ঈশ্বরদীর শান্তিনগর সেতু : ২৩ মাসেও শেষ হয়নি ১১ মাসের কাজ

সোমবার, ২৬ আগস্ট ২০১৯ | ১১:৫৭ পূর্বাহ্ণ | 315 বার

ঈশ্বরদীর শান্তিনগর সেতু : ২৩ মাসেও শেষ হয়নি ১১ মাসের কাজ
ঈশ্বরদীর শান্তিনগর সেতু
Advertisements

পাবনার ঈশ্বরদীর প্রত্যন্ত চরাঞ্চল লক্ষীকুন্ডার চরকুড়লিয়াবাসীর আজীবনের লালিত স্বপ্ন শান্তিনগর সেতুর কাজ ১১ মাসে শেষ করার কথা থাকলেও গত ২৩ মাসেও তা শেষ হয়নি। সেতুটির নির্মাণ কাজে ব্যয় ধরা হয়েছে ৫ কোটি টাকা।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রভাবশালী ঠিকাদার খেয়ালখুশি মতো কাজ করায় নির্মাণ কাজ বিলম্বিত হচ্ছে। কবে নাগাদ এই সেতুর কাজ শেষ হবে তা নিয়েও সংশয়ে এলাকাবাসী। তাই এবারও চলতি বর্ষা মৌসুমে নৌকা ও কলাগাছের ভেলা দিয়ে নদী পারাপার হতে হচ্ছে চরাঞ্চলের কয়েক হাজার মানুষকে।

শান্তিনগর পদ্মা শাখা নদীর উপর ২০১৮ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ এমপি পদ্মার শাখা নদীর উপর শান্তিনগর সেতুর নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্বাবধায়নে ৫ কোটি ৮ লাখ ৩০ হাজার ১১৮ টাকা ব্যয়ে ৯৬.২০ মিটার দৈর্ঘ্য এই সেতুর নির্মাণ কাজ টেন্ডারের মাধ্যমে পেয়েছেন নাটোরের মীর হাবিবুল আলম এন্ড মীর শরিফুল আলম জেবি নামে একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানের পক্ষে নির্মাণ কাজ করছেন পাবনা জেলা যুবলীগের সদ্য সাবেক সভাপতি শরীফ উদ্দিন প্রধানের ভাই ফিরোজ প্রধান।

উদ্বোধনের পর মাত্র ২০ থেকে ২৫ দিন সেতুর পাইলিং কাজ করার পর প্রায় একটানা দুই মাস সেতুর কাজ বন্ধ ছিল। ২০১৮ সালে ২৬ মে থেকে পুনরায় নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ঢিমে তালে কাজ করতে করতে পার হয়েছে ২৩ মাস তবে ঈদুল আযহার আগে থেকেই এখন পর্যন্ত কাজ বন্ধ রয়েছে। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান বলছে, শীঘ্রই কাজ শুরু হবে এবং এবার একটানা কাজ করে নির্মাণ কাজ শেষ করা হবে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী এই সেতুর নির্মাণ সময়কাল ২০১৭ সালের ২০ সেপ্টেম্বর থেকে ২০১৮ সালের ১ আগস্ট অথচ নির্মাণ কাজ শুরুই হয় নিদিষ্ট সময়ের চেয়ে ৫ মাস পর ২০১৮ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়। নির্মাণ কাজ শুরুর পর ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান আবারো দুই মাস কাজ বন্ধ করে রাখে। এরপর কখনও কাজ চলেছে কখনও বন্ধ থেকেছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্মাণ কাজ বিলম্বিত করায় নিদিষ্ট সময়ের মধ্যে এ সেতু নির্মাণ কাজ শেষ হয়নি।

এছাড়াও সেতুর পাশে বিকল্প কোন রাস্তা নির্মাণ না করায় শুস্ক মওসুমে এই অঞ্চলের মানুষের চলাচলে ভোগান্তির সৃষ্টি হয়। আশপাশের ফসলি জমির উপর দিয়ে মানুষ যাতায়াত করছে। আর বর্ষাকালে নৌকা ও ভেলা দিয়ে নদী পারাপার হতে হয়।

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অনেকেই অভিযোগ করে বলেন, ঠিকাদাররা অত্যন্ত প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ তাদের কিছু বলার সাহস পায় না। নির্মাণ কাজের বালি নিয়ে একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করলেও ঠিকাদাররা কোন কর্ণপাত করেননি।

চরকুড়লিয়া এলাকার বাসিন্দা প্রধান শিক্ষক সেলিম রেজা বলেন, চরকুড়লিয়া শান্তিনগর বাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্নের এ সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হলেও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজে বিলম্বিত করায় এলাকাবাসী হতাশ। চরাঞ্চলের শত শত একর কৃষি জমির ফসল এই পথে কৃষকরা নেওয়া আসা করে। বর্ষাকালে নৌকা দিয়ে কৃষকদের পার হতে হয়। বছরের অন্যান্য সময় এ স্থানে সড়ক না থাকায় চলাচলে দূর্ভোগ পোহাতে হয়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য হাবিবুর রহমান জানান, সেতু নির্মাণ কাজটি নিদিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ হলে এলাকাবাসী উপকৃত হতো। কিন্তু ঢিলেঢালাভাবে কাজ হওয়ায় নিদিষ্ট সময়ে কাজ শেষ হয়নি।

ঠিকাদার ফিরোজ প্রধানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, প্রাকৃতিক দূর্যোগের কারণে সময়মতো কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি।

ঈশ্বরদী উপজেলা প্রকৌশলী এনামুল কবির জানান, এ সেতুর ৮০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। ঠিকাদারকে সময়মতো বিল পরিশোধ করা সম্ভব হয়নি বলে কাজে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। আশাকরি ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই এই সেতুর কাজ শেষ করে জনসাধারণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া সম্ভব হবে।

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  
khojkhobor.net-এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

আইটি সাপোর্ট ও ম্যানেজমেন্টঃ Creators IT Bangladesh