আজ ‘বড়াল নদী কনভেনশন’

অস্তিত্ব হারাতে বসেছে বড়াল নদী

শনিবার, ০৪ মে ২০১৯ | ৯:৩৮ পূর্বাহ্ণ | 348 বার

অস্তিত্ব হারাতে বসেছে বড়াল নদী
Advertisements

গ্রীষ্মের মাঝামাঝিতে দেশের বেশিরভাগ নদ-নদী যখন পানিতে ভরপুর ঠিক তখন পাবনার চাটমোহরের ওপর দিয়ে প্রবাহিত বড়াল নদী অস্তিত্ব হারাতে বসেছে। যত্রতত্র ক্রসবাঁধ নির্মাণ, দখল-দূষণ ও খনন না করায় এক সময়ের খরস্রোতা নদী ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। পানিশূন্যতার কারণে নদীর তলদেশ থেকে শুরু করে দুই পাড়ে হচ্ছে চাষাবাদ।

অথচ আশির দশকেও বড়াল নদী দিয়ে যাতায়াত করতো বড় বড় নৌকা। এই বড়াল নদীর পানি সেচকাজের জন্য সারাবছর ব্যবহার কৃষকরা। এছাড়া মৎস্যজীবি থেকে শুরু করে ব্যবসায়ীদের জীবন মানের উন্নয়ন ঘটেছিল। কিন্তু বতমানে যা অবস্থা তাতে বড়াল নামে যে একটি নদী ছিল সেটি বোঝাই দায়।

তবে বড়াল নদী উদ্ধারের লক্ষ্যে আজ শনিবার চাটমোহর উপজেলা পরিষদের অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে ‘বড়াল নদী কনভেনশন’। সেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান ড. এ কে এম মজিবুর রহমান হাওলাদার। সমাবেশে সভাপতিত্ব করবেন ত্বত্তাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও বাপা’র সহ-সভাপতি সুলতানা কামাল। উদ্বোধন করবেন রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার মো. নুর-উর-রহমান।

জানা গেছে, পদ্মার নদীর অন্যতম শাখা বড়াল নদী রাজশাহীর চারঘাট থেকে উৎপন্ন হয়ে চলনবিলের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত হয়ে মুশাখা, নারদ, নন্দকুজা, চিকনাইসহ বেশ কয়েকটি নদ-নদীর জন্ম দিয়ে সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ি হয়ে হুড়াসাগর নদীর সাথে যুক্ত হয়ে যমুনা নদীতে মিলিত হয়েছে। চলনবিল এলাকার মানুষের কাছে বড়াল নদীর গুরুত্ব অপরিসীম।

একসময় এই অঞ্চলের কৃষকরা সারা বছর বড়াল নদের পানি সেচের কাজে ব্যবহার করতো। এই নদীর দৈর্ঘ্য প্রায় ২২০ কিলোমিটার। বড়াল নদীর সাথে যুক্ত রয়েছেন চলনবিলের প্রায় পঞ্চাশ লাখ মানুষ। এই নদী ৪টি জেলা ও ৯টি উপজেলার মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। দেশের বৃহত্তম দু’টি নদী পদ্মা-যমুনা ও বৃহত্তর চলনবিলের মধ্যে প্রধান সংযোগ রক্ষাকারী নদী হচ্ছে বড়াল।

অথচ স্লুইসগেট, ক্রসবাঁধ, প্রভাবশীদের যথেচ্ছা দখল ও দূষণের কারণে এখন ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে বড়াল নদী। তবে এই নদী চালু ও তা রক্ষার জন্য বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), বড়াল রক্ষা আন্দোলন, চলনবিল রক্ষা আন্দোলনসহ বিভিন্ন সংগঠন সেই ২০০৮ সাল থেকে আন্দোলন চালিয়ে আসলেও এখন পর্যন্ত বড়াল নদী সচল, প্রবাহমান, দখল ও দূষণ মুক্ত হয়নি। রাজশাহীর চারঘাটে পাউবো কর্তৃক স্লুইসগেট নির্মাণ করে বড়াল নদীকে ‘হত্যা’ করা হয় বলে অভিযোগ আন্দোলনকারীদের।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, চাটমোহরের জারদ্রিস মোড়, খেয়াঘাট, পুরাতর বাজার, রামনগর, হরিপুর, বড়াইগ্রাম উপজেলার বেশকিছু জায়গায় বড়াল নদীর জায়গা দখল করে প্রভাবশালীরা নির্মাণ করেছেন কাঁচা-পাকা অবৈধ স্থাপনা। বনপাড়া ও চাটমোহরের বেশ কিছু জায়গায় স্থানীয় প্রভাবশালীরা নদীর জায়গা দখল করে মাছ চাষ করছেন।

এছাড়া নদীর বুক জুড়ে আবাদ হচ্ছে বিভিন্ন ফসলের। শুধু তাই নয় হাসপাতাল ও বিভিন্ন ক্লিনিকের বর্জ্য ফেলা হচ্ছে বড়াল নদীতে। এছাড়া চাটমোহর মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমপ্লেক্স ভবন সংলগ্ন এলাকায় বড়াল নদীর পাড় দখল করে মাটি ফেলে রাস্তা তৈরি করেছে পৌর কর্তৃপক্ষ। পৌরসভার ড্রেন দিয়ে সরাসরি বর্জ্যে মিশে যাচ্ছে নদীর পানিতে।

যে কারণে বেড়েছে মশার উপদ্রব। স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা ময়লার ভাগাড়ে পরিণত করেছেন বড়াল নদীকে। নদীর তলদেশে জমাট বেঁধেছে পলিথিনের স্তর আর রকমারী বর্জ্য। শুধু তাই নয় বর্জ্যরে উৎকট গন্ধে জনজীবন দূর্বিষহ হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন নদীটি খনন না হওয়ায় নাব্যতা হারিয়েছে। ফলে একসময়ের প্রমত্তা বড়াল অস্তিত্ব হারাতে বসেছে।

বড়াল রক্ষা আন্দোলন কমিটির সদস্য সচিব এস এম মিজানুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, বড়াল নদীর প্রধান প্রতিবন্ধকতা চারঘাট ও আটঘরি স্লুইসগেট। বড়াল নদী চালু করতে হলে সবার আগে এই দু’টি স্লুইসগেট উচ্ছেদ করতে হবে। এছাড়া বনপাড়া এলাকায় দখলদারদের কবলে চলে নদীর বেশিরভাগ অংশ। দূষণ রোধ করে এবং দখলদারদের উচ্ছেদ করে নদী ড্রেজিং করা সবচেয়ে জ্বরুরী। তবেই চিরচেনা রুপে ফিরবে বড়াল নদী।

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  
khojkhobor.net-এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

আইটি সাপোর্ট ও ম্যানেজমেন্টঃ Creators IT Bangladesh