অর্থাভাবে থেমে যেতে বসেছে আমির হামজার জীবন!

বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০১৯ | ১০:০৯ পূর্বাহ্ণ | 1016 বার

অর্থাভাবে থেমে যেতে বসেছে আমির হামজার জীবন!

দুই বছর আগে মায়ের কোল আলো করে জন্ম নিয়েছিল শিশুটি। গরীব ঘরে জন্ম নেওয়ায় দিনমজুর বাবা-মা আদর করে ছেলের নাম রেখেছিলেন আমির হামজা। পাবনার চাটমোহর উপজেলার মথুরাপুর গ্রামের দিনমজুর রফিকুল ইসলাম ও সমেলা খাতুনের ছেলে আমির হামজা হার্টে ছিদ্র নিয়ে জন্ম নেয়। বয়স বাড়ার সাথে সাথে ক্রমেই অসুস্থ হয়ে পড়ছে শিশুটি।

সমবয়সী শিশুরা যখন খেলাধুলা-হইহুল্লোড় করে সেই সময় আমির মায়ের কোলে বসে অবাক দৃষ্টিতে চেয়ে থাকে। মুখ থেকে হারিয়ে গেছে হাসি। এদিকে অর্থাভাবে ছেলের চিকিৎসা করাতে পারছেন না অসহায় পরিবারটি। হাল ছেড়ে দিয়েছেন বাবা। কিন্তু হাল ছাড়েননি মা। ছেলের চিকিৎসার খরচ জোগাতে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন তিনি। মাত্র ৬০ হাজার টাকার জন্য অপারেশন হচ্ছে না আমির হামজার।

বুধবার (২৯মে) দুপুরে এই প্রতিবেদকের সাথে কথা হয় সমেলা খাতুনের। এসময় তিনি ছেলের শারীরিক অবস্থার বিবরণ দিতে গিয়ে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদে ওঠেন। তিনি জানান, বয়স বাড়ার সাথে সাথে উঁচু হয়ে যাচ্ছে আমির হামজার বুক। শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। সারাদিন ডুকরে ডুকরে কাঁদতে থাকে সে। কথা বলার শক্তিও নেই তার। বাড়ির পাশে সমবয়সী শিশুরা যখন ছোটাছুটি করে তখন আমির হামজার সময় কাটে মায়ের কোলে বসে।

জন্মের পর আমির হামজা অসুস্থ হলে স্থানীয় চিকিৎসক দিয়ে চিকিৎসা করান। সুস্থ না হওয়ায় ধারদেনা করে ছেলেকে নিয়ে যান ঢাকার শের-ই বাংলা নগরে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনে। সেখানে নানা পরীক্ষা-নীরিক্ষা করার পর হার্টে ছিদ্র ধরা পড়ে।

সেখানকার চিকিৎসক বলেছেন অপারেশন করালে শিশুটির রোগমুক্তির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এরজন্য প্রয়োজন প্রায় দেড় লাখ টাকা।  চিকিৎসকের এমন কথা শুনে দরিদ্র বাবা-মা চিকিৎসা না করিয়ে আমির হামজাকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনেন।

হাল ছেড়ে দেন বাবা রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সমেলা খাতুন ছেলেকে সুস্থ করতে জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে বিত্তবানদের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে থাকেন। কিন্তু পোড়া কপাল; কোন জায়গা থেকে মেলেনি সহযোগিতা!

অবশেষে স্থানীয় পত্র-পত্রিকায় ও বেশকিছু অনলাইন নিউজ পোর্টালে আমির হামজাকে নিউজ প্রকাশ হলে অনেকেই সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। অনেকের এগিয়ে আসায় আশার আলো দেখতে শুরু করেন শিশুটির মা সমেলা খাতুন।

জমতে থাকে আমিরের চিকিৎসার খরচ। কিন্তু সহযোগিতা আসা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় একটা সময় গিয়ে হতাশ হতে হয় তাকে।  মাত্র ৬০ হাজার টাকার জন্য ছেলের অপারেশন করাতে পারছেন না অসহায় পরিবারটি। এখন সামান্য টাকার জন্য অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে শিশুটির চিকিৎসা। থেমে যেতে বসেছে আমির হামজার জীবন!

সমাজের বিত্তবানদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে কান্নাজড়িত কন্ঠে সমেলা খাতুন বলেন,  ডাক্তার বলেছে অপারেশন করলে সুস্থ হবে। কিন্তু টাকা জোগাড় হচ্ছে না। আমার ছেলেকে বাঁচাতে চাই।  মা হয়ে আমি কি করে ছেলের মৃত্যুকে মেনে নেব? আপনারা আমার ছেলেকে বাঁচান।

অসহায় পরিবারটিকে সহযোগিতা করতে চাইলে এই নম্বরে যোগাযোগ করা যেতে পারে- সমেলা খাতুন- ০১৭৯৬-৩৮৩৫২৫ (বিকাশ)।

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  
khojkhobor.net-এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

আইটি সাপোর্ট ও ম্যানেজমেন্টঃ Creators IT Bangladesh

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্টঃ WebNewsDesign