টাঙ্গাইলে সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত

ভবিষ্যৎ ভাবনায় দিশেহারা নিহত চাটমোহরের ৩ শ্রমিকের স্বজনরা

সোমবার, ২৯ জুন ২০২০ | ১১:৩৪ অপরাহ্ণ | 443 বার

ভবিষ্যৎ ভাবনায় দিশেহারা নিহত চাটমোহরের ৩ শ্রমিকের স্বজনরা
Advertisements

অভাবের সংসারে দিনমজুরির কাজ করে সংসারের হাল ধরেছিলেন তিন বন্ধু করিম রানা-সোহেল রানা ও শাকিরুল মোল্লা। কর্মযুদ্ধে যে কোনো সিদ্ধান্ত তারা একসঙ্গে নিতেন। পাবনার চাটমোহর উপজেলার পার্শ্বডাঙ্গা এলাকার এই তিন বন্ধু বিপাকে পড়েছিলেন করোনা পরিস্থিতির কারণে। এলাকায় দিনমজুরি করে যে টাকা আয় করতেন সেই টাকায় চলতো না সংসার। তাই বেশি টাকা উপার্জনের আশায় চট্টগ্রামে পাড়ি জমান দিন দশেক আগে। কিন্তু সেখানেও কাজকর্ম না মেলায় বাড়ি ফেরার সময় শনিবার(২৭ জুন) রাত একটার দিকে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের পোস্টকামুরী চরপাড়া এলাকায় সড়ক দূর্ঘটনায় প্রাণ হারান এই তিন বন্ধু।

এমন করুণ মৃত্যুতে ওই তিন বন্ধুর পরিবারসহ পুরো এলাকা জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারে চলছে শোকের মাতম। তবে সোমবার (২৯ জুন) বিকেল পর্যন্ত লাশ দাফনের জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো সহযোগিতা মেলেনি ওই পরিবারগুলোর। ধারদেনা করে মরদেহ আনার গাড়ি ভাড়া দিয়েছেন শোকাহত পরিবারের সদস্যরা। ভবিষ্যৎ ভাবনায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্বজনরা।

সোমবার সকালে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, পার্শ্বডাঙ্গা মসজিদপাড়া গ্রামের আবদুর রাজ্জাকের ছেলে করিম রানা’র মৃত্যুতে শোকে পাথর হয়ে গেছেন মা কণা খাতুন। পাশে বসে বিলাপ করছেন বোন রাশিদা খাতুন। প্রতিবেশীদের কোনো সান্তনাতেই থামছেন না তারা। দিনমজুরির করে সংসার চালাতেন তিনি। সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তির মৃত্যুতে বিলাপ করছেন পরিবারের সবাই। অন্যদিকে একই এলাকার কেষ্টপুর গ্রামের নবীর উদ্দিনের ছেলে সোহেল রানার বাড়িতেও একই অবস্থা। স্বামীর শোকে বারবার জ্ঞান হারাচ্ছেন স্ত্রী মনিরা খাতুন। অসুস্থ হয়ে পড়েছেন মা নবীনা খাতুন। সোহেল রানার ছোট ছেলে মাসুম লোকজনের ভিড়ে খুঁজছে বাবাকে।

অপরদিকে বনগ্রাম এলাকার অপর বন্ধু হাবিবুর মোল্লার ছেলে শাকিরুল মোল্লার বাড়িতেও একই অবস্থা। বছর খানেক আগে বিয়ে হওয়া স্ত্রী সুমি খাতুন কথা বলতে পারছেন না স্বামীর মৃত্যু শোকে। বারে বারে বিয়ের স্মৃতির কথা বলছেন তিনি। আর মা শাকেরা খাতুন জ্ঞান হারাচ্ছেন। একমাত্র ছেলের এমন করুণ মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না তিনি। আর অসুস্থ বাবাকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। বোন হাসিনা খাতুনও ভাইয়ের মৃত্যু শোকে পাথর হয়ে গেছেন।

শুধু মৃত্যুর শোকই নয়, সংসারের আগামী দিনগুলো কিভাবে কাটবে তাদের নিয়ে যেন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্বজনরা। কেউবা স্বামী আবার কেউবা সন্তানকে হারিয়ে দু’চোখে দেখছেন অন্ধকার। কিভাবে কাটবে সেই অন্ধকার, কেইবা দেবে আলোর সন্ধান তা ভেবে পাচ্ছেন না তারা।

জানা যায়, চট্টগ্রামে করোনা পরিস্থিতির কারণে কাজকর্ম না মেলায় শনিবার (২৭ জুন) রাতে বাড়ি ফিরে আসছিলেন তারা। ফেরার পথে চট্টগ্রাম থেকে তারা প্রথমে ঢাকায় আসে। বাসে এলে অনেক টাকা লাগবে এই চিন্তা থেকে শুধু মাত্র টাকা বাঁচাতে প্লেনশিট ভর্তি ট্রাকে চেপে বাড়ির উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। ক্লান্ত শরীরে ট্রাকে রাখা প্লেনশিটের ওপর ঘুমিয়ে পড়ের তারা। এরমধ্যে ট্রাকটিা চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আইল্যান্ডের উপর উঠিয়ে দেয়। এ সময় প্লেনশিটের রশির বাঁধন ছিঁড়ে ট্রাকের মধ্যে ঘুমিয়ে থাকা তিনজনের গায়ের ওপর পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয় তাদের।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরকার মোহাম্মদ রায়হান বলেন, সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত তিন শ্রমিকের মৃত্যুর বিষয়টি শুনেছি। সরকারি সহযোগিতার জন্য স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের মাধ্যমে প্রত্যেক পরিবার থেকে আবেদন করতে বলা হয়েছে বলে জানান তিনি।

মন্তব্য করতে পারেন...

comments

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
khojkhobor.net-এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Development by: webnewsdesign.com

error: Content is protected !!