কথা রাখলেন ইউএনও

ইউএনওর গাড়ি চড়ে স্কুলে গেল গৌর

শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০১৯ | ১২:০৮ পূর্বাহ্ণ | 1085 বার

ইউএনওর গাড়ি চড়ে স্কুলে গেল গৌর
ভর্তির পর গৌরের হাতে বই তুলে দিচ্ছেন ইউএনও সরকার অসীম কুমার
Advertisements

বৃহস্পতিবার ঘড়ির কাঁটায় ঠিক সকাল সাড়ে ৯টা। চাটমোহর পৌর শহরের প্রাণকেন্দ্র জিরোপয়েন্ট এলাকায় চাটমোহর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গেটে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সরকার অসীম কুমারের গাড়িটি থামল। গাড়ি থেকে তিনি নামার একটু পরেই নেমে এলেন আটপৌড়ে শাড়ি পড়া গৃহকর্মী কাজীপাড়া মহল্লার অলোকা রানী দাস।

সঙ্গে তার ছেলে এক সময়ের ‘হোটেল বয়’ গৌর চন্দ্র দাস। সোজাসুজি চলে গেলেন প্রধান শিক্ষকের কক্ষে। বছর সাতেক গৌরকে সেই স্কুলে প্রথম শ্রেণীতে ভর্তি করে দিলেন ইউএনও। এরপর হাত ধরে নিয়ে গেলেন শ্রেণী কক্ষে। বসিয়ে দিলেন বেঞ্চে।

নতুন সহপাঠী পেয়ে এবং স্কুলে ভর্তি হতে পেরে ছোট্ট গৌর তখন মহাখুশি। যেন আনন্দে আত্মহারা। তবে উপস্থিত সবার চোখ ছিল অশ্রুসজল। তবে এ অশ্রু বেদনার নয়, এ অশ্রু ছিল আনন্দের।  এ সময়  স্কুলের পক্ষ থেকে গৌরের হাতে তুলে দেয়া হয় নতুন বই, খাতা ও কলম। এরপর দেয়া হবে নতুন ড্রেস।

এছাড়া উপজেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরে অলোকা রানী দাসকে সেলাই প্রশিক্ষণের জন্য ভর্তি করেন ইউএনও। পরবর্তীতে তাকে একটি সেলাই মেশিন উপহার ও তাদের জন্য বসতঘর নির্মাণ করে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। এছাড়া উপজেলা শিক্ষা অফিসার ব্যক্তিগতভাবে গৌরের পরিবারকে আর্থিক অনুদান দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা শিক্ষা অফিসার আশরাফুল আলম, সহকারি শিক্ষা অফিসার কামরুল ইসলাম, প্রধান শিক্ষক আবদুল আজিজ, সহকারী শিক্ষক তাসলিমা খাতুনসহ অন্যান্য শিক্ষক মন্ডলী।

এর আগে ‘ইস্কুলে গেলি সংসার চালাবি কিডা’-এমন শিরোনামে খোঁজ খবর ডট নেটে সচিত্র সংবাদ প্রকাশের পর হোটেল বয় গৌরের পরিবারের দায়িত্ব নেন ইউএনও সরকার অসীম কুমার।

এ সময় আবেগ তাড়িত কন্ঠে গৌরের মা বলেন, ‘ইচ্ছে ছিল দুই ছেলেকে পড়াশোনা শেখাবো। বড় হয়ে তারা বড় অফিসার হবে। কিন্তু স্বামী মারা যাওয়ায় আমার সব স্বপ্ন শেষ হয়ে যায়। কিন্তু ইউএনও স্যার আমাদের মতো অনাথের জন্য যা করলেন আমি কোন দিন ভুলবো না। এ ঋণ কোন দিন শোধ করতে পারবো না।’

ইউএনও সরকার অসীম কুমার জানান, ‘গৌরকে স্কুলে এবং তার মাকে সেলাই প্রশিক্ষণ কোর্সে ভর্তি করা হয়েছে। সেলাই প্রশিক্ষণ শেষে তাকে দেয়া হবে সেলাই মেশিন। গৌরের পরিবারের মতো আর যেন কোন পরিবার এমন করুণ পরিণতির শিকার না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। তবেই ক্ষুধা মুক্ত ও দারিদ্রমুক্ত বাংলাদেশ গড়া সম্ভব। তবে সবার আগে মানুষকে মানবিক হতে হবে। আমরা যে যার জায়গা থেকে এগিয়ে এলেই সেটা সম্ভব।’

উল্লেখ্য, সাত বছর বয়সী গৌর চন্দ্র দাসের বাবা নির্মল চন্দ্র দাস মারা যাওয়ার পর সংসারে জেঁকে বসে অভাব। দিশেহারা মা অলোকা রানী দাস বাধ্য হয়ে গৃহকর্মীর কাজ নেন। বড় ছেলে মিলনকে স্থানীয় এক ব্যবসায়ীর দোকানে এবং গৌরকে শাহী মসজিদ মোড়ের একটি হোটেলে কাজে রাখেন।

সমবয়সী শিশুরা যখন স্কুলে যায় তখন গৌরকে টেবিলে টেবিলে খাবার দিতে হতো। চায়ের কাপ নিয়ে দৌঁড়াতে হতো দোকানে দোকানে! দিনভর হাড় ভাঙা খাটুনির পর হোটেল মালিক তিনবেলা খাবারের সঙ্গে সপ্তাহে দিতেন ১৫০ টাকা! অভাবের তাড়নায় এভাবেই শিশু গৌর হয়েছিল ‘হোটেল বয়’।

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  
khojkhobor.net-এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

আইটি সাপোর্ট ও ম্যানেজমেন্টঃ Creators IT Bangladesh