ও মাকে নিয়ে ছয়জানের সংসার চালান অরুন দাশ। মেয়েদের মধ্যে বিয়ে দিয়েছেন পুর্নিমা দাশ, অনিমা দাশ ও সাগরি দাশকে। আর বাড়িতে থেকে লেখাপড়া করছে পুজয় দাশ (তৃতীয় শ্রেণী), সুস্মিতা দাশ (তৃতীয় শ্রেণী) ও উষ্মিতা দাশ (দ্বিতীয় শ্রেণী)।

অরুন দাশ বলেন, বিয়ের এক বছর পর কি করবো ভেবে না পেয়ে এক হাত দিয়েই বাঁশ দিয়ে হাঁস-মুরগী টুপা তৈরী করে বিভিন্ন হাটে ও গ্রামে বিক্রি শুরু করেন। দিনে ৫/৭টি টুপা তৈরী করতে পারেন। প্রতিটি টুপা বিক্রি করেন ৬০ টাকায়। অরুন দাশের কাজে তার মা ও স্ত্রী সহযোগিতা করেন। বাঁশ কিনে আনা থেকে শুরু করে কাটা তৈরী সব এক হাতে করেন তিনি।

আর এত কষ্টের মাঝেও কারো কাছে কখনও হাত পাতেননি অরুন দাশ। নিজে নিজেই আয় করে চলতে বদ্ধ পরিকর তিনি। এর আগে প্রথম মেয়ে জন্মের পর দুইবার ঢাকায় গেছেন গার্মেন্টস এ চাকুরী করতে। এক হাত নেই বলে তারা চাকুরী দেয়নি। কখনও না খেয়েও দিন কাটাতে হয়েছে তাদের। পাটখড়ির বেড়া দিয়ে ভাঙ্গাচোরা ঘর কোনো রকমে মাথা গুঁজে পড়ে থাকছেন। সমিতি থেকে ঋণ নিয়ে তিনি বাঁশের টুপা তৈরী করে জীবন সংসারের চাকা ঘোরাচ্ছেন। কিন্তু যখন পুুঁজি শেষ হয়ে যায় তখন কষ্ট হয়।

এমন পরিস্থিতিতে তিনি চাইলেন সরকারি, বেসরকারি সহযোগিতা এবং সমাজের বিত্তবান দয়ালু মানুষের সহানুভুতি। একটু সহযোগিতায় করোনার এই দু:সময়ে স্বচ্ছলতা ফিরতে পারে অরুন দাশের সংসারে।

এ বিষয়ে চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈকত ইসলাম বলেন, আমি অরুন দাশকে জানি। এত কষ্ট সংগ্রাম করেও ভিক্ষা করে না। তার ব্যবসার পুঁজি করে দিতে স্থানীয় সংসদ সদস্য মহোদয়ের সাথে কথা বলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তহবিল থেকে সহযোগিতা এনে দেয়া যায় কি না সে চেষ্টা করবো।

অরুন দাশকে সহযোগিতা করতে চাইলে যোগাযোগ করতে পারেন এই নাম্বারে ০১৭৩৬-৭৪৫১৭৫ (বিকাশ পার্সোনাল)।

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০  
khojkhobor.net-এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

আইটি সাপোর্ট ও ম্যানেজমেন্টঃ Creators IT Bangladesh

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্টঃ WebNewsDesign