পরিবারকে আর্থিক অনুদান

একজন মায়ের কান্না দেখে কাঁদলেন ইউএনও

বৃহস্পতিবার, ২৩ মে ২০১৯ | ৯:০৬ অপরাহ্ণ | 554 বার

একজন মায়ের কান্না দেখে কাঁদলেন ইউএনও
ইউএনওকে জড়িয়ে কাঁদছেন নিহত ফরিদের মা। এ সময় কান্না লুকাতে পারেননি ইউএনও সরকার অসীম কুমারও।
Advertisements

মানবিকতার অনন্য নজির স্থাপন করলেন পাবনার চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সরকার অসীম কুমার। সেপটিক ট্যাংকে পড়ে নিহত উপজেলার ভাদড়া গ্রামের দিনমজুর বক্কার হোসেনের ছেলে নির্মাণ শ্রমিক ফরিদ হোসেনের পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন তিনি।

একমাত্র ছেলে ফরিদকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ মা ফরিদা খাতুন ইউএনও’কে কাছে পেয়ে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। কান্না চেপে রাখতে পারেননি ইউএনও সরকার অসীম কুমারও। তার চোখ বেয়ে গড়িয়ে পড়ছিল অশ্রু। এ সময় ওই বাড়িতে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়।

এর আগে গত ১৮ মে পৌর শহরের আফ্রাতপাড়া মহল্লায় অধ্যাপিকা খালেদা আক্তারের নির্মানাধীন বাড়ির সামনে নতুন সেপটিক ট্যাংকি পরিস্কার করতে গিয়ে দম বন্ধ হয়ে মারা যান এসএসসি পরীক্ষার্থী নির্মাণ শ্রমিক ফরিদ।

বৃহস্পতিবার (২৩ মে) সকাল ১১টার দিকে সরকার অসীম কুমার উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার শামীম এহসানকে সঙ্গে করে ফরিদের বাড়িতে গিয়ে জেলা প্রশাসকের সহযোগিতায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ফরিদের মা ফরিদা খাতুনের হাতে নগদ ২০ হাজার টাকা এবং চাল-ডালসহ শুকনা খাবার তুলে দেন।

এছাড়া ফরিদা খাতুনকে উপজেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের মাধ্যমে সেলাই প্রশিক্ষণ দিয়ে সেলাই মেশিন উপহার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।

১৯ মে খোঁজখবর ডটনেটে ‘এসএসসি পরীক্ষা দিতে পারল না ফরিদ’ শিরোনামে সচিত্র সংবাদ প্রকাশিত হলে খবরটি ইউএনও সরকার অসীম কুমারের নজরে আসে। পরে তিনি ফরিদের পরিবার সম্পর্কে খোঁজ খবর নেন এবং সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

ফরিদা খাতুন এ সময় আবেগতাড়িত কন্ঠে বলেন, আমি ছেলেকে আর ফিরে পাব না। কিন্তু আজ আমি আরেক ছেলে (ইউএনও) কাছে পেলাম। এ ঋণ আমি কোনদিন শোধ করতে পারবো না।

সরকার অসীম কুমার বলেন, ছেলে হারানোর বেদনা যে কি তা একজন মা সবচেয়ে বেশি বোঝেন। বিষয়টি হৃদয় দিয়ে অনুভব করার। আমরা তার ছেলের অভাব পূরণ করতে না পারলেও পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি। আগামীতে আরও সহযোগিতা করা হবে। ফরিদের মতো মেধাবী ছাত্র ও পরিশ্রমীরা যেন অকালে না হারিয়ে যায় এজন্য সরকার এখন অনেক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে।

উল্লেখ্য, উপজেলার ভাদড়া গ্রামের দিনমজুর বক্কার হোসেন ও গৃহিনী ফরিদা খাতুনের একমাত্র ছেলে ফরিদ হোসেন। মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার পর ঋধগ্রস্থ বাবাকে সহযোগিতা করতে পড়াশোনার পাশাপাশি নির্মাণ শ্রমিকের কাজ শুরু করে ফরিদ।

গত ১৭ মে (শুক্রবার) বিকেলে পৌর শহরের আফ্রাতপাড়া মহল্লায় নির্মানাধীন বাড়ির সামনে নতুন সেপটিক ট্যাংক পরিস্কার করতে গিয়ে মারা যান ফরিদ হোসেন। এ ঘটনায় আহত হয় ঈসা আহমেদ নামে অপর এক নির্মাণ শ্রমিক।

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
khojkhobor.net-এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

আইটি সাপোর্ট ও ম্যানেজমেন্টঃ Creators IT Bangladesh