সবার সহযোগিতায় বন্ধ হতে পারে তানিয়ার হার্টের ছিদ্র

বৃহস্পতিবার, ২৯ অগাস্ট ২০১৯ | ৮:৫৮ পিএম | 613 বার

সবার সহযোগিতায় বন্ধ হতে পারে তানিয়ার হার্টের ছিদ্র
এভাবে বিছানায় দিন কাটছে তানিয়া’র
Advertisements
Share Button

বাবা মারা গেছেন প্রায় চার বছর হলো। অভাবের সংসারে বাবার শুন্যতা কখনও বুঝতে দেননি গৃহকর্মী মা। দুই ভাই বোনের মধ্যে ছোট তানিয়া খাতুন (১৪) ছাত্রী হিসেবে ভীষণ মেধাবী। তার স্বপ্ন লেখাপড়া করে অভাবী সংসারে হাসি ফোটাবে মায়ের মুখে। কিন্তু সেই স্বপ্ন ফিকে হয়েছে শিশু তানিয়া’র। হার্টের ছিদ্র কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে মেয়েটিকে। সুস্থ্য হওয়ার আশায় তার দিন যেন আর ফুরোয় না। চিকিৎসকরা বলছেন, তানিয়াকে বাঁচাতে দ্রুত অপারেশন করা দরকার। এজন্য প্রয়োজন দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা। সমাজের বিত্তবানরা এগিয়ে এলে বেঁচে যেতে পারে তানিয়া। সেইসাথে বাঁচবে তার স্বপ্ন। আপনার ভালবাসায় বন্ধ হতে পারে তানিয়ার হার্টের ছিদ্র।

পাবনার চাটমোহর উপজেলার মূলগ্রাম ইউনিয়নের কুবিরদিয়ার গ্রামের মৃত ফরিদ হোসেন ও গৃহকর্মী ফেলি খাতুনের মেয়ে তানিয়া খাতুন। সে কুবিরদিয়ার এ মকে আর আহাম্মাদীয়া দাখিল মাদ্রাসার ৮ম শেণির ছাত্রী। অসুস্থতার কারনে পড়াশুনার জন্য মাদ্রাসায় যাওয়া বন্ধ রয়েছে প্রায় চার মাস। কয়েকমাস আগেও মেয়েটি পাড়া প্রতিবেশী সবার সাথে হাসি ঠাট্টায় মেতে থাকতো। যেখানে অন্য শিশুরা পড়াশুনার জন্য মাদ্রাসায় যায়, সে সময়ে রোগ যন্ত্রণায় হাসপাতালের বিছানায় মৃত্যুর প্রহর গুনছে তানিয়া।

তিন মাস আগে প্রচন্ড জ্বর থেকে শুরু তানিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটতে থাকে। একটু হাঁটাচলা করলেই হাঁপিয়ে উঠতো সে। অনেক চিকিৎসার পরেও তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হলে সর্বশেষ ঢাকায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করাতে গিয়ে ডাক্তারী পরীক্ষা নিরীক্ষায় তানিয়ার হার্টের ছিদ্র ধরা পড়ে। এরপর ভর্তি করা হয় ঢাকার শেরে বাংলা নগর জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট হাসপাতালে। চিকিৎসকদের পরামর্শ, যত দ্রæত সম্ভব তার হার্টের অপারেশন করাতে হবে। আর অপারেশনে প্রয়োজন দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা।

কিন্তু অন্যের বাড়িতে কাজ করে সংসার চালানো মা ফেলি খানুতের পক্ষে মেয়ের অপারেশনের এতো টাকা যোগাড় করা সম্ভব হচ্ছে না। মেয়েকে বাঁচাতে কোথায় পাবেন অপারেশনের টাকা-এই চিন্তায় দিশেহারা তিনি। গত সপ্তাহে মেয়ের বাড়ি ফেরার ইচ্ছায় হাসপাতাল ছেড়ে গ্রামের বাড়িতে এসেছেন তারা। বাড়িতে এসে শিশু তানিয়ার অবস্থা আরো অবনতি হয়েছে। শরীর, মুখ চোখ ফুলে গিয়ে প্রচন্ড যন্ত্রণায় সারাদিন বিছানায় শুয়ে কাতরাচ্ছে সে। মা ফেলি খাতুন ও ভাবী সালমা বেগম তানিয়ার চিকিৎসার জন্য অর্থ সংগ্রহ করতে সারাদিন মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। তানিয়ার মা ঢাকায় একটি বাসা বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করতেন। মেয়ের পাশে সবসময় থাকার কারনে সে কাজটিও হারিয়েছেন তিনি।

তানিয়ার মা জানান, ছোট বেলা থেকেই আমার মেয়েটি একটু হাঁটা চলাফেরা করলেই হাঁপিয়ে যেতো। মাঝে মধ্যেই সে দ্রুত শ্বাস প্রশ্বাস নিতো। চার মাস আগে প্রচন্ড জ্বর থেকে প্রচন্ড অসুস্থ্য হয়ে পড়ে তানিয়া। সর্বশেষ ঢাকায় জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট হাসপাতালে ভর্তি ছিল। ডাক্তার বলেছে মেয়ের হার্টের ছিদ্র হয়েছে। দ্রুত অপারেশন প্রয়োজন। এর জন্য টাকা লাগবে প্রায় আড়াই লাখ।

কান্নাজড়িত কন্ঠে ফেলি খাতুন জানান, এতো টাকা আমি কোথায় পাবো। মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছি। যেটুকু সাহায্য সহযোগীতা পাচ্ছি তা খুবই সামান্য। ডাক্তার জানিয়েছে, এখন তানিয়ার শরীরে ৩/৪ ব্যাগ রক্ত দিতে হবে। সে রক্তও যোগাড় করতে পারছি না। চোখের সামনে আমার মেয়েটি মৃত্যুর দিকে চলে যাচ্ছে আর আমি মা হয়ে তার জন্য কিছুই করতে পারছি না। চিকিৎসার খরচ যোগাতে তাই সমাজের বিত্তশালী ও মানবিক মানুষের সহায়তা চেয়েছেন শিশুটির পরিবার।

তানিয়ার চিকিৎসার জন্য সহযোগিতা করতে চাইলে তানিয়ার মা বেলী খাতুনের সাথে যোগাযোগ করে সাহায্যের হাত বাড়াতে পারেন। হয়তো আপনার একটু ভালবাসা, একটু সহায়তায় বন্ধ হতে পারে তানিয়ার হার্টের ছিদ্র।

যোগাযোগের ঠিকানা : বেলী খাতুন, মোবাইল : ০১৩১০-৯৭১৩৭৩-৬ (ডাচ বাংলা রকেট, পার্সোনাল)।

Share Button

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯  
খোঁজখবর.নেট এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Development by: webnewsdesign.com

error: Content is protected !!