‘ইস্কুলে গেলি সংসার চালাবি কিডা’

রবিবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮ | ১০:৫১ পূর্বাহ্ণ | 447 বার

‘ইস্কুলে গেলি সংসার চালাবি কিডা’
চাটমোহর শাহী মসজিদ মোড় এলাকার একটি হোটেলে কাজ করছে শিশু গৌর চন্দ্র দাস
Advertisements

আট বছর বয়সী গৌর চন্দ্র দাস। সমবয়সী শিশুরা যখন স্কুল ড্রেস পড়ে বইয়ের ব্যাগ কাঁধে নিয়ে স্কুলে যায় তখন গৌরকে টেবিলে টেবিলে খাবার দিতে হয়। পরিস্কার করতে হয় প্লেট-গ্লাস। চায়ের কাপ নিয়ে দৌঁড়াতে হয় দোকানে দোকানে!

যে বয়সে তার স্কুলে গিয়ে পড়াশোনা করার কথা সেই বয়সে ‘হোটেল বয়’ গৌর!  দিনভর হাড় ভাঙ্গা খাটুনির সঙ্গে হোটেল মালিক তিন বেলা খাবারের সঙ্গে দেন সপ্তাহে ১৫০ টাকা! এভাবেই গত চার মাস ধরে হোটেলে কাজ করছে শিশু গৌর।

পাবনার চাটমোহর পৌর শহরের কাজীপাড়া মহল্লার অলোকা রানী দাসের ছোট ছেলে গৌর। বাবা নির্মল চন্দ্র দাস মারা গেছেন অনেক আগেই। তাদের পূর্বে বাড়ি ছিল নাটোরের লালপুর উপজেলার বিলমারি গ্রামে। ভিটেমাটি না থাকায় অলোকা রানী দাস বড় ছেলে মিলন ও ছোট ছেলে গৌরকে নিয়ে চলে আসেন চাটমোহরে এক নিকট আত্মীয়ের বাড়িতে।

পরে কাজীপাড়া মহল্লায় প্রতিমাসে ৮শ’ টাকা ভাড়ায় জনৈক ছাত্তার নামের এক ব্যক্তির বাড়ির একটি কক্ষ ভাড়া নেন। তিনি পাড়ায় একটি বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করে মাস শেষে বেতন পান ২ হাজার টাকা। বড় ছেলে মিলন এক ব্যবসায়ীর দোকানে থেকে মাস শেষে বেতন পায় দেড় হাজার টাকা। অভাব অনটনের মধ্যেই বেড়ে ওঠে গৌর।

গত চার মাস আগে অনেকটা বাধ্য হয়ে শাহী মসজিদ মোড় এলাকায় রেজাউল করিম হোটেলে কাজে রেখেছেন মা অলোকা রানী দাস। শিশু গৌর এখন পুরোদস্তুর ‘হোটেল বয়’। স্কুলে যাওয়ার বয়সে ঝড়ে পড়েছে শিশুটি।

বয়স অনেক কম হলেও বাবা হারানোর বেদনা; অভাবের সাথে যুদ্ধ করা সব কিছুই বোঝে গৌর। তবুও হাসি মুখে হোটেল বয়ের কাজ করে চলেছে শিশুটি। কারণ সপ্তাহ শেষে তার উপার্জিত টাকায় কখনও কখনও সংসারের বাজার খরচ হয়।

কাজের ফাঁকে কথা হয় গৌরের সঙ্গে। স্কুলে যেতে ও পড়াশোনা করতে ইচ্ছা হয় কিনা এমন কথা জিজ্ঞেস করতেই সে এই প্রতিবেদককে বলে, ‘ইচ্ছা তো হয়, কিন্তু ইস্কুলে গেলি পারে সংসার চালাবি কিডা?’ এতো অল্প টাকায় তুমি কিভাবে সংসার চালাও প্রশ্ন করতেই গৌরের উত্তর ছিল এমন-‘এখন কাজ শিখতিছি। বড় হল্যি পারে বেতনও বাড়বি। তখন আর অভাব থাকপি লয়।’

অলোকা রানী দাস বলেন, ‘অল্প বয়সে স্বামীকে হারিয়েছি। তিনি মারা যাওয়ার পর অনেক কষ্টে দুই ছেলেকে মানুষ করেছি। ইচ্ছা ছিল তাদেরকে পড়াশোনা শিখাবো। কিন্তু আমার সব আশা শেষ। বড় ছেলে ও আমার আয় দিয়ে সংসার চলে না। সময়মতো ছোট ছেলের (গৌর) টাকায় বাজার খরচ হয়। আমি নিরুপায় হয়ে তাকে (গৌর) কাজে দিয়েছি!’

গৌর ও তার পরিবারের বিষয়ে পৌর শহরের ৪ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রাজ আলী বলেন, ‘পরিবারটি খুব অসহায়। এরআগে সামর্থ্য অনুযায়ী আমি সহযোগিতা করেছি। এছাড়া গৌরকে স্কুলে ভর্তি করে দেওয়ার কথা তার মাকে বারবার বলেছি।’

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সরকার অসীম কুমার বলেন, ‘শিশুশ্রম দন্ডনীয় অপরাধ। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে ওই শিশুকে স্কুলে ভর্তি ও তার পরিবারকে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে।’

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  
khojkhobor.net-এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

আইটি সাপোর্ট ও ম্যানেজমেন্টঃ Creators IT Bangladesh